করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে আবারও বিধিনিষেধ | বিশ্ব | DW | 29.03.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে আবারও বিধিনিষেধ

গত পাঁচ সপ্তাহে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে৷ পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক পর্যায়ে গেছে যে, সরকার নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে৷

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে৷ সেখানে বিদেশফেরত যাত্রীদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে৷ পাশাপাশি সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়সহ যেকোনো উপলক্ষে জনসমাগম সীমিত করার কথা বলা হয়েছে৷

সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত আরও ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ একই সময় করোনায় সংক্রমিত ৫ হাজার ১৮১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে৷ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত বছরের ২ জুলাই করোনায় সংক্রমিত ৪ হাজার ১৯ জন রোগী শনাক্তের খবর পাওয়া গিয়েছিল৷ সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত দেশে মোট ৬ লাখ ৮৯৫ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে৷ এর মধ্যে মারা  গেছেন ৮ হাজার ৯৪৯ জন৷

যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে তাতে শুধু বিধি নিষেধ দিয়েই কী পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব? নাকি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও ঢেলে সাজানো দরকার? স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি খুরশিদ আলম ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘এর মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠক করে আমরা কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷ ঢাকায় প্রথম দফায় যে হাসপাতালগুলোকে কোভিড হাসপাতাল হিসেবে চালু করা হয়েছিল, সেগুলো আবার চালু করা হয়েছে৷ আসলে করোনার তো কোন চিকিৎসা নেই, আমরা যেটা করি সাপোর্টিভ ট্রিটমেন্ট সেটা তো চলছেই৷ ঢাকার কোনো হাসপাতালে এখন সিট খালি নেই৷ এমনকি একটিও আইসিইউ খালি নেই৷ অথচ চট্টগ্রাম, গাজীপুরসহ অনেক এলাকাতেই হাসপাতালে তেমন কোন রোগী নেই৷ এখন সব রোগী যদি ঢাকায় চলে আসে তাহলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া মুশকিল৷''

অডিও শুনুন 04:00

‘আক্রান্ত হওয়ার আগে ব্যবস্থা নেওয়াই ভালো’

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আহমদ কায়কাউসের স্বাক্ষরে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এসব নির্দেশনা অবিলম্বে সারাদেশে কার্যকর হবে এবং আপাতত অন্তত দুই সপ্তাহ বলবৎ থাকবে৷

নির্দেশনায়যাআছে

১. সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়সহ যেকোনো উপলক্ষে জনসমাগম সীমিত করার কথা বলা হয়েছে৷ প্রয়োজনে উচ্চ সংক্রমণ এলাকায় জনসমাগম নিষিদ্ধ থাকবে৷

২. মসজিদসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে স্বাস্থ্যবিধি পালন নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে৷

৩. পর্যটন, বিনোদন কেন্দ্র, সিনেমা হল, থিয়েটার হলে জনসমাগম সীমিত করতে হবে এবং সব ধরনের মেলা আয়োজন নিরুৎসাহিত করা হবে৷

৪. গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং ধারণক্ষমতার অর্ধেকের বেশি যাত্রী পরিবহন করা যাবে না৷

৫. সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আন্তজেলা যান চলাচল সীমিত করতে হবে, প্রয়োজনে বন্ধ করতে হবে৷

৬. বিদেশফেরত যাত্রীদের ১৪ দিনের কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করতে হবে৷

৭. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী খোলা ও উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেচাকেনা করতে হবে৷

৮. স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোয় মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে৷

৯. শপিং মলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক৷

১০. দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে৷

১১. অপ্রয়োজনে রাত ১০টার পর ঘর থেকে বের হওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হবে৷

১২. প্রয়োজনে বাইরে গেলে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মানতে হবে৷ এ ক্ষেত্রে মাস্ক না পরলে বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷

১৩. করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বা করোনার লক্ষণ রয়েছে এমন ব্যক্তির আইসোলেশন নিশ্চিত করতে হবে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা অন্যদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে৷

১৪. জরুরি সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ৫০ শতাংশ  লোকবল দিয়ে পরিচালনা করতে হবে৷ অন্তঃসত্ত্বা, অসুস্থ, ৫৫ বছরের অধিক বয়সী ব্যক্তিদের বাসায় থেকে কাজের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে৷

১৫. সভা, সেমিনার, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা যথাসম্ভব অনলাইনে আয়োজন করতে হবে৷

১৬. সশরীরে উপস্থিত হতে হয় এমন যেকোনো ধরনের গণপরীক্ষার ক্ষেত্রে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে৷

১৭. হোটেল, রেস্তোরাঁয় ধারণক্ষমতার অর্ধেক মানুষ প্রবেশ করতে পারবে৷

১৮. কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ ও অবস্থানের পুরোটা সময়ই বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরাসহ সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে৷

সরকার নতুন করে যে, বিধিনিষেধ দিয়েছে এতেই কী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব? না-কি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায়ও কোন পরিবর্তন আনতে হবে? জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্মা ডা. মুস্তাক হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আসলে কেউ আক্রান্ত হওয়ার আগে যদি ব্যবস্থা নেওয়া যায় সেটাই ভালো৷ এখন গত জানুয়ারি থেকে আক্রান্তের হার কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মধ্যেও শৈথিল্য চলে এসেছিল৷ বিশেষ করে যারা টিকা নিয়েছেন তারা তো আর স্বাস্থ্যবিধি মানছিলেন না৷ ফলে এটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে৷ এখন করোনা ভাইরাসের যে ধরনের পরিবর্তনই হোক না কেন, আমাদের কিন্তু চিকিৎসা একই৷ সাপোর্টিভ টিটমেন্ট৷ ফলে যেভাবে রোগী বাড়ছে তাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে উঠবে৷ এখন আমাদের স্বাস্থ্যবিধির উপর অনেক বেশি জোর দিতে হবে৷''

২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে৷ গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের ঘোষণা আসে৷ দেশে প্রথম করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘোষণা আসে ১৮ মার্চ৷ দেশে সংক্রমণ শুরুর দিকে রোগী শনাক্তের হার কম ছিল৷ গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে৷ মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল৷ গত ডিসেম্বর থেকে সংক্রমণ আবার কমতে শুরু করে৷ তবে গত পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সংক্রমণ আবার ঊর্ধ্বমুখী৷ করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গত ২৭ জানুয়ারি দেশে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়৷ এদিন গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন৷ গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়