1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ মে পুলিশের নির্মমতায় প্রাণ হারান কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডছবি: AFP/Facebook/Darnella Frazier

করোনা মানুষকে অপরাধপ্রবণ করে তুলছে

স্যমন্তক ঘোষ নতুন দিল্লি
১১ সেপ্টেম্বর ২০২০

করোনাকালে অপরাধের সংখ্যা বেড়েছে গোটা বিশ্বেই৷ মনস্তত্ত্ববিদরা এর পিছনে মন-সামাজিক কারণ খুঁজে পাচ্ছেন৷

https://www.dw.com/bn/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B7%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A3-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%9B%E0%A7%87/a-54890692

কয়েক দিন আগে গল্প হচ্ছিল মন-সমাজবিদ মোহিত রণদীপের সঙ্গে৷ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এই মানুষটি বেশ কয়েক বছর ধরে মনের উপর সমাজের প্রভাব কীভাবে পড়ে, এবং তা থেকে কত রকম মানসিক সমস্যা তৈরি হতে পারে, এ বিষয়ে কাজ করছেন৷ করোনার শিকার মোহিত প্রথমে ভর্তি হয়েছিলেন একটি সরকারি হাসপাতালে৷ বলছিলেন, একজন করোনা রোগীকে কতরকম তাচ্ছিল্যের এবং আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে সেখানে৷

শুধু তাচ্ছিল্য নয়, শুধু আক্রমণ নয়, করোনাকালে গোটা বিশ্বেই আসলে সহিংসতা এক চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে৷ অসভ্য বর্বর আচরণ করছে আপাত সুশীল সমাজ৷ এমন নয় যে, করোনার আগে পৃথিবী স্বর্গরাজ্য ছিল, কোথাও কোনো ক্রাইম, সংঘাত, আক্রমণ ছিল না৷ ছিল, সবই ছিল৷ কিন্তু করোনাকালে তা যেন এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে৷ কেন? মনস্তত্ত্বিদদের কাছে এই প্রশ্নটিরই উত্তর খুঁজছিলাম৷ একেকটি ঘটনা ধরে জানতে চাইছিলাম, করোনাকাল না হলে কী এমন ঘটনা ঘটতো? উত্তরে পরে যাবো৷ প্রথমে এক নজরে ঘটনাগুলি দেখে নেওয়া যাক৷ ইচ্ছে করেই নানা ধরনের ঘটনার উল্লেখ করছি যাতে গোটা সমাজের চিত্রটি পাওয়া যায়৷

অ্যামেরিকার পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া যাক৷ রাজনৈতিক পক্ষপাতে না গিয়েই বলা যায়, করোনার এক মাস আগেও মার্কিন বিশ্বে ডনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা যথেষ্ট ছিল৷ তার মানে এই নয়, ট্রাম্পের আমল খুব নিষ্কন্টক৷ বহু অন্যায়, বহু অপরাধ হয়েছে৷ কিন্তু কোনো কিছুই এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি যে, ‘ব্ল্যাক লাইভ ম্যাটার্সে’র মতো একটি লাগাতার আন্দোলন গড়ে উঠবে৷ হয়েছে তো! করোনার আগেও ‘বর্ণবাদী’ মার্কিন পুলিশ কৃষ্ণাঙ্গকে অপমান করেছে৷ মুসলিম-বিদ্বেষ ছড়িয়েছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট৷ শরণার্থীদের নিয়ে অন্যায় রাজনীতি হয়েছে৷ কিন্তু করোনাকালে জর্জ ফ্লয়েডের গলায় পা দিয়ে যেভাবে মেরে ফেলা হয়েছে, তা এক কথায় বর্বর৷ ফ্লয়েডের হত্যা ঘিরে আন্দোলন হয়েছে৷ সেই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আরো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে৷ পুলিশের নির্লজ্জ চেহারা আরো স্পষ্ট হয়েছে৷

অসভ্যতা কেবল অ্যামেরিকায় হয়নি৷ জার্মানির রাজধানী বার্লিনে মাস্কবিরোধী মিছিলও অসহিষ্ণুতার অন্যতম উদাহরণ৷ যে কোনো বিষয়েই এক শ্রেণির মানুষের বিরোধিতা থাকতে পারে৷ বিতর্ক থাকতে পারে৷ কিন্তু সময়ের কথা মাথায় রেখে সভ্য মানুষ কোনো কথা বলেন, কোনো কাজ করেন, কোনো কোনো বিষয় থেকে নিজেকে বিরত রাখেন বৃহত্তর সমাজের মঙ্গলের কথা ভেবে৷ বার্লিনে মাস্কবিরোধী মিছিল সেই সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে যে কাণ্ড করেছে, ইতিহাস তা ক্ষমার চোখে দেখবে না৷ যেমন ইতিহাস মনে রাখবে জার্মানির ওই মা-কে৷ ডুসেলডর্ফের কাছের একটি শহরে ছয় সন্তানকে নিয়ে থাকতেন তিনি৷ পাঁচ সন্তানকেই হত্যা করেছেন তিনি৷ নিজেও আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তবে বেঁচে গিয়েছেন৷ জার্মানিতে এমন ঘটনা অভূতপূর্ব৷

