‌কলকাতায় ধর্মান্তর নিয়ে ধুন্দুমার | বিশ্ব | DW | 15.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

কলকাতা

‌কলকাতায় ধর্মান্তর নিয়ে ধুন্দুমার

খাস শহর কলকাতায় প্রকাশ্য জনসভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে এক মুসলিম পরিবারের ১৪ জন সদস্যের ধর্মান্তরকরণ৷ তা নিয়ে ধুন্দুমার হলো৷ আক্রান্ত হলেন সাংবাদিকরাও৷

মধ্য কলকাতার রানী রাসমনি রোড, যেখানে কলকাতার অধিকাংশ মিটিং-মিছিল, অবস্থান হয়, সেখানে ‘‌হিন্দু সংহতি মঞ্চ’ সংগঠনের মঞ্চ৷ পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের আধিক্য এবং দাপট ঠেকাতে নাকি তৎপর কলকাতাভিত্তিক এই সংগঠন হিন্দু সংহতি৷ এদিন (১৪ ফেব্রুয়ারি) তাদের প্রতিষ্ঠা দিবস প্রতিবছরই দিনটি পালন করা হয়৷ এবারও প্রকাশ্য সভায় হিন্দুত্বের পক্ষে এবং অহিন্দুদের বিরুদ্ধে গরম গরম ভাষণ দিয়ে সেই উদযাপনই হচ্ছিল৷ একটা সময় মঞ্চে সার দিয়ে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হলো জনৈক হুসেন আলি ও তাঁর পরিবারের ১৩ জন সদস্যকে, যাদের মধ্যে কয়েকটি বাচ্চাও ছিল৷ ঘোষণা করা হলো, এই হুসেন আলি সপরিবার ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে হিন্দু হয়েছেন!‌ এরপর ওদের মঞ্চে দাঁড় করিয়ে রেখেই আরও কিছুক্ষণ চলল ভাষণ৷

Indien - Konvertierung von Muslimen zum Hinduismus in Kolkata

সাংবাদিকদের ঠেলে, ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়

কিন্তু কৌতুহলী হয়েছিলেন সভায় হাজির সাংবাদিকরা৷ যে কোনও কারণেই হোক, ওই হুসেন আলি, বা তাঁর পরিবারের লোকেদের আচরণ সংবাদ মাধ্যমের সন্ধানী নজরে সন্দেহজনক ঠেকেছিল৷ তাই অনুষ্ঠান শেষ হতেই কয়েকজন সংবাদকর্মী, যাঁরা স্থানীয় দু'টি টিভি চ্যানেলের সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা এগিয়ে যান হুসেন আলি ও তাঁর পরিবারের দিকে৷ জানতে চান, তাঁরা কোথা থেকে এসেছেন, পরিবারের বাকি সদস্যদের নাম কী, কেন তাঁরা হঠাৎ ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে হিন্দু হলেন, ইত্যাদি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন৷ কিন্তু তাতেই ক্ষেপে যান হিন্দু সংহতি মঞ্চের কর্মীরা৷ সাংবাদিকদের ঠেলে, ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়৷ শুরু হয় ধ্বস্তাধ্বস্তি৷ হাতে বাঁশের লাঠি, মাথায় ‘‌জয় হিন্দু'‌ ফেট্টি বাঁধা একদল লোক বেছে বেছে সাংবাদিকদের ওপর হামলা শুরু করে৷ এমনকি মহিলা সাংবাদিকরাও রেহাই পাননি৷ এই গন্ডগোল দেখে তৎপর হয় পুলিশ৷ গ্রেপ্তার করা হয় হিন্দু সংহতি মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তপন ঘোষ ও আরও ৩ নেতাকে৷ রাজ্যের বুদ্ধিজীবীরা নিন্দায় সরব হন৷ প্রশ্ন ওঠে, অন্য ধর্ম থেকে এভাবে কাউকে চাইলেই হিন্দু করা যায় কিনা?

অডিও শুনুন 01:16
এখন লাইভ
01:16 মিনিট

‘এভাবে চাইলেই কাউকে হিন্দু করা যায় না’

গোটা ঘটনার পর ব্যাকফুটে চলে গেছে হিন্দু সংহতি মঞ্চ৷ সংগঠনের বর্তমান সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য ডয়চে ভেলেকে বোঝাতে চাইলেন, মারদাঙ্গার ঘটনা যতটা প্রচার করা হচ্ছে, ততটা ঘটেনি৷ একটা কথা কাটাকাটি, অল্প ঠেলাঠেলি হয়েছিল বটে, কিন্তু বাঁশ দিয়ে মারার যে অভিযোগ উঠেছে, তা ঠিক নয়৷ তবে কী নিয়ে বচসা শুরু হলো, সেটা তিনি জানেন না, খোঁজ নিয়ে জানাবেন৷ আর যাঁর, বা যাঁদের ধর্মীয় পরিচিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিকরা, সেই হুসেন আলি, বা তাঁর পরিবার সম্পর্কেও নির্দিষ্ট কোনও তথ্য জানাতে পারলেন না তিনি৷ অবাঙালি টানে বাংলা বলা হুসেন আলির বাড়ি কোথায়, সেটাও হিন্দু সংহতি মঞ্চের জানা নেই৷ তবে একটা কথা নিজেই স্বীকার করলেন মঞ্চের সভাপতি যে, এভাবে চাইলেই কাউকে হিন্দু করা যায় না৷তাঁর দাবি, তাঁরা কারও ধর্মান্তর করেননি, হুসেন আলি নিজেই, আইনি প্রক্রিয়া মেনে ধর্ম বদল করেছেন৷ এবার যেহেতু অন্য ধর্ম থেকে আসা লোকজনকে হিন্দু ধর্মে সরাসরি গ্রহণ করা হয় না, ওদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে হিন্দু সংহতি মঞ্চ৷ তবে দেবতনু ভট্টাচার্যের কথার অস্বস্তির মধ্যেই পরিষ্কার ছিল, এই হাঙ্গামা আর অশান্তির নেতিবাচক প্রচার তাঁরা চাননি৷

২০১৫ সালের এই ছবিঘরটি দেখুন...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন