করোনা: ইটালিতে মৃত্যু ছাড়ালো হাজার, ভারতে প্রথম মৃত্যু | বিশ্ব | DW | 13.03.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

করোনা ভাইরাস

করোনা: ইটালিতে মৃত্যু ছাড়ালো হাজার, ভারতে প্রথম মৃত্যু

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে প্রথম মৃত্যু হল ভারতে। ইটালিতে এক দিনে সব চেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সব চেয়ে বেশি মৃত্যু দেখল ইটালি। একদিনে মারা গেলেন ১৮৯ জন। মোট মৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেল। ইটালির প্রশাসন জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত সে দেশে মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ১৬ জনের। আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ হাজার ১১৩। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বৃহস্পতিবারই করোনাকে মহামারি ঘোষণা করেছিল। শুক্রবার তারা জানিয়েছে, গোটা বিশ্বে এখনও পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে চার হাজার ৬০০ লোকের। আক্রান্ত এক লক্ষ ২৬ হাজার মানুষ। তবে করোনার হাত থেকে বেঁচে ফিরেছেন ৬৮ হাজার জন। এ দিকে বৃহস্পতিবারেই আইসোলেশনে চলে গিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। যদিও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সুস্থই আছেন। তাঁর স্ত্রী জ্বরে আক্রান্ত। দু'জনেরই করোনার পরীক্ষা হয়েছে। তবে রিপোর্ট এখনও আসেনি। করোনার পরীক্ষা হয়েছে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বোলসোনারোর। এ দিকে এই প্রথম করোনায় আক্রান্তের মৃত্যু হল ভারতে। কর্ণাটকে করোনা আক্রান্ত একজন মারা গিয়েছেন।

ইটালির অবস্থা ভয়াবহ। সপ্তাহের শুরুতেই গোটা দেশকে অবরুদ্ধ করার ডিক্রি জারি করেছিল ইটালির সরকার। কিন্তু তাতেও এখনও পর্যন্ত কোনও লাভ হয়নি। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু বেড়েছে ২৩ শতাংশ হারে। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ২১ শতাংশ হারে। জরুরি ব্যবস্থা ছাড়া বন্ধ সব কিছু। কার্যত গৃহবন্দি হয়ে আছে গোটা দেশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এপ্রিল পর্যন্ত এই অবস্থা চলবে ইটালিতে। ইরানের অবস্থাও একই রকম। সূত্র জানাচ্ছে, সে দেশে সুপ্রিম লিডারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে গোট দেশে। একই অবস্থা দক্ষিণ কোরিয়ার। এরই মধ্যে করোনা সংক্রমণ আটকাতে পর্তুগালে সমস্ত স্কুল, কলেজ, নাইট ক্লাব বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেলজিয়ামেও স্কুল, রেস্তোরাঁ বন্ধ করার নির্দেশ জারি হয়েছে। কোস্টারিকায় সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কাতারে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সিনেমা হল।

করোনার সংক্রমণে আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারতও। এখনও পর্যন্ত ভারতে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৪। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীর কাছে আপাতত সমস্ত রকম জমায়েত বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়েছেন। বেঙ্গালুরুতে ফের একজনের শরীরে ভাইরাসের জীবাণু মিলেছে। তবে এখনও পর্যন্ত ভারতে দ্রুত হারে করোনা ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। দিল্লিতে সব স্কুল, কলেজ, সিনেমা হল ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

অ্যামেরিকায় করোনা নিয়ে আতঙ্ক আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। একটি রিপোর্ট বলছে, আগামী এক মাসে অ্যামেরিকায় প্রায় ১৫ কোটি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন। অর্থাৎ, দেশের ২০ থেকে ৪৫ শতাংশ মানুষের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা। যুক্তরাজ্যেও আগামী ১০ থেকে ১৪ সপ্তাহের মধ্যে করোনার প্রভাব সর্বাধিক হবে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে। জার্মানিতে করোনার প্রভাব সর্বাধিক হওয়ার কথা এপ্রিল মাসে। দেশের চ্যান্সেলর জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে ভাবে এই মহামারি গোটা পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে অচিরেই গোটা পৃথিবীর অবস্থা ইটালির মতো হতে চলেছে। এর মধ্যেই তার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। বহু দেশ বিদেশিদের ভিসা বাতিল করে দিচ্ছে। নিজেদের নাগরিকদেরও অন্য দেশে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। দেশের ভিতরেও নিয়ন্ত্রিত যাত্রার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে যত দিন যাচ্ছে, ততই ভয়াবহ চেহারা ধারণ করছে করোনা।

এসজি/জিএইচ(এপি, এএফপি, রয়টার্স, পিটিআই)

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন