করোনা সংকটে যেভাবে চলছে ঢাকার সংবাদমাধ্যম | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 10.04.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

করোনা সংকটে যেভাবে চলছে ঢাকার সংবাদমাধ্যম

ঢাকায় দুটি বেসরকারি টেলিভিশন এবং একটি দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন৷ এ অবস্থায় কীভাবে কাজ করছে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলো?

গত ৩ এপ্রিল ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী এম শামসুর রহমান ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় তাদের একজন সাংবাদিকের করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং তার সংস্পর্শে আসা আরো ৪৭ জন কর্মীকে হোম কোয়ারান্টিনে পাঠানোর কথা জানান

তার ছয়দিন পর, ৯ এপ্রিল যমুনা টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ তাদের একজন সিনিয়র রিপোর্টারের করোনায় সংক্রমিত হওয়ার খবর জানায়৷ আক্রান্ত ব্যক্তি সর্বশেষ গত ৬ এপ্রিল অফিসে গিয়েছিলেন৷

ওই সাংবাদিকের পরিবারের আরো তিন সদস্যের শরীরে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দেয়৷ পরীক্ষায় ওই সাংবাদিক ও তার শ্বশুরের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়৷ দুজনই কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন৷ ৩৪ কর্মীকে ‘সেল্ফ আইসোলেশনে' পাঠানো হয়েছে৷

আর শুক্রবার দৈনিক বাংলাদেশের খবর-এর একজন রিপোর্টারেরও আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ আসে৷ তিনি আগেই বাসা থেকে অফিস করছিলেন৷ গলা ব্যাথা ও হাল্কা জ্বর ছাড়া আর কোনো সমস্যা না থাকায় তিনি বাসাতেই আছেন৷ সহকর্মীদের কেউ তার সংস্পর্শে আসেননি বলে জানান পত্রিকাটির উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন৷

সংবাদ সংগ্রহের জন্য সংবাদকর্মীদের ঘরের বাইরে যেতেই হয়৷ করোনা-সংকটকালে বিকল্প কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও দায়িত্বের খাতিরে ঘরে থাকার উপায় এখনো অনেক সংবাদকর্মীরই নেই৷ ঘর থেকে বের হলে সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েই যায়৷

সংকটময় এই পরিস্থিতিতে নিজের কর্মপরিবেশ নিয়ে টেলিফোনে ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা হয় দেশের প্রথম অনলাইন সংবাদপত্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নিউজ এডিটর জাহিদুল কবিরের৷ তিনি জানান, কর্মীদের নিরাপত্তায় এরইমধ্যে কর্মীদের প্রায় সবাই বাসা থেকে কাজ করছেন৷

‘‘শুধু খুব গুরুত্বপূর্ণ কারিগরী সহায়তার দায়িত্বে থাকা কর্মী এবং আমাদের ‘নিউ মিডিয়া'র কয়েকজন কর্মী অফিসে আছেন৷ তাদের জন্য অফিসেই থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, তারা অফিসের বাইরে বের হন না৷ আমরা সামাজিক দূরত্ব রক্ষার নির্দেশ সঠিকভাবে পালনের চেষ্টা করছি৷''

অনলাইন সংবাদপত্র হওয়ায় আগেই কাজের সুবিধায় নানা অ্যাপ ব্যবহার করতেন জানিয়ে জাহিদুল কবির আরো বলেন, ‘‘এখন অ্যাপের মাধ্যমেই আমরা কাজের আলাপ করছি৷ তাতে সব বিভাগের কর্মীরা অংশ নিচ্ছেন৷ এরপরও ফটোগ্রাফাদের মতো যাদের দায়িত্ব পালনে বাইরে যেতেই হচ্ছে, তাদের পিপিই দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে৷ নিজেদের সুরক্ষার জন্য সব সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শও দেয়া হয়েছে৷''

দেশের প্রথমসারির দৈনিক প্রথম আলো-র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক তাদের অফিসের নিরাপত্তা উদ্যোগ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ডয়চে ভেলেকে জানান, তাদের পত্রিকার কলেবর কমিয়ে আপাতত ১২ পৃষ্ঠায় নামিয়ে আনা হয়েছে৷ এছাড়া যারা অফিসে না গেলেই নয়, শুধু তেমন কর্মীরাই অফিসে যাচ্ছেন, বাকিরা বাসায় থেকে অনলাইনে এবং ফোনে নিজ নিজ কাজ করছেন৷

‘‘এছাড়া অফিসে ঢোকার আগে সবার শরীরের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে৷ তাপ ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হলে তাকে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷ প্রবেশমুখেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা আছে৷ সেটা দিয়ে হাত পরিষ্কার করা ছাড়াও পুরো শরীর, এমনকি জুতার তলায় পর্যন্ত জীবাণুনাশক স্প্রে করার পর অফিসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়'' বলেও জানান তিনি৷

‘‘লিফ্টে পাঁচে জনের বেশি উঠছেন না, তারা দেয়ালের দিকে মুখ করে দাঁড়ান৷ ঘণ্টায় ঘণ্টায় জীবাণুনাশক দিয়ে দরজার হাতল ও আসবাবপত্র মোছা হচ্ছে এবং অফিসে সবসময় মাস্ক পরে থাকা বাধ্যতামূলক৷''

এই সময়ে আতঙ্কে কোনো কর্মী ছুটি চাইলে কর্তৃপক্ষ তাদের ছুটি দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি৷

যমুনা টেলিভিশনের অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর রোকসানা আঞ্জুমান নিকোল জানান, তাদের এক কর্মী করোনায় আক্রান্ত এবং ৩৪ জন আইসোলেশনে গেলেও তারা পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন৷ আইসোলেশনে থাকা কর্মীরা বাসা থেকে যতটুকু সম্ভব কাজ করছেন৷

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের প্রায় সাড়ে পাঁচশ'র মতো কর্মী আছেন৷ তাই বাকি যারা আছেন, তারা একটু বেশি কাজ করছেন৷ করোনা সংকট শুরুর পর থেকেই আমরা দুই দলে ভাগ হয়ে পালা করে কাজ করা শুরু করেছি৷''

‘‘আমরা কাজের পরিমাণ একদমই কমাইনি, কারণ, এখন মানুষ ঘরে বসে টেলিভিশনই দেখেন৷ অন্যান্য টেলিভিশন থেকে আমরা সহায়তার আশ্বাসও পেয়েছি৷''

ঢাকা ট্রিবিউন-এর অ্যাসিসটেন্ট নিউজ এডিটর তানজির রহমান জানান, তারা এখন মূলত বাড়ি থেকেই অফিসের কাজ করছেন৷ অনলাইনের কাজের পাশাপাশি পত্রিকার বেশিরভাগ কাজও বাড়ি থেকেই হচ্ছে৷

তানজির রহমান, ‘‘তবে ফটোগ্রাফার ও রিপোর্টারদের তো বাইরে যেতেই হয়৷ অফিস থেকে এরইমধ্যে সব ফটোগ্রাফারকে পিপিই দেওয়া হয়েছে৷ রিপোর্টারদেরও শিগগির দিয়ে দেওয়া হবে৷ সব সতর্কতা মেনে কাজ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে৷''

বিজ্ঞাপন