করোনায় ভিন্ন উপায়ে সোচ্চার দুনিয়ার মজদুররা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 01.05.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

মে দিবস

করোনায় ভিন্ন উপায়ে সোচ্চার দুনিয়ার মজদুররা

চাকরি নেই, অথবা থাকলেও নেই পর্যাপ্ত সুরক্ষা উপকরণ, এ অবস্থাতেই কাটলো করোনাকালের মে দিবস৷ এসব অধিকার আদায়ে স্বাভাবিক প্রতিবাদ সমাবেশ করতে না পারলেও, ভিন্ন উপায়ে সোচ্চার ছিলেন দুনিয়ার মজদুররা৷

করোনা ভাইরাসের কারণে সারা পৃথিবীতে কাজ হারিয়ে বা অলস হয়ে বসে আছেন কোটি কোটি মানুষ৷ তাই এবারের মে দিবস তাদের জন্য ভিন্ন৷ কর্মপরিবেশ, বেতন, ভাতা এসবের দাবিতে এমনকি প্রতিবাদ সমাবেশও করতে পারছেন না তারা৷

এশিয়ার ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে একটা বড় অংশ পোশাক শিল্পের কর্মী৷ তাদের একজন ইন্দোনেশিয়ার উইরিওনো৷ দুই সন্তানের এই পিতা এখন লে অফে আছেন৷ এছাড়া পাশাপাশি কফি সরবরাহকর্মী হিসেবে যে কাজটি করতেন তা বন্ধ৷ উপায় না দেখে শেষমেষ কাপড় সেলাইয়ের একটা দোকান দিয়েছেন তিনি৷

‘‘কারখানায় যে বেতন পেতাম তার সমান হয়ত এখন কামাতে পারি না৷ কিন্তু স্ত্রী ও সন্তানদের খাবার তো জোগাড় করতে হবে,’’ বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন তিনি৷

শুধু উইরিওনো নয়, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া বা মিয়ানমারে এমন লাখ লাখ শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন৷ এসব পোশাক কারখানার অসংখ্য অর্ডার বাতিল হয়েছে৷ তাই তারা কাজ দিতে পারছে না৷ এছাড়া সরকারের বেঁধে দেয়া লকডাউন তো আছেই৷

শুধু ইন্দোনেশিয়াতেই ২০ লাখ পোশাক শ্রমিক কর্মহীন৷ কম্বোডিয়াতে প্রায় ১৩০টি কারখানা লে অফে গিয়েছে৷ এতে সেখানকার এক লাখ শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়৷ দেশটিতে এক হাজার কারখানা রয়েছে, যেখানে আট লাখের মতো শ্রমিক কাজ করেন৷

‘‘কোভিড-১৯ একটি মুখবিহীন খুনি বা সন্ত্রাসী, যে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার মানুষকে মেরে ফেলছে এবং আক্রান্ত করছে,'' মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হেং সৌর বলেন৷ তিনি জানান, অন্যান্য দেশের মতো মে দিবসে শ্রমিকদের ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা৷ ইন্দোনেশিয়াতেও একে রমজান মাস, তার ওপর করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে শ্রমিকরা যেন বড় জমায়েত না করেন সে আহ্বান দিয়েছে সরকার৷

কম্বোডিয়া ও মিয়ানমারের জন্যও করোনা নিয়ে এসেছে বড় দুঃসংবাদ৷ বিশেষ করে শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করতে না পারলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এরই মধ্যে তাদের একটি বড় অংকের রপ্তানির ওপর বাণিজ্য সুবিধা তুলে দেয়ার কথা বলেছে৷

মিয়ানমারে ৬০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন৷ বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশন এইড মিয়ানমারের কান্ট্রি ডিরেক্টর আরাধ্য মেহতা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে নারী শ্রমিকরা শুধু চাকরিই হারিয়েছেন তা নয়, তারা পারিবারিক নির্যাতনেরও শিকার হচ্ছেন৷

এদিকে, করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়েই বাংলাদেশে আটশ'রও বেশি পোশাক কারখানা খুলে দেয়া হয়েছে৷ শ্রমিক অধিকার কর্মীরা বলছেন, খোলার প্রক্রিয়ায় থাকা কারখানার প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে৷

‘‘কোনো কোনো পোশাক মালিক কারখানায় নিরাপত্তার পরিবেশ বজায় রাখছেন৷ বাকিরা রাখছেন না৷ এটা খুবই বিপদজনক,’’ এপিকে বলেন শ্রমিক অধিকার কর্মী কল্পনা আক্তার৷

বাংলাদেশ পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ৷ বছরে এখন প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি মার্কিন ডলার রপ্তানি করে তারা, যদিও এ বছর রপ্তানি বৃদ্ধির হার এমনিতেই ঋণাত্মক ছিল৷ তার ওপর করোনার কারণে শিল্পটির বেহাল দশা৷ তৈরি পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-র সভাপতি রুবানা হক জানিায়েছেন, এখন পর্যন্ত কারখানাগুলোর প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের অর্ডার বাতিল হয়েছে৷ এসব কারখানায় প্রায় ৪১ লাখ শ্রমিক কাজ করেন৷

এদিকে, পৃথিবীর কোথাও কোথাও মে দিবস পালনে ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছেন কর্মীরা৷ তুরস্কে কর্তৃপক্ষ বা ইউনিয়নগুলোর অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও কোথাও কোথাও জড়ো হয়েছেন কর্মীরা৷ চেক প্রজাতন্ত্রে গাড়ির হর্ন বাজিয়ে কিংবা ফ্রান্সে ব্যালকনি থেকে গান গেয়ে অধিকার আদায়ের কথা বলা হয়৷ তাদের দাবি ছিল, কর্মক্ষেত্রে মাস্ক সরবরাহ, স্বাস্থ্য বীমার ব্যবস্থা করা অথবা চাকরি হারানোদের সরকারি সাহায্য দেয়া৷

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের সিনটাগমা স্কয়ারে প্রতিবাদকারীরা দুই মিটার দূরত্ব বজায় রেখে লাইন করে দাঁড়ান৷ আয়োজকরা টেপ দিয়ে দাগ দিয়ে দেন৷

জার্মানিতে গেল ৭০ বছরে এই প্রথমবার রাস্তায় বড় সভা সমাবেশ মিছিল ছাড়া পালিত হলো মে দিবস৷ এর পরিবর্তে জার্মান ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন (ডিজিবি) ও সামাজিক গণতন্ত্রী পার্টি (এসপিডি) অনলাইনে অনুষ্ঠান করেছেন৷

জেডএ/এসিবি (এপি, ডিপিএ) 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়