করোনা রোগীর স্বাদ-গন্ধ বোধ লোপ পাওয়া | বিশ্ব | DW | 04.05.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

করোনা রোগীর স্বাদ-গন্ধ বোধ লোপ পাওয়া

করোনায় আক্রান্ত হলে কিছু মানুষ সাময়িকভাবে স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতি হারান৷ কারো ক্ষেত্রে সেই অভাব দীর্ঘ হতে পারে৷ এক ভুক্তভোগী সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক বদভ্যাস ত্যাগ করে স্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছেন৷

ইয়োনাস ভিলোট

ইয়োনাস ভিলোট

ইয়োনাস ভিলোট সেই সন্ধ্যার কথা কখনো ভুলতে পারেন না৷ বন্ধুদের সঙ্গে তিনি পিৎসা কিনে বাসায় ফিরেছিলেন৷ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘বাসায় ফিরে আমরা পিৎসা খেলাম৷ খেয়াল হলো, একেবারেই কোনো স্বাদ পাচ্ছি না৷ প্রথমে মনে হচ্ছিল যে, বোধহয় মশলা ঠিক ছিল না অথবা পিৎসা তৈরি করার সময়ে রাঁধুনীর মনোযোগ ছিল না৷ তারপর পানীয়ের মধ্যেও কোনো স্বাদ পেলাম না৷ পরের দিনও কোনো পরিবর্তন হলো না৷ তখন বুঝলাম কিছু একটা গণ্ডগোল হয়েছে৷’’

২০২০ সালের মার্চ মাসে ইয়োনাস ছুটিতে বন্ধুদের সঙ্গে স্কি করতে গিয়েছিলেন৷ তখন তিনি-সহ  কয়েক জন করোনায় আক্রান্ত হন৷ ১৪ দিন পর বাকিদের উপসর্গ দূর হলেও ইয়োনাসের স্বাদ ও গন্ধ-বোধ লোপ পায়৷ তিনি অবশ্য বিষয়টি হালকাভাবে নিয়েছেন৷ শুরুতে প্রতিদিন সকালে সেই অভাববোধ টের পেতেন, ফ্রিজ খুললেই মন খারাপ হয়ে যেতো৷ এখন তার অভ্যাস হয়ে গেছে৷ প্রথমদিকে অনেকেই বিশ্বাস করেনি৷ পরে বুঝতে পেরেছে যে, সেটা সত্যি এক সমস্যা৷ কারণ, তিনি ব্রাসেলস স্প্রাউটের মতো এমন সব খাবার খেতে শুরু করেন, যা পছন্দ না করার কারণে আগে কখনো খাননি৷

স্বাদের অনুভূতি হারিয়ে ইয়োনাসের কিছু উপকারও হয়েছে৷ করোনায় আক্রান্ত হবার আগে তিনি জাংকফুড খেতে খুব ভালোবাসতেন৷ প্রায় প্রতিদিন সসেজ, পিৎসা ও মিষ্টি খেতেন৷ ফলে ওজন ১০০ কিলো ছাড়িয়ে গিয়েছিল৷

আর এখন তার চেহারা বদলে গেছে৷ স্বাদের অনুভূতি হারানোর পর ওজন ৩৪ কিলো কমে গেছে৷ কারণ ইয়োনাস এখন সচেতনভাবে স্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছেন৷ আগে শাকসবজি না খেলেও এখন আর সমস্যা হচ্ছে না৷ ইয়োনাস বলেন, ‘‘আমি আর প্রায় কোনো কার্বোহাইড্রেট খাচ্ছি না৷ মুরগির মাংসের মতো অনেক প্রোটিন খাচ্ছি৷ শর্করা বলতে বেশিরভাগ সময়ে ভাত খাচ্ছি, সঙ্গে ব্রকোলি, গাজর অথবা শসা৷ মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে এটাই আমার মূল খাবার৷ পিৎসার মতো অপ্রয়োজনীয় চর্বিযুক্ত খাবার খাচ্ছি না৷ এমনিতেই সেসব খাবারের স্বাদ পেতাম না৷’’

শুধু আলুভাজার ক্ষেত্রে তাঁর মনের জোর কখনো দুর্বল হয়ে পড়ে৷ তার অবশ্য একটা কারণ রয়েছে৷ সেটা খেলে তার সেই সময়ের কথা মনে পড়ে যখন মুখে রুচি ছিল৷ এমন দশা সত্ত্বেও ইয়োনাস নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন৷ এর কারণ ব্যাখ্যা করে ইয়োনাস ভিলোট বলেন, ‘‘১৪ দিন পরেও অনেক মানুষ অসুস্থ বোধ করছেন৷ অনেকের ফুসফুসে সমস্যা দেখা দিচ্ছে৷ ফলে জীবনযাত্রা বদলে যাচ্ছে৷ আর খেলাধুলা করতে পারছেন না৷ তাঁরা বিষয়টিকে আমার মতো হালকাভাবে নিতে পারছেন না৷ আমি সামান্য কিছু হারিয়েছি৷ তাঁদের জীবনের অভাব অনেক বেশি৷’’

বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রে গন্ধ ও স্বাদের অনুভূতি কিছু সময় পর ফিরে আসে৷ ইয়োনাস কবে আবার স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে পারবেন, কেউ তা জানে না৷

টামারা স্পিৎসিং/এসবি

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়