করোনা টেস্টের ফি নির্ধারণ, বিশেষজ্ঞদের ভিন্ন মত | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 29.06.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

করোনা টেস্টের ফি নির্ধারণ, বিশেষজ্ঞদের ভিন্ন মত

বুথে ২০০ টাকা আর বাসায় গিয়ে নমুনা নিলে ৫০০ টাকা ফি নির্ধারণ করেছে সরকার৷ এর ফলে করোনা বিস্তারের সঠিক চিত্র আর পাওয়া যাবে না, বলে মনে করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম৷

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ অধিশাখা থেকে সোমবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আরটি-পিসিআর টেস্টের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নির্ণয় করা হয়৷ বর্তমানে এ পরীক্ষা সরকার বিনামূল্যে করার সুযোগ দিচ্ছে৷ ফলে কোনো উপসর্গ ছাড়াই অধিকাংশ মানুষ এ পরীক্ষা করানোর সুযোগ গ্রহণ করছেন৷ এ অবস্থায় কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য অপ্রয়োজনীয় টেস্ট পরিহার করার লক্ষ্যে অর্থ বিভাগের গত ১৫ জুনের এক স্মারকের সম্মতির পরিপ্রেক্ষিতে আরটি-পিসিআর পরীক্ষার জন্য ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ফি নির্ধারণ করা হলো৷

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, আরটি-পিসিআর পরীক্ষার জন্য আদায় করা অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করতে হবে৷ ‘চিকিৎসা সুবিধা বিধিমালা ১৯৭৪'-এর আওতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য চিকিৎসা সংক্রান্ত সব সুযোগ-সুবিধা বহাল থাকবে৷ এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা, দুঃস্থ ও গরিব রোগীদের চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সংক্রান্ত সরকারি আদেশ বহাল থাকবে৷ হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নমুনা পরীক্ষাতেও খরচ হবে ২০০ টাকা৷ সরকারি সব হাসপাতালের জন্য এ ফি প্রযোজ্য হবে৷

অডিও শুনুন 02:01

জনস্বার্থের কথা চিন্তা করেই এই ফি নির্ধারণ: আব্দুল মান্নান

কেন ফি নির্ধারণ করতে হলো? প্রেক্ষাপট কী? জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল মান্নান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘জনস্বার্থের কথা চিন্তা করেই এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে৷ এখন যাদের প্রয়োজন নেই তারাও বিনা কারণে একাধিকবার টেস্ট করাচ্ছেন৷ ফি নির্ধারণের ফলে যাদের প্রয়োজন নেই তারা আর টেস্ট করাতে যাবেন না৷’’

অনেক মানুষের তো ২০০ টাকা দিয়ে টেস্ট করানোর সামর্থ্য নেই? যারা খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা কীভাবে টেস্ট করবেন? জবাবে সচিব বলেন, ‘‘২০০ টাকা দেওয়ার সক্ষমতা আছে৷ একজন রিক্সাচালক কত টাকা আয় করেন? করোনার মধ্যেও কিন্তু রিক্সা চলছে৷ সরকার মনে করছে, ন্যূনতম একটা ফি থাকলে যাদের প্রয়োজন নেই, তারা আর টেস্ট করাতে যাবেন না৷’’

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম৷ তিনি বলেন, ‘‘একটা টেস্টের পেছনে সরকারের ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়৷ সেখানে ২০০ টাকা নিয়ে কতটা এগুবে? বরং ফ্রি থাকলে ধনী-গরীব সবাই টেস্ট করাতে যেতেন৷ এখন যার খাবারেরই সমস্যা তিনি কীভাবে টেস্ট করাতে যাবেন? সবাই টেস্ট করাতে না গেলে সমাজের আসল চিত্রটা জানা যাবে না৷ আর টেস্ট করানোর দায়টা তো স্বাস্থ্য বিভাগের৷ জনগণ বুথে এসে নমুনা দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করছে৷ তাহলে যে আপনাকে সহযোগিতা করছে, তার কাছ থেকে উলটো পয়সা নেবেন? আর এই সিদ্ধান্তটা অসাংবিধানিকও৷ সংবিধানে সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবার কথা বলা আছে৷ এখন এই সেবাটা আর সবার থাকলো না৷’’

ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘‘এখন শুধু যাদের ফি দেওয়ার ক্ষমতা আছে তারাই করোনা পরীক্ষা করবেন৷ যাদের সংসার চলছে না, ২০০ টাকা হলে ৫ কেজি চাল কিনতে পারেন- এমন কেউ আর পরীক্ষা করাতে যাবেন না৷ ফলে সমাজে করোনা বিস্তৃতির সঠিক চিত্রটা আর পাওয়া যাবে না৷ শুধুমাত্র পয়সাওয়ালাদের মধ্যে কী পরিমাণ বিস্তৃতি লাভ করেছে সেটাই জানা যাবে৷ সারাদেশের প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে কোনো ধরনের পরিকল্পনার সুযোগও আর থাকলো না৷’’

অডিও শুনুন 04:28

এখন এই সেবাটা আর সবার থাকলো না: ডা. নজরুল ইসলাম

বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলালও মনে করছেন, ফি নির্ধারণ না করলেই ভালো হতো৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘বিনা কারণে অনেকেই টেস্ট করাচ্ছেন এটা যেমন সত্যি, তেমনি ২০০ টাকা দিয়ে টেস্ট করানোও অনেকের জন্য কঠিন৷ এটাও মানতে হবে৷ তারপরও আমি মনে করি, সরকার তো কতকিছুতেই ভরতুকি দিচ্ছে, তাহলে এই টেস্ট ফ্রি রাখলেই ভালো হতো৷’’

বাংলাদেশে প্রথম কোভিড-১৯ এর নমুনা পরীক্ষা হয় ২১ জানুয়ারি৷ প্রথম দিকে শুধু রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পরীক্ষা করা হলেও সংক্রমণ বাড়তে থাকায় এপ্রিলের শুরুতে ল্যাবের সংখ্যা বাড়ানো হয়৷ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ৷ এরপর ২৯ এপ্রিল প্রথমবারের মতো চারটি বেসরকারি হাসপাতালকে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার সুযোগ দেয় সরকার৷ পরে আরও কয়েকটি হাসপাতালে পরীক্ষা শুরু হয়৷ এসব হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষার জন্য সাড়ে ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার৷ তবে বেসরকারি হাসপাতালগুলো থেকে বাসায় গিয়ে নমুনা নিলে সাড়ে ৪ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে৷

বর্তমানে দেশের ৬৮টি ল্যাবে কোভিড-১৯ এর নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে৷ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নমুনা পরীক্ষার কিট সরবরাহ করছে সরকার৷ এখন দৈনিক নমুনা পরীক্ষা ১৮ হাজার ছাড়িয়েছে৷ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে মোট ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৩৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন