কর্তৃত্ববাদী সরকারব্যবস্থার দিকে বাংলাদেশ? | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 07.12.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

কর্তৃত্ববাদী সরকারব্যবস্থার দিকে বাংলাদেশ?

বাংলাদেশে গত এক দশকের রাজনীতি কী নতুন ধারার ইঙ্গিত দিচ্ছে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, খুব অল্পসংখক মানুষই এখন গণতন্ত্র এবং রাজনীতি নিয়ে ভাবছেন৷ আর এই পরিস্থিতি বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে পারে কর্তৃত্ববাদী সরকারব্যবস্থার দিকে৷

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ এখন টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায়৷ সংসদে নেই কার্যকর বিরোধী দল৷ মাঠেও রাজনৈতিক বিরোধী শক্তির কোনো সরব উপস্থিতি নেই৷ ফলে আওয়ামী লীগের জন্য বলতে গেলে খোলা মাঠে গোল দেয়ার অবারিত সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শান্তনূ মজুমদার মনে করেন, ‘‘বাংলাদেশে এখন সংসদীয় রাজনীতির খরা চলছে৷ এর থেকে বেরিয়ে আসা দরকার৷ কিন্তু এর থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমাদের দরকার এমন সরকারি দল, এমন বিরোধী দল যারা কোনো ঘোরপ্যাঁচ না করে, কোনো চালাকি না করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকবে৷''

বাংলাদেশে এখন একপাক্ষিক রাজনীতির বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট  বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা৷ শান্তনূ মজুমদার বলছেন, ‘‘রাজনীতি যদি একপাক্ষিক হয়ে যায় তাহলে হয়তো আমরা নতুন কোনো মডেল দেখতে পারি৷ আমাদের সামনে সিঙ্গাপুর মডেল আছে, চীন ও মালয়েশিয়া মডেল আছে৷ সেগুলো যে ভালো মডেল তা আমি বলবো না৷ তবে অর্থনীতিকে হয়তো একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য ডমিনেন্ট পার্টি সিস্টেম, যদি একদলীয় না বলি, ডমিনেন্ট পার্টি সিস্টেমে একটা যায়গায় যাওয়া সম্ভব৷''

তিনি বলেন, ‘‘আমরা যদি স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর মত গণতন্ত্র চাই তাহলে আমাদের গণতন্ত্র তো বহুদলীয় হতে হবে। এই সময়ে ডমিনেন্ট পার্টির তকমায় আওয়ামী লীগের সামনে হয়তো তেমন চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে না৷ কিন্তু আমি মনে করি তাদের সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ আছে৷ তাদের দল হয়তো অনেকে করেন বলছেন৷ কিন্তু তাদের যে আদর্শ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ সেটা কতটা ধারণ করে এটা একটা বড় প্রশ্ন৷''

অডিও শুনুন 04:47

ড. শান্তনূ মজুমদার

রাজনৈতিক বিশ্লেষক আফসান চৌধুরী মনে করেন, রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং সামাজিক ও শাসনতান্ত্রিক কাঠামোর কারণেই বাংলাদেশে সেই অর্থে বিরোধী দল নেই৷ তিনি বলেন, ‘‘সরকারি বা বিরোধী দল নয়, শ্রেণী দিয়ে বুঝতে হবে৷ আমাদের দেশে প্রধান চারটি শ্রেণী আছে৷ সবার উপরে সেনাবাহিনী৷ যাদের কোনো পরিবর্তন হয়না রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে৷ এর পর আছে আমলা শ্রেণি, ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক শ্রেণী৷ রাজনৈতিক শ্রেণীই আমাদের দেশে সবচেয়ে দুর্বল৷ রাজনৈতিক শ্রেণী পরিবর্তন হয়৷ কিন্তু আমাদের দেশে এই শ্রেণীটা একবার ক্ষমতায় বসলে কোনো দিনই স্বেচ্ছায় পরিবর্তিত হতে চাইবে না৷ এটা আমাদের ইতিহাস৷''

তিনি এর সঙ্গে অর্থনীতির সম্পর্কও দেখছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘অর্থনীতিতে যদি প্রতিযোগিতা থাকে তাহলে রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা হয়৷ কিন্তু অর্থনীতিতে সেই প্রতিযোগিতা নেই৷ এটা বাজার অর্থনীতি নয়, যোগাযোগ ভিত্তিক অর্থনীতি৷ রাজনৈতিক দলগুলো যদি ক্ষমতায় আসে, তারা মৌলিক কী পরিবর্তন করতে পারবে? প্রশাসন তো একই থাকবে৷ তাহলে তো আমাদের রাষ্ট্রের কাঠামোতে বিরোধী দলের ভূমিকা ক্রমেই গৌণ হতে থাকবে৷''

ক্ষমতাবানদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমেই এখন বাংলাদেশে সবকিছু হচ্ছে বলে মনে করেন আপসান চৌধুরী৷ দেশের অধিকাংশ মানুষ এখন রাজনীতির বাইরে বলেও মনে করেন তিনি৷

আফসান চৌধুরী বলেন, ‘‘ক্ষমতবানদের মধ্যে সমঝোতা অনেক ভালো৷ মধ্যবিত্ত শ্রেণী রাজনীতি থেকে বাদ পড়ে গেছে৷ এই মধ্যবিত্তরাই বিরোধী দল খুঁজছে৷ গরিব মানুষ এই রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে না৷ শহরেরর এই রাজনীতির কোনো প্রভাব গ্রামে পরছে না৷ গ্রাম থেকে শহর বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে কিনা এটা দেখা দরকার৷ গ্রামের অর্থায়ন হচ্ছে রেমিটেন্সের মাধ্যমে৷ গ্রাম এখন শহর থেকে আলাদা থাকতে চাইবে৷ গ্রামের আলাদা সংস্কৃতি, আলাদা শক্তি তৈরি হয়ে গেছে৷ গ্রামের কিছু আসে যায় না কে ক্ষমতায় আসলো, কে ক্ষমতায় থাকলো তা নিয়ে৷ বাংলাদেশের বেশিরভাগ হলো গ্রাম৷ মুক্তিযুদ্ধের মূলই ছিলো গ্রাম৷ সেই গ্রামই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করেছে, সেই গ্রাম আরো স্বাধীন৷''

অডিও শুনুন 06:19

আফসান চৌধুরী

বাংলাদেশে এখন যারা গণতন্ত্রের কথা বলেন তারা আদৌ কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান আফসান চৌধুরী৷ তার মতে, ‘‘এই পরিস্থিতি গণতন্ত্রের কী হবে এটাতো মধ্যবিত্তের প্রশ্ন৷ এই প্রশ্ন তো গরীব মানুষ করে না. ধনীরা জিজ্ঞেস করে না৷ এতদিন মধ্যবিত্ত গরিব মানুষের ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করেছে৷ তারা এখন আর মধ্যবিত্তের সাথে নাই৷ ফলে রাজনীতি এখন ছোট্ট একটা শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ৷ তারাই গণতন্ত্র নিয়ে কষ্ট পায়৷ তাদের ভূমিকা এখন গৌণ হয়ে গেছে৷ মুক্তিযুদ্ধে নয়, বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনে মধ্যবিত্তের বড় ভূমিকা ছিলো৷ কিন্তু এখন তার ভূমিকা নেই বললেই চলে৷ ফলে খুব স্বল্প সংখ্যক মানুষ গণতন্ত্র নিয়ে চিন্তা করছে৷''

গণতন্ত্র চর্চা এখন রাজপথ না সংসদ নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় চলে এসেছে বলেও মনে করেন তিনি৷ তিনি বলেন, ‘‘এখন গণতন্ত্রের চর্চাটা স্যোশাল মিডিয়ায় হচ্ছে৷ তবে দেখা দরকার এটা কতটা গণতন্ত্রিক৷ আমাদের এখন পুরনো চিন্তায় থাকলে হবে না৷ গণমাধ্যম কিন্তু এখন আর গণমাধ্যম নাই, এখন সামজিক গণমাধ্যম৷''

তার চূড়ান্ত বিশ্লেষণ হলো, ওপর তলার মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব বা বিরোধিতা তৈরি না হলে বিরোধী দলও থাকে না৷ তিনি বলেন, ‘‘সাধারণভাবে আমরা সরকারি দল-বিরোধী দল দেখি৷ এরা ওপর তলার৷ এই ওপর তলার মধ্যে সংকট বা বিরোধিতার কারণে সরকারি দল থাকে, বিরোধী দল থাকে৷ কিন্তু আমাদের এখানো ওপর তলার মধ্যে ভালোই সমঝোতা আছে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন