কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ঠেকাতে অস্ট্রেলিয়ায় নতুন উদ্যোগ | বিশ্ব | DW | 20.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অস্ট্রেলিয়া

কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ঠেকাতে অস্ট্রেলিয়ায় নতুন উদ্যোগ

কর্মক্ষেত্রে নারীর যৌন হয়রানি ঠেকাতে জাতীয় পর্যায়ের তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সরকার৷

এর মধ্য দিয়ে গত বছরের অক্টোবর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হওয়া কর্মক্ষেত্রে নারীর যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে ‘হ্যাশট্যাগ মি টু' ক্যাম্পেইনে সাড়া দিয়ে জাতীয়ভাবে উদ্যোগ নিলো প্রথম কোনো দেশ৷   

বুধবার অস্ট্রেলিয়ার হিউম্যান রাইটস কমিশন বলেছে, তারা একবছর ধরে এ তদন্ত করবে৷

অস্ট্রেলিয়ার নারী বিষয়ক মন্ত্রী কেলি ও'ডয়ের বলেন, ‘‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যৌন হয়রানির ঘটনা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর প্রভাব ফেলছে৷ আমাদের এ তদন্তের উদ্যোগ যৌন হয়রানি কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে৷ তাছাড়া যেখানে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে, সেখানে এটি সাবধানতা ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সমস্যা সমাধানে উৎসাহিত করবে৷''

অস্ট্রেলিয়া সরকারের এ তদন্ত প্রক্রিয়ার আওতায় কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি, প্রযুক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সেটির বিস্তার এবং আইনি কাঠামোর মধ্যে সেগুলোকে খাপ খাওয়ানোর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে৷ 

তদন্তের অংশ হিসেবে নিয়োগকর্তা ও জনসাধারণ কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতার কথা কমিশনকে বলতে পারবে এবং কমিশন কোনো নীতিমালা প্রস্তুতের আগেই যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কৌশল নিয়ে পরামর্শ দিতে পারবে৷   

অস্ট্রেলিয়ার লিঙ্গ বৈষম্য বিষয়ক কমিশনার কেট জেনকিনস বলেন, ‘‘গুরুত্বপূর্ণ হলো, এ তদন্ত প্রক্রিয়া অস্ট্রেলিয়ার নিয়োগকর্তা, কর্মচারী এবং সবর্স্তরের জনসাধারণের জন্য যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সবচেয়ে ভালো সমাধান খুঁজে বের করার একটি সুযোগ৷ এর মাধ্যমে সবার কাছেই কর্ম পরিবেশ আরও বেশি নিরাপদ এবং সম্মানের জায়গা হবে৷''

তিনি জানান, যে অভিযোগগুলো জমা হবে তার প্রত্যেকটি পুনর্মূল্যায়ন করা হবে৷

এ ধরনের তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হলে তারপ্রভাব অর্থনীতিতেও পড়বে বলে মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার নারীমন্ত্রী কেলি ও'ডয়ের৷

তিনি বলেন, ‘‘ব্যক্তি জীবনে এবং কর্মজীবনে যৌন হয়রানি বড় প্রভাব ফেলে বলেই আমরা জেনেছি৷ এর কারণে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতির পরিমাণ কম নয়, কেননা, এটি উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়, কর্মীরা কর্মস্থল পরিবর্তন করায় খরচ বাড়ে, তাঁদের অনুপস্থিতির হার বাড়ে, ক্ষতিপূরণ দাবি করে এবং দ্রুত অবসরে যায়৷'' 

২০১২ সালে চালানো অস্ট্রেলিয়া সরকারের এক জরিপ বলছে, দেশটিতে ১৫ বছরের ওপরের ২০ শতাংশ কিশোর বা তরুণ বয়সিরা যৌন হয়রানির শিকার হয়, যার ৬৮ শতাংশই কর্মক্ষেত্রে ঘটে৷

আগামী আগস্টে এ বিষয়ক নতুন জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হবে, যাতে যৌন হয়রানির হার আরও বৃদ্ধির ফল আসবে বলে আশঙ্কা করছেন লিঙ্গ বৈষম্য বিষয়ক কমিশনার জেনকিনস৷

বেশিরভাগ সময় যৌন হয়রানির বিষয়টি অপ্রকাশ্যই রয়ে যায়৷ ২০১৭ সালে চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং  মিরাম্যাক্স স্টুডিও এর কো-ফাউন্ডার হার্ভে উইনস্টেইন বিরুদ্ধে বেশ কয়েকজন খ্যাতিমান তারকা যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন৷ আর সেখান থেকেই ‘হ্যাশট্যাগ মি টু' আন্দোলনের সূত্রপাত৷

এইচআই/ এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন