করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকালে ধর্মীয় উপাসনা | বিশ্ব | DW | 30.03.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

মধ্যপ্রাচ্য ও জার্মানি

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকালে ধর্মীয় উপাসনা

করোনা ভাইরাস মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবন স্তব্ধ করে দিয়েছে৷ স্বাভাবিক নয় ধর্মীয় জীবনও৷ মধ্যপ্রাচ্যে মসজিদগুলোতে কিংবা জার্মানিতে চার্চগুলোতে কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে৷

বাগদাদের একটি মসজিদ

বাগদাদের একটি মসজিদ

কোভিড-১৯ এর কারণে সারাবিশ্ব যখন ধুকছে, তখন মধ্যপ্রাচ্যে ধর্মীয় নেতারা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো একেবারে ভিন্ন কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন৷ চরম এই অসময়ে বিশ্বাসীদের পথ দেখানোই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য৷ 

যেমন, কুয়েতে আযানের মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন এনে ঘরে বসে নামাজ আদায়ের কথা বলা হয়েছে৷ এক্ষেত্রে বিরল ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ঐতিহাসিক উদাহরণকে অনুসরণ করা হয়েছে৷

‘হাইয়া আলাস সালাহ' (নামাজের জন্য আসুন)-কে পরিবর্তন করে ‘আস সালাতু ফি বুয়ুতিকুম' (ঘরে নামাজ পড়ুন) বলা হয়েছে৷

ইরাকের গ্র্যান্ড আয়াতোল্লাহ আলি আল-সিস্তানি এ বিষয়ে বলেন, ‘পেশাদার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা' ধর্মীয় দায়িত্ব৷ তুরস্কের ধর্ম বিভাগের প্রেসিডেন্ট আলি এরবাস মহামারী থেকে বাঁচতে মহানবীর শিক্ষাকে অনুসরণ করার কথা বলেন৷

যদিও রাষ্ট্রগুলোর প্রশাসন ও ধর্ম বিষয়ক কর্তৃপক্ষ এই মহামারী রোধে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন, একটা বার্তা সবার জন্যই পরিষ্কার৷ তা হল, ঘরে থাকুন, অন্যের সঙ্গে দূরত্ব রাখুন এবং নিয়মিত হাত ধুতে থাকুন৷

‘‘মুসলিমরা আলাদা কেউ নন,'' ক্যালিফোর্নিয়া লুথারান বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মশিক্ষার সহকারী অধ্যাপক রোজ আসলান বলেন৷ ‘‘বেশিরভাগ মুসলিমরাই বাস্তবসম্মত চিন্তা করেন এবং অন্যদের মত ঘরেই থাকেন৷''

‘পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ'

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ধর্ম বিষয়ক কাউন্সিল একটি ফতোয়া জারি করেছে৷

বলা হয়েছে, ‘‘স্বাস্থ্য বিষয়ক রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা ও বিধি মেনে চলা এবং এই অসুখ যেন না ছড়ায় তার জন্য যথাযথ দায়িত্ব পালন করা সমাজের প্রত্যেক মানুষের ধর্মীয় কর্তব্য৷''

এই দায়িত্বগুলোর মধ্যে সাবান ও পানি দিয়ে বারবার হাত ধোয়ার কথা বলা হয়েছে৷ বলা হয়েছে, পরিচ্ছন্নতা ইসলামের শিক্ষা৷ 

অতীতেরশিক্ষা

বিশ্বের ইসলামিক কেন্দ্রগুলো যদিও নানা দিকনির্দেশনা দিচ্ছে, তাদের জন্য মসজিদ বা এতে জমায়েত আপাতত বন্ধ রাখা সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ অনেক সুন্নি ইসলাম বিশারদ এক্ষেত্রে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেবার কথা বলছেন৷

‘‘যেহেতু আমরা খুব কঠিন একটা পরিস্থিতিতে রয়েছি, প্লেগের সময়ে আগের মুসলিম স্কলাররা কী করেছেন তা এখনকার অনেকে নজরে আনছেন,'' আসলান বলেন৷ ‘‘সে সময়ের স্কলাররা জনগণের স্বাস্থ্যজ্ঞান সম্পর্কে কেমন পরামর্শ দিয়েছিলেন, সেগুলো নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করছেন৷''

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেয়া হলে তা বিশ্বাসীদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে৷

রমজানে কী হবে?

এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে মুসলিমদের পবিত্র রমজান মাস৷ এ সময়টি কেমন করে মধ্যপ্রাচ্য পালন করতে যাচ্ছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়৷ কিন্তু কিছু বিষয়ের প্রাথমিক আলোচনা চলছে, যেমন একসাথে সবাই একজায়গায় বসে ইফতার না করে ভার্চুয়াল জগতে যুক্ত থেকে করা যায় কি না৷

‘‘মুসলিমদের জন্য বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় এটি৷ এরা তখন অনেকে মিলে একসঙ্গে খান, একসঙ্গে ইফতার করেন এবং একসঙ্গে মিলে খুব ভক্তি ও আবেগ নিয়ে সঙ্গে নামাজ আদায় করেন,'' বলেন আসলান৷ ‘‘তাই (মধ্যপ্রাচ্যের) অনেকের কাছে ভার্চুয়াল জগতে একসঙ্গে ইফতার করা অদ্ভুত মনে হতে পারে৷ অনেকের পরিবারেই অনেক লোক থাকেন, তারা ভাগ্যবান৷ কিন্তু অনেকেই একা থাকেন৷ তাই এবার ঘরে ঘরে ইফতারের ধরন ভিন্ন হবে৷''

Trier | Live-Übertragung Gottesdienst

ট্রিয়ার শহরের একটি চার্চ থেকে লাইভ সম্প্রচার

জার্মানির চার্চগুলো কী করছে?

জার্মানিতে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ নিয়মিত চার্চে প্রার্থনা করতে যান৷ বয়স্করা বিশেষ করে যাজকদের কথা শুনতে চান৷

এ ব্যাপারে কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে৷ যেমন, ট্রিয়ার শহরে একটি চার্চ অনলাইনে ও টিভিতে চার্চসেবা প্রদান করছে৷

লাইপজিশের এভানজেলিকাল রিফর্মড চার্চের বিশপের প্রতিনিধি জেলমা ডর্ন বলেন,‘‘প্রত্যেক কথোপকথনের জন্য সব পর্যায়ে ধর্মোপদেশ সেবা দেয়া হচ্ছে৷''

২৯ বছর বয়সী ডর্ন অন্যদের মত জার্মানির লকডাউন জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছেন, যেখানে চার্চ ও অন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে৷ দু'সপ্তাহ আগে যখন এগুলো বন্ধ হয়ে যায় তখন থেকে ডর্ন ও অন্য ধর্মীয় নেতাদের জন্য মোবাইল ফোন হয়ে উঠেছে অন্যতম গুরত্বপূর্ণ টুল৷

ওবারহাউজেন শহর থেকে ক্যাথলিক যাজক ক্রিস্টোফ ভিচমান জানিয়েছেন, তাদের নিয়মিত রুটিন বদলে গেছে৷ ‘‘প্রতিদিন এখন ২৫ থেকে ৩০টি ইমেলের জবাব দিচ্ছি,'' বলেন তিনি৷

ভিচমান ফোনেও মানুষের সঙ্গে কথা বলেন৷ প্রশ্নের জবাব দেন৷ প্রতিদিন সন্ধ্যা সাতটায় তিনি ঘরে একটি মোমবাতি জ্বালিয়ে জানালায় রাখেন এবং প্রার্থনা করেন৷

এছাড়া অনেক কমিউনিটি আছে, যেখানে নিয়মিত চার্চের ঘন্টা বাজানো হয়৷ নিজেদের মধ্যে তারা খবরপত্র ও পোস্টকার্ড বিলি করেন৷ বয়স্কদের সহযোগিতা করতে স্বেচ্ছাসেবকদের আহ্বান জানান৷ 

এছাড়া অনলাইনে আলোচনা করা অথবা ফেসবুক, টুইটার বা ইনস্টাগ্রামে লাইভ স্ট্রিমিংও খুব জনপ্রিয় হচ্ছে৷ এমনকি পোপ ফ্রান্সিস, ভিয়েনার কার্ডিনাল ক্রিস্টোফ শ্যোনবর্ন ও কোলনের আর্চবিশপ রাইনার মারিয়া ভ্যোলকি ছিলেন লাইভে৷

ভিচমান জানান, অনলাইনে মানুষ সেবা পাচ্ছেন তা সত্য৷ তারপরও তারা তাদের চিরপরিচিত চার্চে আসতে চান, ঘন্টাধ্বনি শুনতে চান, শুনতে চান তাদের যাজকের কথা৷ ওবারহাউজেনের চার্চ প্রতি শনিবার একটি গণপ্রার্থনা প্রচার করা হবে, যেখানে চার্চ থেকে যাজক প্রার্থনা করবেন এবং বাড়ি থেকে সবাই যোগ দিতে পারবেন৷

লুইস স্যান্ডার্স, ক্রিস্টোফ স্ট্র্যাক/জেডএ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়