করোনা সংক্রমণে এক নম্বরে অ্যামেরিকা, তবু অনড় ট্রাম্প | বিশ্ব | DW | 27.03.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

করোনা ভাইরাস

করোনা সংক্রমণে এক নম্বরে অ্যামেরিকা, তবু অনড় ট্রাম্প

করোনা সংক্রমণে সকলকে পিছনে ফেলে দিল অ্যামেরিকা। কাজ হারাচ্ছেন বহু মানুষ। তবুও নিশ্চিন্তে ট্রাম্প প্রশাসন।

চীন, ইটালি, স্পেন সকলকে ছাড়িয়ে করোনা আক্রান্তের তালিকায় এক নম্বরে উঠে এল অ্যামেরিকা। শুক্রবার গোটা দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৮৫ হাজার ৫০০। এখনও পর্যন্ত সেখানে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার অতিক্রম করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী তিন সপ্তাহে আরও মারাত্মক ভাবে সংক্রমণ ছড়াবে অ্যামেরিকায়। আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কয়েক লক্ষ মানুষের।

গত বছরের শেষ পর্বে চীনে প্রথম করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে। তিন মাসে সেখানে আক্রান্ত হয়েছিলেন প্রায় ৮২ হাজার মানুষ। প্রায় তিন মাস ধরে করোনা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে চীন এখন অনেকটাই ভাইরাস মুক্ত হতে পেরেছে। কিন্তু তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে প্রায় গোটা পৃথিবীতে। এই মুহূর্তে ইটালি এবং স্পেনের অবস্থা সব চেয়ে ভয়াবহ। ইটালিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। মৃত্যু হয়েছে আট হাজারেরও বেশি মানুষের। স্পেনেও প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের পরবর্তী ভরকেন্দ্র অ্যামেরিকা। বৃহস্পতিবার তা আরও স্পষ্ট হয়ে গেল। আশঙ্কা, সেখানে মোট ৮১ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

কিন্তু তবু হেলদোল নেই ট্রাম্প প্রশাসনের। করোনা ভাইরাসকে যে ট্রাম্প সে ভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন না, বার বার তা স্পষ্ট হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগে ট্রাম্প টুইট করে বলেছিলেন, করোনা নিয়ে অকরাণে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। গত বছরের ফ্লুয়ের কথা উল্লখ করে তিনি বলেছিলেন, সাধারণ ফ্লুতে যত সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়, করোনায় মৃত্যু তার চেয়ে অনেক কম। গোটা দেশে লকডাউনের প্রশ্নেও একগুঁয়েমি দেখিয়েছেন ট্রাম্প। মাত্র কয়েক দিন আগে তিনি বলেছেন, ইস্টারের আগে অ্যামেরিকার জনজীবন স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এখন তিনি বলছেন, অগাস্টে রিপাবলিকানদের কনফারেন্স যেমন হওয়ার কথা ছিল, তেমনই হবে। ট্রাম্পের বক্তব্য, অগাস্টের মধ্যে করোনার প্রকোপ কমে যাবে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে ভাবে অ্যামেরিকা চলছে, তাতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হবেন। মৃত্যুর হার বেড়ে যাবে বহু গুণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, গোটা পৃথিবীতে এর মধ্যেই প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এবং সংক্রমণের হার দ্রুত বাড়ছে। আক্রান্তের সংখ্যা এক লক্ষে পৌঁছতে সময় লেগেছিল দুই মাস। কিন্তু চার থেকে পাঁচ লক্ষে পৌঁছতে সময় লেগেছে মাত্র দুই দিন। এ ভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ আরও ভয়াবহ হবে বলেই বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

ভিডিও দেখুন 01:08

করোনার কবলে যেমন আছে পর্তুগাল

প্রথম যখন চীনে করোনা সংক্রমণ শুরু হয়েছিল, তখনই সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বলা হয়েছিল, ভাইরাস একবার ছড়িয়ে পড়লে তা মহামারির চেহারা নেবে। বস্তুত, চীন যে ভাবে করোনার সঙ্গে লড়াই করেছে, অপেক্ষাকৃত গরিব দেশগুলির পক্ষে তা সম্ভব নয় বলে তখনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। বাস্তবেও ঠিক তা-ই ঘটছে। হু হু করে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ। স্পষ্ট হচ্ছে, শুধু গরিব দেশ নয়, ইউরোপের দেশগুলি এবং অ্যামেরিকাও চীনের মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না। যদিও জার্মানি এখনও পর্যন্ত করোনা মোকাবিলায় যথেষ্ট মুন্সিয়ানা দেখাতে পেরেছে। মৃত্যুর হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে।

এ দিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় ফের আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে আগামী কয়েক সপ্তাহে ভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে নতুন আইন তৈরি করেছে সিঙ্গাপুর। দেশের নাগরিকদের জানানো হয়েছে, একে অপরের সঙ্গে দূরত্ব বজায় না রাখলে চড়া অঙ্কের অর্থ জরিমানা হবে। নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়াতেও লাল সংকেত জারি হয়েছে। নিউজিল্যান্ডে শুরু হয়ে গিয়েছে দেশব্যাপী লকডাউন। কিন্তু তাতেও সংক্রমণ বন্ধ করা যায়নি। শুক্রবার নতুন করে ৮৫ জনের শরীরে সংক্রমণ মিলেছে।

ভিডিও দেখুন 05:04

লকডাউন দেশে বিদেশে

করোনা পরিস্থিতি প্রবল ভাবে প্রভাব ফেলেছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। বহু মানুষ কাজ হারাতে শুরু করেছেন। তথ্য বলছে, মাত্র এই কয়েক দিনে অ্যামেরিকায় প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ বেকার হিসেবে নিজেদের চিহ্নিত করেছেন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মে মাসের শেষে দেশের ১৩ শতাংশ মানুষ কাজ হারাবেন। ২০০৮-০৯ সালের মন্দার সময়েও যা ১০ শতাংশ ছাড়াতে পারেনি। অ্যামেরিকাতেই যদি কাজের এই অবস্থা হয়, তাহলে ভারতীয় উপমহাদেশের অবস্থা বুঝতে অসুবিধা হয় না। ২১ দিনের লকডাউনের তৃতীয় দিনেই কাজ নিয়ে হাহাকার শুরু হয়েছে। অসংরক্ষিত ক্ষেত্রের কর্মীরা বিনা বেতনে বাড়িতে বসে। সরকার তাঁদের জন্য আর্থিক স্কিম চালু করলেও তা যথেষ্ট নয় বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

এরই মধ্যে কানাডার সীমান্তে সেনা পাঠিয়ে করোনা মোকাবিলার উদ্যোগ নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। কানাডা এর তীব্র বিরোধিতা করে বিবৃতি দিয়ে বলেছে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ সময়োচিত নয়। সৈন্য দিয়ে করোনা রোধ করা সম্ভব নয়।

এ দিকে বৃহস্পতিবার ভারত, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান-- তিন রাষ্ট্রেই করোনার প্রকোপ অনেকটা বেড়েছে। ভারতে প্রায় ১২০ জনের শরীরে নতুন করে সংক্রমণ মিলেছে। মৃত্যু হয়েছে আরও পাঁচ জনের। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছে। 

এসজি/জিএইচ (রয়টার্স, এপি, এএফপি)

বিজ্ঞাপন