কলকাতায় হয়ে গেল ‘ফুড হ্যাকাথন’ | বিশ্ব | DW | 12.04.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

কলকাতায় হয়ে গেল ‘ফুড হ্যাকাথন’

কলকাতার জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গ্যোয়েটে ইন্সটিটিউটে সদ্য হয়ে গেল তিন দিনের এক ‘ফুড হ্যাকাথন’, যেখানে প্রযুক্তি হাত ধরল সামাজিক দায়বদ্ধতার৷

খুব সহজেই যেটা হতে পারত খেলার ছলে তৈরি করা কিছু কম্পিউটার প্রোগ্রাম এবং ওয়েবসাইট, সেটাই হয়ে গেল সামাজিক সচেতনতা এবং দায়িত্ববোধের নিদর্শন৷ কলকাতার জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গোয়েটে ইন্সটিটিউটের উদ্যোগে তিনদিনের এই কর্মশালার নাম দেওয়া হয়েছিল Vernetzte Welten - Food hacking, অর্থাৎ নেটওয়ার্কে সংযুক্ত পৃথিবী, যেখানে প্রযুক্তি কাজে লাগানো হবে খাবারের ক্ষেত্রে৷ সেটা রান্নার কৌশল ধারণের জন্যেও হতে পারে, আবার হতে পারে খাদ্য সমস্যার নানা দিক চিহ্নিত করে, তার সমাধানের চেষ্টার মধ্যে৷ পাঁচজন করে প্রতিযোগীর এক একটি দল অংশ নিয়েছিল তিনদিনের এই ফুড হ্যাকাথনে৷ শ্রীলঙ্কার কলম্বো, নতুন দিল্লি এবং কলকাতা - এই তিন শহরে৷ স্থানীয় গ্যোয়েটে ইন্সটিটিউটের মাধ্যমে স্কুলপড়ুয়া অংশগ্রহণকারীদের বেছে নেওয়া হয়েছিল তিনটি শহর থেকেই৷ তাদের সঙ্গে ছিল জার্মানির বিভিন্ন শহরের স্কুল থেকে আসা পাঁচজন ছাত্র-ছাত্রী৷

জার্মানির গ্যোয়টিঙেন শহর থেকে যেমন এসেছিল জিমিয়ন কেসকার৷ সে জানাল এক রন্ধন প্রযুক্তির কথা, যা মানুষের মতই ভাবনা-চিন্তা করে রান্না করতে পারবে৷ এই ‘‌রেসিপি জেনারেটর'‌ই ছিল কলকাতায় ওদের দলের প্রকল্প, এই ফুড হ্যাকাথনে৷ ব্যাপারটা শুনতে যতটা সহজ মনে হচ্ছে, ততটা যদিও নয়৷ কারণ আদতে মানব মস্তিষ্ক যেভাবে ভাবে, সেটাকেই নকল করার চেষ্টা করেছে জিমিয়নদের তৈরি রেসিপি জেনারেটর৷ কিন্তু কীভাবে সেটা সম্ভব?‌ যে-কোনো যন্ত্র-মস্তিষ্কের মতোই ওদের এই প্রোগ্রামকেও ছোট বাচ্চাকে শেখানোর মতো প্রথমে বিভিন্ন রান্নার কলা-কৌশল শেখাতে হয়েছে৷ সেই তথ্য রক্ষিত হয়েছে যন্ত্র-মস্তিষ্কে৷ এভাবেই একটু একটু করে নানা দেশের নানা ধরনের রান্না শেখানো হবে তাকে৷ তারপর সব শেখা হয়ে গেলে, যে-কোনো সময় যে-কোনো রান্না নিখুঁতভাবে রেঁধে ফেলতে পারবে৷

Indien Kolkata Hackathon

জার্মানির শিক্ষার্থী জিমিয়ন কেসকার

কলকাতার একটি দলের সদস্য যুক্তা রাজ অবাঙালি, কিন্তু কলকাতার মেয়ে হওয়ার সুবাদে বাংলা বলার চেষ্টা করল ডয়চে ভেলের সঙ্গে৷ যুক্তা জানাল, ‘‌ইয়ুগেন্ড হ্যাক্‌ড একটা জার্মান কোডিং সংস্থা৷ ওদের মূলমন্ত্র, এক উন্নততর বিশ্বের জন্য কোডিং তৈরি করা৷ আমরা খাবার এবং কোডিং মিলিয়ে কিছু বানাতে চেয়েছিলাম৷ তিনদিন আগেও আমরা জানতাম না, এটা একসঙ্গে কী করে হবে৷ কিন্তু ওরা বলল, আমাদের সমাজে, ভারতে যে খাদ্য সমস্যা আছে, ওটার সমাধানে আমরা হ্যাকিং আর কোডিংকে কাজে লাগাব, যাতে খাদ্য সমস্যার একটা ভাল সমাধান পাব৷''

যুক্তাদের দল শুরু করেছিল একসঙ্গে রান্না করার মধ্যে দিয়ে, যাতে নিজেদের মধ্যে প্রথমে একটা বন্ধুত্ব, সংযোগ গড়ে ওঠে৷ তার পর শুরু হয় মূল প্রকল্পের কাজ৷ মাথা ঘামানো শুরু হয় সমস্যার চিহ্নিতকরণ এবং কীভাবে তার সমাধান সম্ভব, সেই নিয়ে৷ ওরা লক্ষ্য বেছে নিয়েছিল খাদ্য সংকট এবং খাবার নষ্ট হওয়ার সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার৷ উপযুক্ত হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের মেলবন্ধনে এমন এক যন্ত্র ওরা শেষপর্যন্ত বানিয়েছে, যাতে নিজের খাদ্যসামগ্রী নিজেই ফলানো যায়৷ এতে একদিকে যেমন ফলনের খরচ কমবে, তেমন অরগ্যানিক ফলন, অর্থাৎ রাসায়নিকের বিষমুক্ত প্রাকৃতিক ফসল ফলানো যাবে, যা বৃহত্তর স্বাস্থ্যরক্ষা সুনিশ্চিত করবে৷

অডিও শুনুন 03:01

‘আমরা খাবার এবং কোডিং মিলিয়ে কিছু বানাতে চেয়েছিলাম’

কলকাতার গ্যোয়েটে ইন্সটিটিউটের তিনদিনের এই ফুড হ্যাকাথনের এই দিকটিই সবথেকে বেশি নজরকাড়া, যে প্রযুক্তিকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, খাদ্যসমস্যা সমাধানের মতো বাস্তব ইস্যুগুলির সঙ্গে৷ কিছুটা খেলার ছলেই চিহ্নিত করা হয়েছে ভারতে ফসলের উপযুক্ত দাম না পাওয়ার কারণে ঋণভারে জর্জরিত কৃষকের আত্মহননের মতো গুরুতর বিষয়কেও৷ দিল্লির একটি দল বানিয়েছে এমন এক ওয়েবসাইট, যেখানে মাঝখানের ফড়ে বা দালালদের এড়িয়ে সরাসরি বাজারের সঙ্গে কৃষকের সংযোগ গড়ে তোলার সফটওয়্যার বানানো হয়েছে৷ যেহেতু অনেক কৃষকই নিরক্ষর, এই ওয়েবসাইটটিতে লেখার বদলে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে ছবি, যা সহজে বোঝা যায়৷ ছবির ওপর ক্লিক করে অনায়াসেই কৃষকেরা নিজের ফসলের ওজন, দাম ঠিক করে নিতে পারবেন৷ ফলে নিছকই প্রযুক্তির উৎকর্ষ নয়, মানবকল্যাণে তার ব্যবহারেরও রাস্তা দেখিয়েছে গোয়েটে ইন্সটিটিউটের এই ফুড হ্যাকাথন৷

এই কর্মসূচির আরও একটি বৃহত্তর উদ্দেশ্য বিশ্বজুড়ে উদ্ভাবন প্রতিভার বিকাশের এক সাধারণ প্রযুক্তিক্ষেত্র তৈরি করে দেওয়া নবীন প্রজন্মের জন্য, যা বিকাশমুখী প্রযুক্তি তৈরির সহায়ক হয়ে উঠবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন