‌করোনা, আমফান, সব নিয়ে তরজাই সার!‌ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 29.05.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

‌করোনা, আমফান, সব নিয়ে তরজাই সার!‌

হাস্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে পশ্চিমবঙ্গে শাসকদল এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক তরজা৷ লক ডাউন কার্যকর না হওয়া, প্রবাসী শ্রমিকদের ফেরানো নিয়ে বিতর্ক থেকে শুরু করে আমফান পরবর্তী ত্রাণ, সব নিয়েই খেয়োখেয়ি চলছে৷

রাণাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার সম্প্রতি করোনা আক্রান্তদের একটি কোয়ারান্টিন সেন্টার পরিদর্শনে যান৷ সেই দিনই সন্ধেয় তিনি একটি নোটিস পান, যাতে তাকে ১৪ দিনের কোয়ারান্টিনে যেতে বলা হয়েছে৷ কারণ, তিনি আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসেছেন৷ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির অভিযোগ, রাণাঘাটের তৃণমূল নেতারাও ওই একই সেন্টারে গিয়েছিলেন, কিন্তু তাদের কাউকে ওরকম নোটিস পেতে হয়নি৷ বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি দিলীপ ঘোষ তার নিজের নির্বাচনি এলাকায় যেতে গিয়ে বাধা পান সম্প্রতি৷ শুক্রবার তৃণমূল সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়কেও বাধা দেয় পুলিশ৷ নিজের নির্বাচনি এলাকায় আমফান দুর্গতদের ত্রাণ বিলি করতে যাচ্ছিলেন লকেট৷ এই সব ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে রাজ্যে বামফ্রন্ট আমলের কথা, যখন বিরোধী নেত্রী মমতা ব্যানার্জির গতিবিধি একইভাবে আটকানোর চেষ্টা করত সরকার৷

ভিন রাজ্যে আটকে পড়া প্রবাসী বাঙালি শ্রমিকদের ঘরে ফেরানো নিয়েও কেবল রাজনীতিই হয়ে চলেছে৷ প্রথমে অভিযোগ ছিল, রাজ্য ফেরাতে আগ্রহী, কিন্তু কেন্দ্র ব্যবস্থা নিচ্ছে না৷ শ্রমিকদের ট্রেনের টিকিটের টাকা কে দেবে, সেই নিয়ে এর পর তরজা চলল কিছুদিন৷ আর সর্বশেষ পরিস্থিতি হলো, এখন একের পর এক ট্রেন শ্রমিকদের নিয়ে অন্য রাজ্য থেকে আসছে এবং শোরগোল হচ্ছে যে, ওই শ্রমিকদের সঙ্গেই করোনার ভাইরাস আসছে পশ্চিমবঙ্গে৷ বিরোধী বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, প্রবাসী শ্রমিকদের করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা না করেই যেতে দিচ্ছে সরকার৷ ফলে রাজ্যে করোনার যে প্রকোপ বাড়ছে, তার জন্যে সরকারই কার্যত দায়ী৷ এদিকে বামপন্থিদের বক্তব্য, সাধারণ গরিব মানুষ, শ্রমিক–কৃষকের স্বার্থ অবহেলায় বিজেপি আর তৃণমূলে কোনো তফাত নেই!‌ 

অডিও শুনুন 03:41

‘বিরোধীদের কোনও প্রস্তাবই শাসকদল গ্রহণ করেনি’

‘‌‘‌সর্বদলীয় সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতির মোকাবেলার জন্য যেটা করা প্রয়োজন, সেটার দায়িত্ব থাকে শাসকদলের ওপরে৷ রাজ্যের শাসকদল একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছিল৷ এবং সর্বদলীয় বৈঠকে বিরোধীদের দেওয়া কোনো প্রস্তাবই বর্তমান শাসকদল গ্রহণ করেনি৷’’ সরাসরি অভিযোগ করলেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য৷ বললেন, ‘‌‘‌করোনার শুরু থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বললেন, করোনা কিচ্ছু নয়৷ দিল্লিতে গণহত্যা হয়েছে৷ সেই গণহত্যার থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতে করোনা করোনা বলা হচ্ছে৷ করোনা বলে কিছু নেই৷ তার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হলো৷ বিভিন্ন জায়গায় মৃত্যুর সংখ্যাকে চাপা দিতে গিয়ে, পরিস্থিতি আজকে এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যে it's a mess, a terrible mess!‌

গোটা রাজ্যে করোনা পেশেন্টের জন্য বেড হচ্ছে ৮০৭০৷ প্রাইভেট হসপিটাল ওভার ক্রাউডেড৷ এক্সহস্টেড, তাদের পুরো ক্যাপাসিটি৷ একটা টেস্টের রিপোর্ট, যেখানে অন্যান্য প্রদেশে, যদি তামিলনাড়ুর সঙ্গে কমপেয়ার করেন, তামিলনাড়ুতে বেলা বারোটার সময় টেস্ট করলে রাত্তির সাড়ে দশটা এগারোটায়, আর যদি বারোটার পরে টেস্ট হয়, তা হলে (‌সকাল) ‌ছটার মধ্যে রিপোর্ট চলে আসছে মেলে, হোয়াটস্‌অ্যাপে৷ এখানে টেস্ট হচ্ছে, কোনও কোনও ক্ষেত্রে পাঁচ দিন পরে রিপোর্ট আসছে৷ তিনদিনের আগে কোনো রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে না৷ প্রাইভেট হসপিটাল, তারাও ৪৮ ঘণ্টায় টেস্টের রিপোর্ট দিচ্ছে৷’’

বিজেপি নেতার এই অভিযোগ যে ভিত্তিহীন নয়, তা বোঝা যাচ্ছে সোশাল মিডিয়ায় বিভিন্ন জনের অভিজ্ঞতা থেকে৷ শুধু করোনা পরীক্ষা ব্যবস্থার অপ্রতুলতা নয়, অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, বা ন্যুনতম চিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে মারা যাচ্ছেন৷ এদিকে করোনা লকডাউন এবং আমফান বিপর্যয়ে রাজ্যের মানুষের দুর্দশার খবর যাতে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ না পায়, তার জন্যেও চাপ আছে বলে অভিযোগ৷ একটি বাংলা দৈনিকের সম্পাদককে পুলিশের ডেকে পাঠানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন