করোনা বাড়লেও উধাও কোভিড বিধি | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 28.10.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

করোনা বাড়লেও উধাও কোভিড বিধি

পশ্চিমবঙ্গে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ৷ তার মধ্যেই এসেছে শীতের আমেজ৷ বাঙালি পর্যটনে বেরিয়ে পড়েছে৷ তাতে করোনা বিধি লোপাট, যেন দেশ অতিমারি থেকে একেবারে মুক্ত! বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনও কোভিডকে উপেক্ষা করার সময় আসেনি৷

পশ্চিমবঙ্গে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ৷ তার মধ্যেই এসেছে শীতের আমেজ৷ বাঙালি পর্যটনে বেরিয়ে পড়েছে৷ তাতে করোনা বিধি লোপাট, যেন দেশ অতিমারি থেকে একেবারে মুক্ত! বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনও কোভিডকে উপেক্ষা করার সময় আসেনি৷

করোনার যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন মানুষ

উৎসবের মৌসমে নতুন করে থাবা বসিয়েছে কোভিড৷ ইতিমধ্যে কোথাও লকডাউন বা কোথাও কনটেইনমেন্ট জোন করেছে স্থানীয় প্রশাসন৷ পাশাপাশি তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কাকে পাত্তা না দিয়েই পর্যটনের ঢল নেমেছে সমতলের গ্রামীণ এবং পাহাড়ি এলাকাতে৷ শহরে তো বটেই, প্রতিদিনই নতুন করে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে পাহাড়েও৷ তা সত্ত্বেও নাগরিকেরা এখনো করোনা বিধিকে গ্রাহ্য না করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন৷ শহরের জনপ্রিয় টুরিস্ট স্পট, পার্কে সেই ছবিই ধরা পড়ল৷ দূরত্ব বিধি পালনের ব্যাপার নেই, এমনকি মাস্কও নেই শহরের অধিকাংশ মানুষের মুখে৷

স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধু দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তা নয়৷ গত কয়েক দিনে মৃতের সংখ্যাও দৈনিক ১০-এর উপরে থাকছে৷ বুধবার দপ্তরের বুলেটিন বলছে, রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৯৭৬৷ মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের৷ কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা-সহ কয়েকটি জেলায় বাড়ছে সংক্রমণ৷ এই বুলেটিন অনুযায়ী কলকাতায় ২৭২, উত্তর ২৪ পরগনায় ১৫৯ জন আক্রান্ত৷

এরই মধ্যে রিভেঞ্জ ট্যুরিজম নিয়ে সতর্ক করেছে আইসিএমআর৷ দীর্ঘদিন কোভিডের জেরে ঘরে বন্দি থাকা মানুষ নিয়ন্ত্রণ শিথিল হতে বেরিয়ে পড়েছে৷ ভিড় দেখা যাচ্ছে পর্যটনস্থলে৷ এতেই উদ্বিগ্ন আইসিএমআর৷ সম্প্রতি একটি জার্নালে প্রকাশিত কাউন্সিলের রিপোর্টে বলা হয়েছে, পর্যটন বেড়ে যাওয়ার ফলে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে৷ একই ছবি বিভিন্ন শহরে থাকা বিনোদন পার্কেও৷ সেখানেও মানুষের ঢল দেখা যাচ্ছে৷ পর্যটকের ভিড়ে থিকথিক করছে মিলেনিয়াম পার্ক, প্রিন্সেপ ঘাট থেকে নিউটাউন ইকো পার্ক, ভিক্টোরিয়া চত্বর৷ কোথাও বালাই নেই দূরত্ব বজায় রাখা বা মাস্ক পরার৷ ইকো পার্ক চত্বরে এলে বোঝার উপায় নেই, এই শহরে সাম্প্রতিক অতীতে কোভিডের প্রকোপে হাসপাতালের শয্যা থেকে অক্সিজেনের হাহাকার দেখা গিয়েছিল৷ দলবদ্ধ হয়ে ছবি তোলার প্রবণতায় শিশু থেকে বৃদ্ধ ৯০ শতাংশের বেশি মানুষের মুখে মাস্ক থাকছে না৷ এমনকি কোনো কড়াকড়ি নেই৷ খোদ নিরাপত্তারক্ষী কিংবা টিকিট কাউন্টারের কর্মীও মাস্ক পরেননি৷ তা হলে টোটোচালক বা চলমান চা বিক্রেতা থেকে সাধারণ দোকানি, তারা মাস্ক পরবেন কেন!

অডিও শুনুন 07:01

আইন বলবৎ করার দিকে প্রশাসন গাফিলতি দেখাচ্ছে: ডাঃ সুবর্ণ গোস্বামী

ইকো পার্কে ঘুরতে আসা বেহালার স্বপ্না সাউয়ের মুখে মাস্ক ছিল না৷ তিনি বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন পরে বেড়াতে বেরিয়েছি৷ ঘরে একটানা থাকতে ভাল লাগছিল না৷ এখন তো করোনা নেই, তাই মাস্ক পরিনি৷’’

এই প্রবণতা মারাত্মক হতে পারে৷ আইসিএমআর গাণিতিক মডেল অনুসরণ করে বলেছে, কোনো একটি জায়গায় হঠাৎ জনঘনত্ব বেড়ে গেলে সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায়৷ তাতেই এগিয়ে আসতে পারে তৃতীয় ঢেউ৷ তার উপর যদি মাস্ক ব্যবহার বা সামাজিক দূরত্ব পালনের ক্ষেত্রে অবহেলা দেখা যায়, তার ফল মারাত্মক হতে পারে৷ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুবর্ণ গোস্বামী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘অনেক মানুষের টিকা হয়ে গিয়েছে, ফলে তারা করোনায় আক্রান্ত হলেও অ্যাসিম্পটোমেটিক থাকছেন৷ মৃদু উপসর্গ বুঝতে পেরেও তারা যথেচ্ছে ঘুরে বেড়াচ্ছেন৷ এতেই করোনা আরও ছড়াচ্ছে৷ তার মধ্যে অনেকেই ঠিকঠাক মাস্ক পরছেন না৷ এতে যাদের টিকা নেওয়া হয়নি, তারা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন৷’’

অর্থনীতিকে চাঙা করে তোলার জন্যই কোভিড নিয়ন্ত্রণবিধি দেশ জুড়ে শিথিল করে পর্যটনশিল্পকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে৷ কেন্দ্রীয় সরকার আবার পর্যটন ভিসা দেওয়া শুরু করার কথা জানিয়েছে৷ এমনকি একটি টিকার ডোজ থাকলেও দিঘা সফর করতে পারবেন বলে জানিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন৷ হোটেল বা রিসর্টগুলিতে পর্যটকদের সাবধানতা অবলম্বন করার কথা বলা হলেও সেটা কি মানা হচ্ছে? হোটেল মালিকরা জানান, টিকার শংসাপত্র জমা দিয়ে পর্যটকেরা আসছেন বটে, কিন্তু তারা মাস্ক পরছেন না বা দূরত্ববিধি মানছেন না৷ এই গাফিলতি রোখার উপায় নেই? ডাঃ সুবর্ণ গোস্বামী বলেন, ‘‘পুজোর আগে থেকেই এই বেরোনোর হিড়িক শুরু হয়েছে৷ এপিডেমিক অ্যাক্ট, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট চালু আছে, কিন্তু প্রশাসন চোখ বন্ধ করে আছে৷ সবটা সচেতনতা দিয়ে হয় না৷ আইন বলবৎ করার দিকে প্রশাসন গাফিলতি দেখাচ্ছে৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়