জার্মানিতে যা অভূতপূর্ব, ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মতো দেশে তা ততটা অস্বাভাবিক নয়৷ খাদ্যের অভাবে গোটা পরিবার আত্মহত্যা করছে, কিংবা বাবা অথবা মা হত্যা করছেন ছেলেমেয়েদের-- এমন খবর হরদম না হলেও মাঝে মধ্যেই শোনা যায়৷ ধর্ষণ, খুন, রাহাজানি ভারতীয় উপমহাদেশের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা৷ কিন্তু করোনাকালে তা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে৷ করোনা সেন্টারে ঢুকে রোগীকে ধর্ষণ করা হয়েছে ভারতে৷ অ্যাম্বুলেন্সের চালক গাড়িতেই রোগীকে ধর্ষণ করেছে৷ বিভিন্ন শহরে ক্রাইম রেট চোখে পড়ার মতো বেড়েছে৷ করোনাকালে পারিবারিক হিংসা শুধু ভারতেই বেড়েছে ৩৩ শতাংশ৷ বস্তুত গোটা পৃথিবীতেই করোনাকালে পারিবারিক হিংসা লাফিয়ে বেড়েছে৷ বেড়েছে বিবাহ বিচ্ছেদের পরিমাণও৷

বাংলাদেশের পরিস্থিতিও একই রকম৷ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের উপর আক্রমণের ঘটনাই ধরা যাক৷ দিবাগত রাতে যেভাবে বাড়ির ভিতর ঢুকে হামলা হয়েছে৷ হাতুড়ি পেটা করা হয়েছে, তা এক কথায় ভয়াবহ৷ সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রশাসন যাদের আটক করেছে, তাদের জেরা করেও ওই হামলার স্পষ্ট কোনো কারণ এখনো বোঝা যায়নি৷ কেবলমাত্র চুরির উদ্দেশে এমন নৃশংসতা?

আর পারিবারিক সহিংসতা? পিরোজপুরের ঘটনা এখনও টাটকা৷ সৌদি আরব প্রবাসী ছেলের বউকে কীভাবে শাশুড়ি এবং তার সহযোগীরা হেনস্থা করেছিলেন তা আরো একবার বিশদে বলার অর্থ হয় না৷ এমন ঘটনা বহু ঘটে৷ কিন্তু করোনাকালে এ ধরনের ঘটনা, সহিংসতার চরিত্র যেন একটু বেশিই ভয়াবহ৷

উদাহরণ দেওয়া যায় আরো৷ শুধুমাত্র কলম্বিয়ায় করোনাকালে পারিবারিক হিংসা বেড়েছে ৫০ শতাংশ৷ নারীদের খুন করার পরিমাণ ভেনেজুয়েলার বেড়েছে ৬৫ শতাংশ৷ মেক্সিকোয় পুলিশের ইমার্জেন্সি কলের সংখ্যা বেড়েছে ৫০ শতাংশ৷ আফ্রিকায় বেড়েছে মেয়েদের উপর নির্যাতন৷

প্রশ্ন হলো, কেন বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা? কেন এই সহিংসতা? মোহিত রণদীপের বক্তব্য, মানুষের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা তৈরি হওয়ার অনেক কারণ আছে৷ কিন্তু তার মধ্যে অন্যতম নিরাপত্তাহীনতা৷ কাজের নিরাপত্তা, খাদ্যের নিরাপত্তা, সুস্থ সমাজের নিরাপত্তা-- এই বিষয়গুলি যে কোনো মানুষের মনকে প্রভাবিত করে৷ করোনার সময় গোটা বিশ্ব জুড়ে দুইটি বিষয় নিয়ে মানুষ অত্যধিক রকমের উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন৷ এক বেঁচে থাকার অধিকার এবং দুই কাজের অধিকার৷

Syamantak Ghosh
স্যমন্তক ঘোষ, ডয়চে ভেলেছবি: privat

মোহিতের সঙ্গে একমত আরও অনেক মনস্তত্ত্ববিদ৷ তাঁদের বক্তব্য, গত একশ বছরে মানুষ বিশ্ব জোড়া মহামারি বা প্যানডেমিক দেখেনি৷ রোগ হলে তার প্রতিকার আছে, এই ধারণা মানুষের মনের মধ্যে ঢুকে গিয়েছে৷ রোগ আছে, কিন্তু ওষুধ নেই এই ভাবনাটিই এক চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে মানুষের মধ্যে৷ তার উপর লকডাউনের কারণে মানুষ কাজ হারাতে শুরু করেছেন৷ প্রথম বিশ্বে তাও কাজের নিরাপত্তা আছে৷ কিন্তু তৃতীয় বিশ্বে সেটুকুও নেই৷ ফলে মানুষ দিশাহীন হয়ে পড়েছে৷ কাজ হারানো মানুষ বুঝতে পারছেন না কীভাবে সংসার চলবে৷ যাঁদের কাজ আছে, তাঁরা বুঝতে পারছেন না আগামীকাল তা থাকবে কিনা৷ এই পুরো বিষয়টি মানুষের মনের উপর প্রভাব ফেলছে৷ মানুষ মানসিক ভাবে হিংস্র হয়ে উঠছে৷ একই সঙ্গে বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা। গত প্রায় পাঁচ মাসের তথ্য সে কথাই খাতায় কলমে স্পষ্ট করছে৷

আবার বলছি, অপরাধ আগে ছিল না এমন নয়৷ কিন্তু অপরাধের চরিত্র বদলেছে গত তিন-চার মাসে৷ বেড়েছে সংখ্যায়৷ যত দিন যাবে, নিরাপত্তাহীনতা যত বাড়বে সংখ্যাও বাড়তে থাকবে৷ এটাই মনুষ্য সমাজের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

Spanien Halbjährlicher Turmwettbewerb in Tarragona

ইট নয়, মানুষের ওপর মানুষ সাজিয়ে ৪৩ ফুট উঁচু টাওয়ার  

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

প্রথম পাতায় যান