করোনায় হাঁসফাঁস করছে মধ্যবিত্ত | আলাপ | DW | 03.07.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

করোনায় হাঁসফাঁস করছে মধ্যবিত্ত

করোনাকালে গরিবের জন্য খাদ্য ও অর্থ সহায়তা আছে৷ উচ্চবিত্তের জন্য আছে শিল্পের প্রণোদনা৷ কিন্তু মধ্যবিত্তের জন্য কী আছে?

বিশ্বব্যাংক আর গবেষকরা মধ্যবিত্তের একটা চেহারা দাঁড় করিয়েছেন আয় অথবা ক্রয় ক্ষমতা দিয়ে৷ কিন্তু বাংলাদেশে এই করোনায় ঢাকা শহরের মধ্যবিত্ত চেনা যাচ্ছে ভাড়া বাড়ি ছেড়ে গ্রামে যাওয়ার মধ্য দিয়ে৷ কারণ, মধ্যবিত্ত ত্রাণের লাইনে দাঁড়াতে পারেন না৷ অভাবের কথা মুখ ফুটে বলতেও পারেন না৷ মধ্যবিত্তের অবস্থান মাঝখানে৷ তাই না পারে নীচে নামতে , না পারে উপরে উঠতে৷ এই করোনাকালে তাই সে হাঁসফাঁস করছে মধ্যবিত্ত৷
এখন আমরা যাদের দেখছি, তারা সংজ্ঞায়িত হয়েছে মধ্যবিত্তের প্রথম টায়ার হিসেবে৷ তবে এই করোনা যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে আরো পরের টায়ারেও আঁচ লাগবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা৷

কারা মধ্যবিত্ত?
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ খানা জরিপ অনুযায়ী করোনার আগে বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর ২০.৫ ভাগ দারিদ্র্য সীমার নীচে ছিল৷ আর চরম দরিদ্র ছিল ১০ ভাগ৷
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, এক জনের দৈনিক আয় এক ডলার ৯০ সেন্ট হলে ওই ব্যক্তিকে দরিদ্র  ধরা হয় না৷ এর নীচে হলে দরিদ্র৷ এখন মধ্যবিত্তের আয়সীমা কত? এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বলছে, এক ব্যক্তির ক্রয় ক্ষমতা (পিপিপি) যদি প্রতিদিন দুই মার্কিন ডলার থেকে ২০ মার্কিন ডলারের মধ্যে হয় তাহলে তাকে মধ্যবিত্ত বলা যায়৷ এই হিসেবে তারা বলছে, বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত হলো তিন কোটি ৭ লাখ৷ বিশ্বব্যাংকের মধ্যবিত্তের আয়ের হিসেবটি একটু বেশি৷ যাদের প্রতিদিন আয় ১০ থেকে ৫০ ডলার, তারা মধ্যবিত্ত৷
তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দুই থেকে চার ডলার প্রতিদিনের আয় হলেই  মধ্যবিত্ত৷ সেই হিসেবে যার মাসিক আয় ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা সেই মধ্যবিত্ত৷ এটা বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৩০ ভাগ৷ ১৬ কোটি মানুষের হিসেবে সংখ্যাটি দাঁড়ায় চার কোটি ৮০ লাখ৷
বিআইডিএস-এর সাম্প্রতিক জরিপে বলা হচ্ছে, করোনায় এক কোটি ৬৪ লাখ মানুষ নতুন করে গরিব হয়েছে, দারিদ্র্য সীমার নীচে নেমে গেছে৷ তাই এখন দেশে গরিব মানুষের সংখ্যা পাঁচ কোটির বেশি৷


মধ্যবিত্তকিদরিদ্রহচ্ছে?
এই যে দেড় কোটি লোক নতুন করে দরিদ্র হলেন, তারা কি মধ্যবিত্ত ছিলেন? চট করে এর জবাব দেয়া কঠিন৷দারিদ্র্য সীমার একটু উপরে একটি বড় জনগোষ্ঠী আছে৷ তারা যে কোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাকে দরিদ্র হয়ে যান৷ আবার পরে পরিস্থিতি কটিয়ে ওঠেন৷ ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন পরিচালক কে এ এম মোরশেদ বলেন, ‘‘দিনে ১.৯ ডলারের দ্বিগুণ যাদের আয় তাদের আমরা বলি নিম্ন মধ্যবিত্ত৷ এরাই এখন সবচেয়ে বেশি সংকটের মুখে আছেন৷ তারাই হয়তো দরিদ্রের কাতারে নেমে গেছেন৷ কিন্তু যারা মধ্যবিত্ত, তারা এখনো টিকে আছেন৷ তাদের সংখ্যা হয়তো ঠিকই থাকবে৷ হয়তো ব্যক্তির পরিবর্তন হবে৷ কারণ, নতুন পরিস্থিতিতে পেশার পরিবর্তন হবে৷ নতুন ধরনের ব্যবসা আসবে, কাজ আসবে৷ কেউ ভালো অবস্থায় যাবেন৷ আবার কেউ খারাপ অবস্থায় পড়বেন৷''


বিআইডিএস-এরজরিপ
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর জরিপে দেখা গেছে, করোনায় ফর্মাল সেক্টরে কাজ করা ১৩ শতাংশ মানুষ চাকরি হরিয়েছেন৷
যাদের আয় ১১ হাজার টাকার কম তাদের ৫৬.৮৯ শতাংশ পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে গেছে, ৩২.১২ শতাংশের আয় কমে গেছে৷ যাদের আয় ১৫ হাজার টাকার মধ্যে তাদের ২৩.২ শতাংশের আয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে৷ ৪৭.২৬ শতাংশের আয় কমে গেছে৷ আর যাদের আয় ৩০ হাজার টাকার বেশি তাদের ৩৯.৪ শতাংশের কমেছে এবং ৬.৪৬ শতাংশের আয় বন্ধ হয়ে গেছে৷ এই জরিপে কিন্তু মধ্যবিত্তের ওপর করোনার অভিঘাত স্পষ্ট৷


৩০ভাগমধ্যবিত্তহওয়ারপ্রত্যাশাকিপূরণহবে?
২০১৫ সালে বিআইডিএস-এর অর্থনীতিবিদ ড. বিনায়ক সেন তার এক গবেষণায় দেশের তিন কোটি ৫০ লাখ মানুষকে মধ্যবিত্ত বলেন৷ যারা দিনে দুই থেকে তিন ডলার আয় (পিপিপি) করেন তাদের তিনি মধ্যবিত্তের মধ্যে ফেলেন৷ আর তখন সংখ্যাটা ছিল মোট জনগোষ্ঠীর ২০ ভাগ৷ তিনি তখন ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৩০ শতাংশ মধ্যবিত্ত হবে বলে আশা করেন৷ তিনি তার গবেষণায় বলেন, বাংলাদেশের মধ্যবিত্তের ৪৮.৪ শতাংশ বেসরকারি চাকরি করেন৷ ২০ শতাংশের বেশি সরকারি চাকরি করেন৷ প্রায় ২২ শতাংশ ব্যবসা করেন৷ নিম্নমধ্যবিত্তের মধ্যে ৫১.৬ শতাংশ বেসরকারি চাকরি করেন৷ আর ব্যবসায় যুক্ত ১৭ শতাংশ৷
মধ্যবিত্ত ফ্ল্যাটে থাকে কিংবা জমির মালিক৷ টাকা-পয়সা রাখে ব্যাংক হিসাবে৷ ২৩.৪৯ শতাংশ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশুনা করেন৷

অডিও শুনুন 02:39

‘নিম্ন মধ্যবিত্ত সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে আছেন’: ড. সেলিম রায়হান


বিআইডিএস-এর অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদের মতে ১৫-২০ ভাগ মানুষ দারিদ্র্য রেখার খুব কাছে অবস্থান করে৷ সেই সংখ্যাটাও তিন কোটির মতো৷ যেকোনো দুর্যোগ এলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ বিবিএস-এর খানা জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের নীচের দিক থেকে প্রথম ৫০ ভাগ মানুষের হাতে মোট আয়ের ২০ ভাগ৷ শীর্ষ ১০ ভাগের হাতে মোট আয়ের ২৮ ভাগ৷ এর মানে হলো, মাত্র ১০ ভাগ মানুষের হাতে ৫০ ভাগ মানুষের হাতে যে সম্পদ আছে তার চেয়েও ৮ ভাগ বেশি আছে৷ বাকি ৪০ ভাগ মানুষের হাতে ৪২ ভাগ আয় ৷ এরাই হয়তো মধ্যবিত্ত৷ তিনি বলেন,‘‘নিম্নমধ্যবিত্ত যারা আছেন, তারা দরিদ্র হয়ে পড়ছেন৷ সম্পদের অসমবন্টন এই পরিস্থিতিকে আরো প্রকট করছে৷৷'' আর মধ্যবিত্তেরও তিনটি শ্রেণি আছে- নিম্ন, মধ্য এবং উচ্চ মধ্যবিত্ত৷

তারাঋণগ্রস্থ হচ্ছেন
বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের চাকরির আয় এরই মধ্যে ঝুঁকির মুখে পড়েছে৷ একটি অংশের চাকরি আছে, কিন্তু বেতন নেই৷ আবার কারো বেতন কমে গেছে৷ এসএমই সেক্টরে ধস নেমেছে৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অর্থনীতির অধ্যাপক ও ‘উন্নয়ন অন্বেষণের' চেয়ারপার্সন ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন,‘‘ যারা সরকারি চাকরি করেন তাদের আপাতত কোনো সংকট হবে না৷ কিন্তু যারা বেসরকারি খাতে আছেন তারা এখন জমানো টাকা খাওয়া শুরু করেছেন৷ এটা শেষ হলে ঋণ করে অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করবেন৷ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তারা ঋণগ্রস্থ হয়ে নিম্নবিত্তের কাতারে নেমে যাবেন৷''

অডিও শুনুন 05:20

‘যারা সরকারি চাকরি করেন তাদের আপাতত কোনো সংকট হবেনা’: ড. রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর


বাংলাদেশে ৯০ লাখ মানুষ আনুষ্ঠানিক খাতে চাকরি করেন৷ এর মধ্যে ১৫ লাখ সরকারি খাতে৷ বাকি ৭৫ লাখ মানুষ বেসরকারি খাতে ৷ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন ছয় কোটি ৮ লাখ মানুষ৷
বিবিএস-এর খানা জরিপে মোট ১০টি ইনকাম গ্রুপ আছে৷ এর মধ্যে পাঁচ থেকে সাত- এই তিনটি ইনকাম গ্রুপকে মধ্যবিত্ত বলতে চান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ও সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনামিক মডেলিং (সানেম)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান৷ তার মতে, পঞ্চম টায়ারে যারা আছেন, তারা নিম্ন মধ্যবিত্ত৷ এরা সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে আছেন৷ ষষ্ঠ টায়ারও ঝুঁকিপূর্ণ ৷ আয় কমে গেলেই তারা দারিদ্র্য সীমার নীচে চলে যাবেন, এবং তাই হচ্ছে৷ ড. সেলিম রায়হান বলেন,‘‘বিশ্বব্যাংকের দারিদ্র্যসীমার ১.৯ ডলারের যে হিসাব তার পরেও একটা হিসাব আছে দুই থেকে তিন ডলারের৷ তারাই এখন বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন