কলকাতায় ‌বিশ্বকাপ উন্মাদনা | বিশ্ব | DW | 09.10.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

কলকাতায় ‌বিশ্বকাপ উন্মাদনা

ফিফার অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল বিশ্বকাপের আসর এবার বসেছে ভারতে৷ তার মধ্যে গ্রুপ লিগের বেশ কিছু ম্যাচ এবং ফাইনাল খেলাটি হবে কলকাতায়৷ ফুটবল উন্মাদনায় মেতেছে গোটা শহর৷

default

বিশ্বকাপকে ঘিরে কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামের সামনে সাজসজ্জা

ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, ‘‌নাথিং সাকসিড্‌স লাইক সাক্‌সেস'৷ সফল হওয়ার থেকে বড় সাফল্য আর কিছুতে নেই৷ ভারতের ক্রীড়াজগতের দিকে তাকালে কথাটার সারবত্তা প্রমাণিত হয়৷ ভারত ক্রিকেটে একাধিকবার বিশ্বসেরা হয়েছে৷ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলে চলেছে বহু বছর ধরে৷ ফলে ক্রিকেট নিয়ে ভারতে সাধারণ মানুষের উত্তেজনা, বিজ্ঞাপনদাতাদের উৎসাহ, বাণিজ্যিক পৃষ্ঠপোষকতা অন্য যে কোনও খেলার থেকে বেশি৷ ক্রিকেট ছাড়া আর যে খেলায় ভারতের অতীত গৌরব আছে, তা হল হকি৷ কিন্তু হকি নিয়ে যেহেতু বাকি বিশ্বে খুব একটা শোরগোল নেই, এই খেলা নিয়ে সাধারণের উৎসাহ, উত্তেজনাও ক্রিকেটের তুলনায় নেহাতই স্তিমিত৷ সেখানে ফুটবল নিয়ে আসমুদ্রহিমাচল ভারতের উদ্দীপনা প্রায় চোখেই পড়ে না৷ ব্যতিক্রম শুধু পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, গোয়ার মতো হাতে গোনা কয়েকটি রাজ্য৷ এই সব জায়গায় শুধু স্থানীয় ফুটবল নয়, আন্তর্জাতিক স্তরের লিগ এবং চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়েও যথেষ্ট ওয়াকিবহাল ফুটবলপ্রেমীরা৷

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ‌ফিফার ১৭ বছরের অনূর্ধ্ব খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপ ভারতে করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায়, ফুটবল নিয়ে বাকি ভারতের আগ্রহ কিছুটা হলেও বাড়বে, মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা৷ কারণ, সাধারণ পরিস্থিতিতে ভারত কোনওদিন বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাই পর্বই পেরোতে পারেনি৷ সেখানে আয়োজক দেশ হওয়ার সুবাদে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দল এবার যোগ্যতামান যাচাই ছাড়াই সরাসরি এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারছে৷ দেশের দর্শকরা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন, বিশ্বকাপ স্তরের ফুটবল খেলোয়াড়দের পাশে ভারতের খেলোয়াড়রা কতটা উজ্জ্বল, অথবা নিষ্প্রভ৷ কাজেই দেশীয় ফুটবল সম্পর্কে লোকের উৎসাহ যে কিছুটা হলেও বাড়বে, এই জুনিয়র বিশ্বকাপের সুবাদে, তা এখনই আন্দাজ করা যায়৷

অডিও শুনুন 03:04
এখন লাইভ
03:04 মিনিট

‘ভারতীয় ফুটবল নিয়ামক সংস্থার আরও পরিকল্পনা আছে’

কলকাতার কাশীনাথ ভট্টাচার্য ফিফা অনুমোদিত ক্রীড়া সাংবাদিক, বিশেষত ইউরোপিয়ান এবং ল্যাটিন আমেরিকান ফুটবলের অন্যতম বিশেষজ্ঞ৷ দিল্লি থেকে তিনি ডয়চে ভেলেকে জানালেন, আরও একটি পরিকল্পনা আছে ভারতীয় ফুটবল নিয়ামক সংস্থার৷ জুনিয়র বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলেও এই অনূর্ধ্ব-১৭ দলটি না ভেঙে রেখে দেওয়ার এবং অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় ফুটবল দলের সঙ্গে মিলিয়ে, দুই দল থেকেই সেরা খেলোয়াড়দের বেছে নিয়ে একটি দল তৈরি করার, যে দল ভারতের প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ ‘‌আই লিগ'‌-এ খেলবে৷ এখনকার যে পর্তুগিজ কোচ আছেন দলের, তাঁকেও রেখে দেওয়া হবে এবং অকারণ প্রীতি ম্যাচ খেলিয়ে খেলোয়াড়দের ধার নষ্ট না করে, তাদের টানা প্রতিযোগিতামূলক খেলার মধ্যে রাখা হবে, যাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের যোগ্যতা যাচাইয়ের পর্বে কিছুটা সাফল্যের আশা থাকে৷

এছাড়া, অনূর্ধ্ব-১৭ হলেও এই আন্তর্জাতিক দলগুলোর থেকেই পরবর্তীতে এক একটি দেশের জাতীয় ফুটবল দলের সদস্য বাছাই করা হবে৷ তাদের সঙ্গে খেলার এই সুযোগ ভবিষ্যৎ ভারতীয় দলের খেলোয়াড়দের ধার ও ভার যাচাই করার ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে৷ পাশাপাশি ফুটবল দর্শকরা পাবেন আগামী দিনের  বিশ্ব ফুটবল তারকাদেরদক্ষতা চাক্ষুস করার সুযোগ৷ তাঁরা আগাম জেনে যাবেন, ভবিষ্যতের নজর থাকবে কাদের দিকে৷ এই রবিবারই যেমন কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৭ দল দারুণ খেলে হারাল চিলির দলটিকে৷ ভাল খেলে, নিজে দুটি গোল করে ইংল্যান্ডকে জেতালেন জ্যাডেন স্যাঞ্চো৷ আর কদিন পরেই এই স্যাঞ্চো খেলবেন জার্মানির বোরুসিয়া ডর্টমুন্ড ক্লাবের হয়ে এবং তাঁর খেলা দেখে রবিবার কলকাতা একবাক্যে মেনেছে, পরের ফুটবল বিশ্বকাপে সারা দুনিয়ার নজর থাকবে এই স্যাঞ্চোর ওপর৷ এটাও ভারতীয় ফুটবল দর্শকদের এক বিরাট প্রাপ্তি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়