করোনা ভাইরাস: পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রা কি সম্ভব? | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 07.04.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

করোনা ভাইরাস: পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রা কি সম্ভব?

কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি মানুষ লকডাউনের কারণে ঘরবন্দী হয়ে পড়েছে৷ দৈনন্দিন জীবন এলোমেলো, সবাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছে৷

অদৃশ্য এই ভাইরাস পুরো বিশ্বকে আতঙ্কিত করে তুলেছে৷ এই সময়ে মানুষ স্বাভাকিভাবেই পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে না৷

তবে সংকটময় এই পরিস্থিতিতে আমরা যদি আমাদের পরিবেশবান্ধব অভ্যাসগুলো ত্যাগ না করি, সেটা বরং আমাদের উপকারেই আসবে৷ বিশ্বের কাছে একেবারে নতুন এই ভাইরাসের ওষুধ এখনো আবিষ্কার হয়নি৷ তাই আমাদের ঘরে থেকে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নীতি মেনে চলে এই ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হবে৷ এই ভাইরাস কিভাবে ছড়ায় সেটাও আমাদের জানতে হবে৷ পরিবেশ নিয়েও হতে হবে সচেতন৷  

প্লাস্টিকে মোড়ানো খাবার কি নিরাপদ?

লোকজন সাধারণত দোকানে প্লাস্টিকে মোড়ানো খাবার পরিষ্কার ও নিরাপদ মনে করে৷ মার্চের মাঝামাঝিতে ব্লুমবার্গএনইএফ-র এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা ভাইরাসের কারণে জীবাণুমুক্ত খাবার নিয়ে মানুষের মধ্যে যে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে তাতে খাবার প্লাস্টিকে মোড়ানোর প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে৷ কারণ, ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা যেসব সুরক্ষা উপকরণ ব্যবহার করছেন সেগুলো সব একবার ব্যবহার যোগ্য প্লাস্টিক৷ কাজেই খাবারের ক্ষেত্রেও মানুষ এই পথ অনুসরণ করতে পারে৷ 

 

যদিও ‘প্লাস্টিক কোনো কিছুকে পরিষ্কার ও নিরাপদ রাখতে পারে না’ বলে মনে করেন গ্রিনপিস ইউএসএ-র গবেষক আইভি স্লেগালের৷ 

তিনি বলেন, ‘‘এখন পর্যন্ত গবেষণাগারে করা নানা পরীক্ষায় দেখা গেছে অন্য যেকোনো উপাদানের থেকে প্লাস্টিকে করোনা ভাইরাস সবচেয়ে বেশি দিন বেঁচে থাকে৷’’ 

করোনা প্রাদুর্ভাবের পর থেকে সুপারমার্কেটগুলোতে দরজার হাতল, শপিং ট্রলি বা চেকআউট কার্ড টার্মিনাল কিছুক্ষণ পরপর মোছা এবং জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে৷ কিন্তু দোকানের প্রতিটি পাস্তার প্যাকেট, ক্যান বা প্লাস্টিকে মোড়ানো অন্যান্য খাবারের প্যাকেট কিছুক্ষণ পরপর পরিষ্কার করা এক কথায় অসম্ভব৷  

বোতলজাত পানি কি প্রয়োজন?

এ সময় প্লাস্টিকের বোতলজাত পানি খাওয়ারও প্রয়োজন নেই৷ বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলোতে৷ কারণ, ইউরোপিয়ান ফুড ইনফর্মেশন কাউন্সিল জানিয়েছে, যেহেতু ভাইরাস পানিতে কিছু সময় বেঁচে থাকতে পারে তাই বসতবাড়ির লাইনে পানি যাওয়ার আগে সেগুলো ফিল্টার করা ও জীবাণুমুক্ত করা হয়৷ ওই পানিতে করোনা ভাইরাস থাকে না৷ 

ভিডিও দেখুন 05:22

পলিথিনের বিকল্প পাটের ব্যাগ

পুনঃব্যবহারযোগ্য ব্যাগ বা কন্টেইনার কি ভাইরাস ছড়ায়? 

করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পুনঃব্যবহার যোগ্য কন্টেইনার ও ব্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়৷ কোথাও কোথাও প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা আপাতত তুলে নেওয়া হয় বা স্থগিত করা হয়৷ 

কিন্তু আসলেই কি এটা সঠিক সিদ্ধান্ত? এর পরিবেশবান্ধব বিকল্পই বা কি হতে পারে? কয়েকটি গবেষণায় বলা হয়েছে, পুনঃব্যবহার যোগ্য ব্যাগ বা কাপড়ের ব্যাগের মাধ্যমে ভাইরাস হয়তো ছড়াতে পারে৷ সেক্ষেত্রে সংক্রামণ এড়াতে আপনি সহজেই এ ধরণের ব্যাগ প্রত্যেকবার ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে পারেন৷ এমনকি বাজার করার পর বাড়িতে ফিরে ব্যাগ খালি করে সেটি দূরে বাড়ির কোনো কোণে সরিয়েও রাখতে পারেন৷ দুই-তিন দিনে ভাইরাস আপনা থেকেই মরে যাবে৷

কাঁচা বাজার এড়াতে খাবার কিনে খাওয়া কি উচিত?

লকডাউনের কারণে বেশিরভাগ রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে৷ এ অবস্থায় হোম ডেলিভারি দেওয়া খাবারের ব্যবসা বেশ ফুলেফেঁপে উঠেছে৷ বিশেষ করে ইউরোপে৷

ইউরোপের খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বলেছে, এখনো বিষয়টি প্রমাণিত না হলেও কাঁচা খাদ্য পণ্যের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে৷ কিন্তু আগুনের তাপে এই ভাইরাস মরে যায়৷ তাই ভালোভাবে রান্না করা খাবারে ভাইরাস থাকে না৷ তাছাড়া খাবার সঠিক নিয়মে প্যাকেট করলে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকিও অনেক কম৷ খাবারের দামও আগে দেওয়া যায় এবং দূরত্ব বজায় রাখতে খাবার দরজার সামনে রেখে যাওয়াও সম্ভব৷

তাই এভাবে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি খুবই কম৷ কিন্তু সেইসব প্লাস্টিকের বাক্স বা পিজা বক্সগুলোর কি হবে? রিসাইকেল করা যায় এমন উপাদান দিয়ে সেগুলো বানানো হলেও পরিবেশে তো জঞ্জাল বাড়ছে৷

মার্টিন কুয়েবলার/এসএনএল/কেএম

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন