করোনায় মৃত্যুতে নতুন রেকর্ডে কঠোর লকডাউন শুরু | বিশ্ব | DW | 14.04.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

করোনায় মৃত্যুতে নতুন রেকর্ডে কঠোর লকডাউন শুরু

আবারো বাংলাদেশে করোনায় একদিনে নতুন মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে৷ ‘কঠোর লকডাউনের' প্রথম দিনে ঢাকার রাস্তায় তেমন যানবাহন ও লোকজন দেখা যায়নি৷ অবশ্য কাঁচাবাজারের চিত্র ছিল আলাদা ৷ কারওয়ান বাজারে ভিড় ছিল স্বাভাবিক৷

বুধবার বিগত ২৪ ঘন্টায় বাংলাদেশে করোনায় ৯৬  জন মারা গেছেন৷ এটা একদিনে করোনায় মৃত্যুর এপর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যা৷ আর এনিয়ে  করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট মারা গেলেন ৯ হাজার ৯৮৭ জন৷  ২৪ ঘন্টায়  নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ হাজার ১৮৫ জন৷  আর এপর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা সাত লাখ ৩১ হাজার ১৭০ জন৷
বুধবার থেকে শুরু হওয়া লকডাউনে ঢাকার সড়কের মোড়ে মোড়ে পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে৷ অধিকাংশ সড়কের প্রবেশ পথই অস্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে৷ তারপরও লোকজন  জরুরি প্রয়োজনে ‘মুভমেন্ট পাস' নিয়ে বের হয়েছেন৷ পুলিশ যানবাহন থামিয়ে মুভমেন্ট পাস চেক করে তারপর গাড়ি ছাড়ে৷ তবে মুভমেন্ট পাস ছাড়াও যানবাহন দেখা গেছে৷ তারা বলছেন, মুভমেন্ট পাসের জন্য চেষ্টা করেও পুলিশের ওয়েবসাইটে ঢুকতে পারছেন না৷
ঢাকার ধানমন্ডি, পান্থপথ, কারওয়ারন বাজার, বাংলামটর, শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘুরে লকডাউনে কিছু ব্যক্তিগত যানবাহন ও রিকশার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে৷ ঢাকার ভেতরে সিটি সার্ভিস ও ঢাকার বাইরের দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ আছে৷  আর ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় যারা ব্যক্তিগত যানবাহনসহ নানা উপায়ে লকডাউনে ঢাকার বাইরের যাওয়ার এখনো চেষ্টা করছেন তারা বিপাকে পড়েছেন৷
বুধবার পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ হওয়ায় সরকারি ছুটি৷ রোজারও প্রথম দিন ৷ ফলে লোকজন কতটা লকডাউন মানছেন তা বুঝতে আরো দুই-এক দিন দেখতে হবে৷

অডিও শুনুন 00:44

‘মানুষকে মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করতে হবে’

এখন যে লকডাউন শুরু হয়েছে তা শেষ পর্যন্ত ঠিকঠাক মত চললে এর সুফল পাওয়া যাবে বলে মনে করেন আইইডিসিআর-এর উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন৷ তবে সেই সুফল এখন নয়, কমপক্ষে তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে৷ আর এখন যে সংক্রমণ ও মৃত্যু তার জন্য অন্তত তিন সপ্তাহ আগের পরিস্থিতি বিবেবচনায় নিতে হবে৷
তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে এখন সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমে আসবে সেজন্য  আগামী কোরবানির ঈদ পর্যন্ত লেগে যেতে পারে৷  তবে সংক্রমণের এই যে পাগলা ঘোড়া তা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নিম্নগামী হবে বলে তার ধারণা৷
ডা. মুশতাক হোসেন বলেন," একটু অপেক্ষা করুন৷ এর আগে এক সপ্তাহের সীমিত আকারের লকডাউন এবং এবং এখন যে লকডাউন শুরু হয়েছে তার সুফল পাওয়া যাবে৷ এটা যে বিফলে যাবে তা নয়৷”

অডিও শুনুন 03:13

‘একটু অপেক্ষা করলে লকডাউনের সুফল পাওয়া যাবে’


তিনি বলেন, সংক্রমণের হার  কমাতে  যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের আইসোলেশন নিশ্চিত করতে হবে৷  সরকার এব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সংক্রমণ ঠেকান কঠিন৷
আর সাধারণভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান করোনা সংক্রান্ত জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য ও বিএসএমইউর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম৷ তিনি বলেন," ৭০ ভাগ মানুষ মাস্ক পরছেন না৷ আর করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ৯৬ ভাগ পর্যন্ত কার্যকর তিন স্তরের মাস্ক৷ তাই সংক্রমণ ঠেকাতে হলে যে কোনো উপায়ে মানুষকে মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করতে হবে৷”
আর মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার জন্য তিনি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে দায়ী করেন৷ তিনি বলেন, পর্যাপ্ত আইসিইউ ও  ও চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছেন৷ হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা হচেছনা৷ হাসপাতালে বেড নাই৷
বাংলাদেশে এখন টেস্টের বিবেচনায় করোনায় আক্রান্তের হার শতকরা ২০.৮৯ ভাগ৷ আর আক্রান্তের হিসেবে মৃত্যুর হার শতকরা ১.৪২ ভাগ৷  গত ২৪ ঘন্টায় ঢাকার সরকারি হাসপতালগুলোতে মাত্র পাঁচটি আইডিইউ বেড খালি ছিলো৷ ড. মুশতাক হোসেন বলেন,'' সংক্রমণ ঠেকিয়ে রোগী কমিয়ে আনতে না পারলে আইসিইউ বেড বাড়িয়েও পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হবে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়