কলকাতায় ফের শিক্ষক নিগ্রহ | বিশ্ব | DW | 16.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

কলকাতায় ফের শিক্ষক নিগ্রহ

শিক্ষকের ঘরে ঢুকে নিগ্রহ করা হলো কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন সায়েন্স কলেজে৷ অভিযুক্ত ছাত্র শাসকদলের ছাত্র সংগঠন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা৷ ইতিমধ্যেই ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে৷

আগেও ছিল৷ তবে তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর দিকে দিকে শিক্ষকনিগ্রহের ঘটনা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে৷ সর্বশেষ ঘটনা রাজাবাজার সায়েন্স কলেজে৷ গত ৬ ফেব্রুয়ারি শতাব্দীপ্রাচীন সায়েন্স কলেজে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ভাস্কর দাসের ওপর গৌরব দত্ত নামে এক তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা চড়াও হয় বলে অভিযোগ৷ শিক্ষকের ঘরে ঢুকে অভিযুক্ত ছাত্র চড় থাপ্পর মারে বলে অভিযোগ৷ ঘটনার পর বিভিন্ন মহল থেকে ঘটনার নিন্দা এবং প্রতিবাদ করা হয়৷ অবিলম্বে ওই ছাত্রকে গ্রেফতার করার দাবিও ওঠে৷ যদিও পুলিশ ওই ছাত্রকে গ্রেফতার করেনি৷ পরে আদালতে আত্মসমর্পন করে ওই ছাত্র জামিন পেয়ে যান৷

স্বাভাবিকভাবেই ঘটনার প্রতিবাদ করে বিরোধীদল সিপিএম৷ সিপিএমের পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী ভাস্কর দাসের সঙ্গে গিয়ে দেখা করেন৷ ঘটনার প্রতিবাদে সিপিএমের শিক্ষক সংগঠনের রাজাবাজার সায়েন্স কলেজে একটি সভাও করার কথা৷ সেখানে ভাস্কর দাসকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে৷

এদিকে ঘটনার নিন্দা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও৷ যদিও তাঁর বক্তব্য, ‘‘শিক্ষকেরা গুরুজন৷ তাঁদের উপর চড়াও হওয়া সবসময়ই অন্যায়৷ কিন্তু শিক্ষকেরই বা রাজনৈতিক রং থাকবে কেন?'' সিপিএমের শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে ভাস্করবাবুর জড়িত থাকার বিষয়টিকেই চিহ্নিত করেছেন তিনি৷ তা শুনে রাজ্যের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদেরা বলছেন, বটেই তো! শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্কের মাঝে কখনোই রাজনীতির রং থাকা উচিত নয়৷ কিন্তু পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তির মুখে কি এ কথা সাজে?

বিশ্লেষকরা বলছেন, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাক্ষেত্র রাজনীতিমুক্ত তো হয়ইনি, বরং তার প্রকোপ আরো বেড়েছে৷ অথচ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার সময় বলেছিলেন, শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করা হবে৷ সিপিএমের সময় নিয়োগ থেকে ছাত্র সংসদ সর্বত্র যে শাসকদলের ছায়া পড়েছিল,তার তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন তিনি৷ কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তার কিছুই ঘটেনি৷ বরং উল্টোটাই ঘটেছে৷ নিন্দকেরা বলছেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায় যখন বলেন, কেন শিক্ষকের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক থাকবে, তখন তিনি ভুলে যান, শিক্ষকদের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হন তৃণমূলনেত্রী৷ শুধু তাই নয়, মঞ্চে হাজির থাকেন একাধিক তৃণমূলের নেতা৷ অর্থাৎ, শিক্ষকদের শাসকদলের অনুগত করার চেষ্টা জারি আছে৷ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গাত্রদাহ হচ্ছে, কারণ, আক্রান্ত শিক্ষক শাসকদলের সংগঠন করেন না৷ সে কারণেই সম্ভবত রাজনীতির প্রসঙ্গ তিনি তুলছেন৷

পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করার দাবি তুলেছেন একাধিক শিক্ষাবিদ৷ সাম্প্রতিক ঘটনার পর আবারো সরব হয়েছেন তাঁরা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন