করোনা সঙ্কটে প্রশ্নবিদ্ধ বেসরকারি হাসপাতাল | বিষয় | DW | 13.08.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

পশ্চিমবঙ্গ

করোনা সঙ্কটে প্রশ্নবিদ্ধ বেসরকারি হাসপাতাল

করোনার সময় বেসরকারি হাসপাতালের বিপুল টাকার বিল নিয়ে প্রশ্ন উঠছে৷ অভিযোগ, রোগীর অসহায়তার সুযোগ অন্যায্য বিল করছে হাসপাতাল৷ যদিও তাদের বক্তব্য, কোভিড চিকিৎসার খরচই বিপুল৷ দুর্নীতি থাকলেও তা আছে মুষ্টিমেয় ক্ষেত্রে৷

পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতে সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এখনো পর্যাপ্ত নয়৷ ফলে বহু মানুষকে উন্নততর চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে উপর নির্ভর করতেই হয়৷  চলতি সপ্তাহে মূলত দু'টি অভিযোগ ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা চলছে৷ কলকাতার রুবি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক কোভিড রোগীর বিল ছড়িয়ে পড়েছে৷ তাতে দেখা যাচ্ছে, ১০ লাখ টাকার বেশি বিল করা হয়েছে৷ চিকিৎসক বাবদ খরচ নগণ্য, ওষুধ ও ওয়ার্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রীর জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা বিল করা হয়েছে৷

দ্বিতীয় অভিযোগের কেন্দ্রে উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরের এক জনপ্রিয় চিকিৎসক প্রদীপ ভট্টাচার্য৷ তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন৷ মেডিকা হাসপাতাল তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রায় ১৯ লাখ টাকার বিল করেছে৷ হাসপাতাল সংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তির জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে স্বাস্থ্য কমিশন গঠন করেছে, তারা এই বিলের কথা জানতে পেরে খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে৷ কমিশনের প্রধান, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় মেডিকা কর্তৃপক্ষকে বার্তা দিয়েছেন, বিল খতিয়ে দেখে কিছু টাকা প্রয়াত চিকিৎসকের পরিবারকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক৷

করোনা চিকিৎসায় এই বিপুল অঙ্কের বিল কি যুক্তিসঙ্গত? মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট চিকিৎসক কুণাল সরকারের বক্তব্য, করোনার চিকিৎসা ব্যয়বহুল৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘করোনা রোগীকে আইটিইউতে রেখে চিকিৎসা করাতে গেলে দৈনিক খরচ ৫০ হাজার টাকার মতো খরচ৷ এর নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই ঠিকই৷ কিন্তু যে ১০-১২ রকমের ওষুধ ব্যবহার করতে হয়, তার জন্য রোজ খরচ ৭-৮ হাজার টাকা৷ গুরুতর অসুস্থ কোভিড রোগী ২০ দিন ভর্তি থাকলে তাঁর বিল ১০ লক্ষে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে৷ এটা সত্যিই কোনো পরিবারের পক্ষে যথেষ্ট চাপের৷ কিন্তু এটাই বাস্তব পরিস্থিতি৷''

সোশ্যাল মিডিয়ার বার্তায় অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ এই হাসপাতালগুলিকে ‘রক্তচোষা' বলে কটাক্ষ করেছেন৷ ডক্টরস ফোরাম-এর সদস্য, চিকিৎসক রেজাউল করিম স্বীকার করেন, বেসরকারি পরিকাঠামো ছাড়া সবাইকে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া যাবে না৷ কিন্তু তাঁর বক্তব্য, ‘‘হাসপাতালের বিলে স্বচ্ছতা থাকছে না৷ একটা বিলের ৭০ শতাংশ খরচ কোন খাতে স্পষ্ট বোঝার উপায় নেই৷ যে ওষুধই প্রয়োগ করা হোক, এত টাকা বিল হওয়ার কথা নয়৷ নইলে একটি হাসপাতাল ভর্তির সময় এক লাখ টাকার আনুমানিক খরচ দেখিয়ে রোগীকে ছাড়ার সময় ২৫ লাখ টাকার বিল ধরায় কীভাবে?''

অডিও শুনুন 03:10

‘একটা বিলের ৭০ শতাংশ খরচ কোন খাতে স্পষ্ট বোঝার উপায় নেই’: রেজাউল করিম

সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক, সার্ভিস ডক্টর ফোরাম-এর সদস্য স্বপন বিশ্বাস এজন্য সরকারের দিকে আঙুল তুলেছেন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সরকার তার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নত করার বদলে বেসরকারিকরণে বেশি মনোযোগ দিয়েছে৷ তাই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিচ্ছে৷ এই নীতির বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ৷ তাই অতিমারীর সময়েও বেসরকারি হাসপাতালগুলি অমানবিক আচরণ করছে৷''

অমানবিক আচরণেরঅভিযোগ খারিজ করেননি বেসরকারি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্তা কুণাল সরকার৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সরকারি যে পরিকাঠামো রয়েছে তাতে জটিল রোগের উন্নত চিকিৎসা সম্ভব নয়৷ তাই সরকারি ও বেসরকারি দু'টি ক্ষেত্রেই পরিষেবা চালু রাখতে হবে৷ কিন্তু চিকিৎসার খরচ এতটাই বেশি যে সেটা অনেক সময় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, এটা ঠিকই৷ কোনো হাসপাতাল যদি সরকারি নির্দেশিকা না মানে, পিপিই বা অন্য সামগ্রী বাবদ লাখ লাখ টাকা বিল করে, সেটাকে কেউ সমর্থন করে না৷ এটা এক ধরনের দুর্নীতি, যা সব ক্ষেত্রেই আছে৷''