করোনা ভাইরাস ও বিশ্বের ধর্মগুলো | বিশ্ব | DW | 19.03.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

করোনা ভাইরাস

করোনা ভাইরাস ও বিশ্বের ধর্মগুলো

পৃথিবীব্যাপী কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ায় অনেক ধর্মের আচারগুলোকে সে অনুযায়ী মানিয়ে নেয়া হচ্ছে৷ তবে বিশ্লেষকেরা সাবধান করছেন যে, এর মধ্যে যেন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব খোঁজা না হয়৷

গাজার গ্রেট মসজিদ

গাজার গ্রেট মসজিদ

ভোর হল রোমে৷ ভ্যাটিকানের দেয়ালে পরিবেষ্টিত এবং বাইরের দুনিয়া থেকে আলাদা পোপ এমন একটি ধর্মীয় আচার উদযাপন করছেন, যা করার কথা ছিল সমগ্র ইটালির৷  নানা জাতি ও বিশ্বাসের বিশপ ও চার্চ প্রধানরা একের পর এক তাদের সম্মিলনগুলো বাতিল করছেন৷

যুক্তরাষ্ট্রে অসংখ্য সিনাগগ বন্ধ হয়ে আছে৷ এই ক'দিন আগে ইহুদিদের পুরিম উৎসব কোনমতে পালিত হল৷ অথচ এটি কার্নিভালের মত মহাসমারোহে পালন করেন তারা৷ ভারতে হোলি উৎসবও নানান বিধিনিষেধের মধ্য দিয়ে উদাযাপিত হল৷

জার্মানির মুসলিমদের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল বলেছে, যদি স্বাস্থ্যগত কারণে বা কেউ যদি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, এমন সন্দেহ হয় তাহলে কোনো মসজিদ জুম্মা বা অন্য নামাজের জামাত বাতিল করতে পারবে৷

মুন্সটার থেকে ইসলাম গবেষক ও শিক্ষক মুহামাদ খোরশিদ সম্প্রতি মক্কায় ওমরাহ পালন আপাতত বন্ধ রাখার উদাহরণ দিয়ে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এটা সবচেয়ে সঠিক ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত এবং এতে বোঝা যায়, পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ৷’’

সব মিলিয়ে এটা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, চার্চ, সিনাগগ, মসজিদ, মন্দির সসব জায়গাতেই ধর্মীয় আচার পালনে কিছুটা খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে৷

ভিডিও দেখুন 00:51

করোনার কারণে মালয়েশিয়ায় মসজিদ বন্ধ (১৭.০৩.২০২০)

সম্প্রদায় ও সংবেদনশীলতা

চার্চ কিংবা অন্য উপাসনায়গুলোতে ধর্ম মূলত নির্দিষ্ট সম্প্রদায় ও তাদের সংবেদনশীলতার ওপর নির্ভর করে৷ যেমন, পবিত্র পাথরে, তোরাহ বা অন্য পবিত্র গ্রন্থে বা ক্রুশে অনেক মানুষের চুমু খাওয়া কিংবা একই পেয়ালা থেকে সবাই পান করা৷ এ সবই আপাতত বন্ধ৷

রোমের সেইন্ট পিটারস ক্যাথিড্রাল এখন পুরোপুরি বন্ধ৷ এছাড়া আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চার্চ যেমন, ভিয়েনায় সেইন্ট স্টেফেনসে প্রবেশ একদম কড়াকড়ি করা হয়েছে৷  ইসরায়েলে সিনাগগগুলোতে দর্শনার্থীর সংখ্যা একেবারে কমিয়ে দেয়া হয়েছে৷ মানুষ পবিত্র বস্তুগুলোতে চুমু খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন৷

সংকট গবেষক ফ্রাঙ্ক রোজেলিয়েব মনে করেন চার্চগুলো সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে৷ তিনি বলেন, ধর্মাবলম্বীদের প্রতি চার্চের কর্তব্য আছে৷ ঝুঁকির মাত্রা সম্পর্কে সবারই ধারণা হয়েছে, বিশেষ করে রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তা সহজেই যাচাই করা যাচ্ছে৷

রোজেলিয়েব আশা করেন, সেইন্ট পিটার'স চত্বরে ইস্টার সানডের সমাবেশও বাতিল করা হবে৷ ‘‘একটা ফুটবল ম্যাচের মতই ইস্টারের এই সমাবেশ৷ তাই এই বাতিল করা উচিত,’’ ডয়চে ভেলেকে বলেন তিনি৷ 

ধর্মান্ধতার ফল

করোনা ভাইরাস ছড়ানোতে কিছু মানুষের ধর্মান্ধতা কাজ করেছে৷ দক্ষিণ কোরিয়াতে খ্রিস্টানদের একটি সংঘ সরকারি নির্দেশ মানেনি এবং আক্রান্তের সংখ্যা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে৷ ইরানের কোম শহর পৃথিবীর শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম কেন্দ্র৷ সেখান থেকেও ব্যাপক ছড়িয়েছে করোনা ভাইরাস৷ সেখানে আয়াতোল্লাহরা কোয়ারেন্টাইনে যেতে চাননি৷ 

ভিডিও দেখুন 01:03

ইন্দোনেশিয়ায় মসজিদে জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে (১৩.০৩.২০২০)

ইউরোপের ইমামরা এদিক থেকে অনেকটা এগিয়ে৷ খোরশিদ মনে করেন তাঁরা ‘অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা' পালন করতে পারেন৷ এরই মধ্যে হাত মেলানো বন্ধ এবং বাড়ির বয়স্ক ও দুর্বলদের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখার ওপর জোর দিয়েছেন৷

ধংসতত্ত্বের বিরুদ্ধে সতর্কবাণী

করোনা ভাইরাসকে ঘিরে ষড়যন্ত্র তত্ত্বও চলছে বলে জানান খোরশিদ৷ ‘দক্ষিণের কয়েকটি দেশে’ এই মহামারীকে ‘আজাব’ বলে বর্ণনা করা হচ্ছে৷ খোরশিদ মনে করেন, এটি ইমামদের কর্তৃত্বের ‘অপব্যবহার’৷

যুক্তরাষ্ট্র ও ইটালির অনেক দক্ষিণপন্থি ক্যাথলিকের মাঝেও একরকমের অজ্ঞতা দেখা গেছে৷ এই মানুষগুলো করোনা মোকাবেলায় বিধিনিষেধগুলো নিয়ে অহেতুক ঝামেলা করেছেন৷ যখন ইটালিজুড়ে এপ্রিলের প্রথমভাগ পর্যন্ত চার্চ বন্ধের ঘোষণা আসে, তখন তারা আন্ডারগ্রাউন্ড চার্চ তৈরির পায়তারা করেন, যেমনটি কমিউনিজমের যুগে করা হয়েছিল৷

গবেষক রোজেলিয়েব মনে করেন, এ ধরনের আলোচনা ষড়যন্ত্রতত্ত্বকে উস্কে দেয়৷ তাঁর মতে, ভাইরাসের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন না তুলে ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোকে দায়িত্ব নিয়ে বাস্তবসম্মত প্রশ্নগুলো নিয়ে ভাবা উচিত৷ তা না হলে ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাসীদের আরো জায়গা করে দেয়া হবে৷ তিনি বলেন, ‘‘বিষয়টি এতটাই নাটকীয় হয়ে পড়েছে যে, পোপকেও এ নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে৷’’

ক্রিস্টোফ স্ট্র্রাক/জেডএ

৫ মার্চের ছবিঘরটি দেখুন...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন