করোনা ভাইরাস, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক দূরত্বের কঠিন বাস্তবতা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 02.04.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

করোনা ভাইরাস, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক দূরত্বের কঠিন বাস্তবতা

করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচতে বারবার হাত ধোয়া এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সবার জন্যই কঠিন৷ তবে বিশ্বের ৪৫ কোটি মানুষ এ নিয়ে খুব বড় সংকটে পড়েছেন৷

ইয়াকুলিন ক্রুৎসমানের ঠান্ডা লেগেছে৷ মানুষ বাঁকা দৃষ্টিতে তাকাবে- এই চিন্তায় ঘর থেকে বের হচ্ছেন না৷ এদিকে ঘরে থাকতে বাধ্য হচ্ছে বলে শিশু সন্তানের অস্থিরতা, চঞ্চলতা অনেক গুণ বেড়েছে৷ সারা ঘর জুড়ে চলছে দাপাদাপি৷ সোফায় উঠে লাফালাফি করা খুব প্রিয় খেলা তার৷ কী করবেন ইয়াকুলিন? ওইটুকু বাচ্চাকে তো বেশি বকাঝকা করে লাভ নেই৷ তাই সোফা ছেড়ে বসে পড়লেন মেঝেতে৷ বড় বেশি অসহায় লাগছে তার!

৩৩ বছর বয়সি ইয়াকুলিন ২০ বছর ধরে মনোরোগে ভুগছেন৷ করোনা ভাইরাস তাকে এবং তার মতো সব মনোরোগীকে খুব বড় ধরনের সংকটে ফেলেছে৷

মহাসঙ্কটে ৪৫ কোটি মানুষ

এ মুহূর্তে বিশ্বের অন্তত ৪৫ কোটি মানুষ মনোরোগে ভুগছেন৷ ড্রেসডেন বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ডিপার্টমেন্ট অফ সাইকিয়াট্রি অ‌্যান্ড সাইকোথেরাপির সিনিয়র ফিজিশিয়ান এবং জার্মান সোসাইটি ফর সুইসাইড প্রিভেনশন-এর চেয়ারম্যান উটে লেভিৎসকা জানালেন, করোনা ভাইরাসের কারণে মনোরোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক বেড়েছে৷ তার কথায়, ‘‘যারা মনোরোগে ভুগছেন তাঁরা পিঠে একটা বাড়তি বোঝা বহন করেন৷ কখনো কখনো এমন সময় আসে যখন বোঝাটাকে তুলনামূলকভাবে হালকা মনে হয়৷ তখন দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ভালোভাবে খাপ খাওয়ানো যায়৷ তবে কখনো কখনো এমন সময়ও আসে যখন সেই বোঝাটাই অনেক বেশি ভারী মনে হয়৷ বাইরের চাপ বা চাপে থাকার মতো পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে তাদের জীবন তখন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে৷''

ইয়াকুলিন ভালোই ছিলেন৷ স্বাভাবিক নিয়মেই চলছিল জীবন৷ কিন্তু করোনাভাইরাস হঠাৎ বদলে দিয়েছে সবকিছু৷ এখন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ৷ কাজ করতে হয় ঘরে বসে৷ বন্ধু বা আপনজনদের ফোন করে মনটাকে একটু চাঙ্গা করে নিতেও তার বাধে৷ কেউ যদি বিরক্ত হয়? যদি বিষয়টাকে অন্যভাবে নেয়?

মনোরোগ, ডিপ্রেশন এবং বিপদ

কেউ কেউ করোনা ভাইরাসকে বড় বেশি ভয় পাচ্ছেন৷ চোখে দেখা যায় না, কোথায় আছে কোথায় নেই তা-ও বলা যায় না- এমন বিপদকে বেশি ভয় পাওয়া অস্বাভাবিক নয়৷ তবে শারীরিকভাবে সুস্থ হলে মনে জোর থাকে৷ দুর্বল শরীরের মনেরোগীদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বেশি বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা৷

থেরাপির পথেও করোনা ভাইরাসের বাধা

আগে চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করে পরামর্শ নেয়া যেতো৷ এখন রোগী আর চিকিৎসক দু'জনকেই সামাজিক দূরত্বের নিয়ম মানতে হচ্ছে৷

বিকল্প পথ

এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের সঙ্গে ফোনে বা ভিডিওকলে আলোচনা করাকে বিকল্প হিসেবে দেখছেন অনেকে৷ ‘হ্যালোবেটার' নামের অনলাইন পোর্টালের প্রতিষ্ঠাতা ও সায়েন্টিফিক ডিরেক্টর ডেভিড ড্যানিয়েল জানালেন, মনোরোগীদের সেবা দিতে টেলিফোন হটলাইন খুলেছেন তারা৷ সেখানে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে বিশেষ পরিস্থিতিতে সব সমস্যা থেকে নিজেকে দূরে রাখার পরামর্শ৷

দূর থেকে এভাবে পরামর্শ নেয়ায় অবশ্য ইয়াকঙলিন এবং তার মতো অনেকের আস্থা নেই৷

আনা কার্টহাউস/এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন