করোনায় বয়স হারাচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা | বিশ্ব | DW | 06.05.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

করোনায় বয়স হারাচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা

বাংলাদেশে করোনার চাকরিতে কারণে নিয়োগ তেমন না হওয়ায় চাকরি প্রার্থীরা বয়স হারাচ্ছেন৷ বয়সের ব্যাপারে ছাড় ও সমন্বয়ের কথা সরকারের দিক থেকে বলা হলেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না৷

তানভির হোসাইন ঢকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সার্ভিস(এমআইএস) থেকে মাস্টার্স করেছেন ২০১৯ সালে৷ গত বছর করেনার শুরুতে তার সরকারি চাকরির বয়স ছিলো ছয় মাস৷ কিন্ত এখন তার বয়স ৩১ বছর৷ সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা পার হয়ে গেছে৷ এখন তার হতাশা ছাড়া আর কিছুই নেই৷ তিনি বলেন," বাবা-মায়ের মুখের দিকে লজ্জায় তাকাতে পারি না৷ তারাও আমাকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন৷”
তার কথা, শুধু তিনি একা নন করোনার শুরু থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে দেড় লাখ চাকরিপ্রার্থী তাদের চাকরির বয়স হারিয়েছেন৷ করোনার শুরুতে যাদের বয়স  ২৮ থেকে ৩০ এর মধ্যে ছিলো তাদের কারুরই আর সরকারি চাকরির বয়স নেই৷
বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ সাধারণ বয়সসীমা ৩০ বছর৷ মুক্তিযোদ্ধা, চিকিৎসক আর বিশেষ কোটার ক্ষেত্রে এই বয়সসীমা ৩২ বছর৷ সরকারি ছাড়াও আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানেও একই বয়সসীমা অনুসরণ করা হয়৷

অডিও শুনুন 03:37

‘কতজন চাকরির বয়স হারিয়েছে সেটা করোনা শেষ হলে বোঝা যাবে’


করোনার শুরুতে গত বছরের ২৫ মার্চ যাদের বয়স ৩০ বছর  পেরিয়ে যায় তাদের আরো পাঁচ মাস সরকারি চাকরিতে আবেদনের সুযোগ দেয় সরকার৷ এ নিয়ে একটি আদেশ জারি হলেও সেটা সব ক্ষেত্রে মানা হয়নি৷
যাদের বয়স শেষ হয়ে গেছে বা শেষ হওয়ার পথে তারা সবাই মিলে আন্দোলন শুরু করেছেন৷ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে চাকরির বয়স ৩২ বছর করার স্মারকলিপি দিয়েছেন৷ তাদেরই একজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করা সাজিদ রহমান৷ তার সরকারি চাকরির বয়স আছে আর ছয় মাস৷ তিনি জানান," সরকার গত বছর পাঁচ মাস বয়স সমন্বয় করার যে কথা বলেছিল তা শুধু তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের ব্যাপারে মানা হয়েছে৷ অফিসার পদে মানা হয়নি৷ বাংলাদেশে ব্যাংকে গত বছর অফিসার পদে চাকরির যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় তাতে বয়স সমন্বয় করা হয়নি৷”
আর গত সপ্তাহে জনপ্রশাসনমন্ত্রী বয়স সমন্বয় করা কথা বলার পর বিসিআইসির অফিসার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়৷ তাতে বয়স সমন্বয় করা হয়নি বলে জানান তিনি৷
করোনার কারণে পরীক্ষাও পিছিয়ে গেছে৷ যাদের বয়স এখন ২৯ ও ৩০ তারাও বিপদে আছে৷ তাই সব মিলিয়ে যদি চাকরির বয়স দুই বছর ছাড় দেয়া হয় তাহলে সবাই উপকৃত হবে বলে তিনি মনে করেন৷

অডিও শুনুন 03:01

‘বাবা-মায়ের মুখের দিকে লজ্জায় তাকাতে পারি না’


করোনার কারণে দেশে ব্যাংকসহ বড় বড় নিয়োগ পরীক্ষা হয়নি৷ গত বছরের ৪২তম বিসিএস-এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয়েছে চলতি বছরে৷ ৪৩ তম বিসিএস পরীক্ষা পেন্ডিং আছে৷ গত বছর চিকিৎসকদের একটি বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা হয়েছে৷ ৪১ তম বিসিএস-এর লিখিত পরীক্ষা হলেও ভাইভা আটকে গেছে৷ আর বেসরকারি চাকরিতেও তেমন নিয়োগ নাই৷
বিআইডিএস-এর অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ বলেন," আমরা যদি জনসংখ্যার হিসেব করি যে প্রতিবছর কতজনের ৩০ বছর বয়স অতিক্রান্ত হয় তাহলে তা বছরে দেড় লাখের কম হবেনা৷ তবে  ঠিক কতজন চাকরির বয়স হারিয়েছে সেটা করোনা শেষ হলে হিসাব নিকাশ করে বোঝা যাবে৷ আর যাদের বয়স ২৯ পার হয়ে গেছে তারাও শেষ পর্যায়ে আছেন৷ যেহেতু একটা লম্বা সময় ধরে নিয়োগ বন্ধ আছে  তাই এই সময়ে কমপক্ষে দেড় লাখ চাকরি প্রার্থী চাকরির বয়স হারিয়েছেন সেটা বলা যায় চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ সময় সীমা ৩০ বছর ধরে৷”
স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি বছর ২০ লাখ মানুষ কাজের বাজারে আসেন৷ তার মধ্যে সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশে যাওয়া মিলিয়ে ১৬ লাখের মত চাকরি পান৷ করোনার কারণে গত দুই বছর তাতে ধস নেমেছে৷ তাই নাজনীন আহমেদ মনে করেন, এই বছর যাদের চাকরির ৩০ বছর পার হয়ে গেছে তাদের পরবর্তী এক বছর সুযোগ দেয়া উচিত৷ এটা আইনের মাধ্যমে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করে দেয়া যায়৷
এব্যাপারে  বক্তব্য জানতে চেষ্টা করেও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের সাথে কথা বলা যায়নি৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়