করোনা পরিস্থিতি গুরুতর, লকডাউন সমাধান নয় | বিশ্ব | DW | 07.04.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

করোনা পরিস্থিতি গুরুতর, লকডাউন সমাধান নয়

বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি গুরুতর বলে অভিমত দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা৷ তারা মনে করেন এই পরিস্থিতিতে লকডাউনের চেয়ে স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে মানা সবচেয়ে জরুরি৷

গত ২৪ ঘন্টায় বাংলাদেশে করোনায় আরো ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ আক্রান্ত হয়েছেন সাত হাজার ৬২৬ জন৷ সুস্থ হয়েছেন তিন হাজার ২৫৬ জন৷ আগের দিন মঙ্গলাবার একদিনে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ৬৬ জন মারা যান৷ এর আগে গত বছরে ৩০ জুন এক দিনে ৬৪ জন মারা যান৷

বাংলাদেশে এখন টেস্ট অনুপাতে শনাক্তের হার ২২.০২ ভাগ৷ আর মৃত্যুর হার শতকরা ১.৪৩ ভাগ৷ গত চার সপ্তাহে বাংলাদেশে এক লাখেরও বেশি আক্রান্ত হয়েছে৷ এখন প্রতিদিন গড়ে ৬০ জনের বেশি মারা যাচ্ছেন৷ গড়ে প্রতিদিন সাত হাজারের বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন৷

বাংলাদেশে এপর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ৯ হাজার ৪৪৭ জন৷ আক্রান্ত হয়েছেন ছয় লাখ ৫৯ হাজার ২৭৮ জন৷ সুস্থ হয়েছেন পাঁচ লাখ ৬১ হাজার ৬৩৯ জন৷

এদিকে করোনা চিকিৎসার জন্য আইসিইউ বেডের সংকট আরো তীব্র হয়েছে৷ গত ২৪ ঘন্টায় পুরো ঢাকায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ বেড খালি ছিলো মাত্র ১১টি৷ ঢাকার বাইরে আইসিইউ বেড খালি থাকলেও চিকিৎসকেরা গুরুতর করোনা রোগীদের ঢাকায় চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে৷

অডিও শুনুন 06:07

‘করোনার এই দ্বিতীয় ওয়েভ অনেকটা সুনামির ঢেউয়ের মতো’

করোনার সার্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করে আইইডিসিআর-এর উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন  বলেন, ‘‘করোনা রোগীদের জন্য আরো আইসিইউ বেড প্রয়োজন৷ কিন্তু তার আগে প্রয়োজন সংক্রমণ কমানো৷ এটা কমানো না গেলে কত আইসিইউ বেড বাড়ানো যাবে? এরও তো একটা সীমাবদ্ধতা আছে৷''

তার মতে, আক্রান্ত ১০ শতাংশের বেশি হলে করোনার উচ্চ ঝুঁকি বলা হয়৷ সেখানে বাংলাদেশে আক্রান্তের হার ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে৷ আক্রান্ত এবং মৃত্যু দুইটিই এখন আরো বাড়ছে৷ ‘‘করোনার এই দ্বিতীয় ওয়েভ অনেকটা সুনামির ঢেউয়ের মত৷ ঢেউ বড় হচ্ছে৷''

করোনা সংক্রান্ত জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য এবং বিএসএমইউ এর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘‘এখন পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর৷ ভয়াবহ বলা ঠিক হবে না৷ কারণ ভয়াবহ তো চূড়ান্ত খারাপ পর্যায়৷ এখন ভয়াবহ বললে এখনকার চেয়ে পরিস্থিতি আরো খারাপ হলে তখন কী বলব৷''

তার মতে, করোনার এই পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রস্তুতি এখন নাজুক পর্যায়ে রয়েছে৷ কারণ যে লকডাউন দেয়া হয়েছে তা যে ঠিক হয়নি দুইদিন পর গণপরিবহন আবার চালুর মধ্য দিয়েই তা বোঝা গেছে৷ যেটা প্রয়োজন তা হলো স্বাস্থ্য সচেতনতা৷ বাংলাদেশের মত দেশে করোনা প্রতিরোধে এটাই সর্বোত্তম ব্যবস্থা৷ কারণ  লকডাউনে গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষ বিপদে পড়ে৷ তাদের তো আর আর্থিক বা খাদ্য সহায়তা দেয়া হয় না৷

অডিও শুনুন 06:29

‘এখন পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর৷ ভয়াবহ বলা ঠিক হবে না’

ডা. মুশতাক হোসেনও মনে করেন, স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মানলেই করোনার সংক্রমণ কমিয়ে আনা সম্ভব৷ পুরো বাংলাদেশকে লকডাউনের আওতায় আনার দরকার নাই৷ এটা সম্ভবও নয়৷ খুব প্রয়োজন হলে ভয়াবহ আক্রান্ত কোনো এলাকা চিহ্নিত করে লকডাউন করা যায়৷ তবে তা করলে করতে হবে লকডাউনের নিয়ম মেনে, ঢিলেঢালা নয়৷ তা না হলে কাজে আসবে না৷

এই দুইজন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ জানান, করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে হলে এটা যাতে ছড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা নিতে হবে৷ আর মানুষের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়ে সংক্রমণ ঠেকানো যায়৷ মার্কেট খোলা রেখে যদি সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা যায়, মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, হাত ধোয়া নিশ্চিত করা যায় তাহলে করোনা ছাড়াতে পারবে না৷ সংক্রমণ কমবে৷ গণপরিবহনেও তাই৷ জনসমাগম বন্ধ করতে হবে৷ দূরত্ব বজায় রেখে রাস্তা দিয়ে কেউ হেঁটে গেলে সমস্যা নাই৷ সমস্যা হলো ভিড় করলে৷

তাই করোনায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী নামানোর পরামর্শ দেন ডা. নজরুল ইসলাম৷ তিনি বলেন, ‘‘কেউ যদি মাস্ক ছাড়া রাস্তায় বের হন আর সেনা সদস্যরা যদি তাকে বুঝিয়ে মাস্ক পরিয়ে দেন তাহলে তিনি নিয়মিত মাস্ক পরবেন বলে আমার বিশ্বাস৷ জনসমাগম এড়িয়ে চলবেন৷ ভয় ছড়িয়ে নয়, মানুষকে বোঝাতে হবে, উদ্বুদ্ধ করতে হবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে৷''  এর সঙ্গে প্রয়োজন মানুষের সহযোগিতা, বললেন তিনি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়