করোনায় বিলুপ্তপ্রায় ঈদকেন্দ্রিক রাজনীতি | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 21.07.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

করোনায় বিলুপ্তপ্রায় ঈদকেন্দ্রিক রাজনীতি

বাংলাদেশে ঈদকেন্দ্রিক রাজনীতির একটি চল ছিল৷ সেই রাজনীতি ছিল আন্দোলনের৷ ঈদকে উপলক্ষ করে নেতা-কর্মীদের সমবেত করার, সাধারণ মানুষের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ করার। করোনাকালে গত চার ঈদে এর কোনোটিই দেখা যায়নি৷

বাংলাদেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়৷ এর পরের রোজা ও কোরবানির ঈদে করোনা সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল৷ আর এবারও ঈদ ও কোরবানির সময় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ৷ কোনো ঈদেই অবশ্য সাধারণ মানুষকে থামিয়ে রাখা যায়নি৷ তারা যে করেই হোক লকডাউন আর সীমিত বিধিনিষেধ য-ই হোক না কেন গ্রামের বাড়িতে গিয়েছেন৷ যদিও গত দুই বছর ধরে কোরবানি শতকরা ২০ ভাগ কম হয়েছে৷ কিন্তু ঈদের রাজনীতি , ঈদ পরবর্তী রাজনীতি আর সাধারণ মানুষকে নিয়ে রাজনীতিবিদদের ঈদ বলতে গেলে হচ্ছেই না

অডিও শুনুন 00:31

‘নির্দেশনা হলো, যার যার অবস্থান থেকে মানবতার জন্য কাজ করতে হবে’

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ১৮ হাজার ৩২৫ জন৷ শনাক্ত হয়েছেন ১১ লাখ ২৮ হাজার ৮৮৯ জন৷ এখন সংক্রমণের হার ২৯.৩১ ভাগ৷ এই ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে বাংলাদেশের আবার কঠোর লকডাউনে যাওয়ার কথা রয়েছে৷ গত বছর সাধারণ ছুটির নামে ৬৬ দিনের লকডাউন দেয়া হয়৷ এ বছর ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন ছাড়াও সব সময়ই নানা ধরনের বিধিনিষেধ চলছে৷ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গত বছরের মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে৷

নানা সূত্র থেকে খবর নিয়ে জানা গেছে,  এ পর্যন্ত ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৮০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন৷ আর মন্ত্রীদের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ জন৷ সংসদ সদস্য করোনায় মারা গেছেন দুই জন৷ ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ মারা গেছেন করোনায়৷

করোনায় সারাদেশে আওয়ামী লীগের এক হাজারেরও বেশি নেতা-কর্মী মারা গেছেন৷ আক্রান্ত হয়েছেন কয়েক হাজার৷ বিএনপির হিসেবে তাদের চার শতাধিক নেতা-কর্মী এখন পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন৷ আর আক্রান্ত কয়েক হাজার৷ দুই দলের পক্ষ থেকেই এখন সুস্থ থাকার নির্দেশনাই প্রধান৷

আওয়ামী লীগের সাবেক আইন সম্পাদক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ. ম.  রেজাউল করিম বলেন, ‘‘এই সময়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি নির্দেশনা হলো, কোনো দলীয় রাজনীতি নয়, যার যার অবস্থান থেকে মানবতার জন্য কাজ করতে হবে৷ আমরা তা-ই করছি৷ আর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো, মুভ না করে যে যেখানে আছেন সেখানে অবস্থান করবেন৷ সেখান থেকেই কাজ করবেন৷’’

গত দুই বছর ধরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন না৷ বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় বাতিল করছেন করোনার কারণে৷

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবারও অধিকাংশ মন্ত্রী-এমপি ঢাকায় আছেন৷ তারা এলকায় যাননি৷ যারা আগে থেকেই এলাকায় আছেন, তারাই রয়েছেন৷ তবে তারা জনসংযোগ বা সাধারণ মানুষের সাথে মেলামেশা করছেন না৷ বিএনপিরও একই অবস্থা৷ তাদের এমপি নেতারাও ঢাকায় অবস্থান করছেন ৷ বিএনপির এমপি হারুন অর রশীদ বলেন, ‘‘করোনা শুধু বাংলাদেশে নয় এটা একটা বৈশ্বিক মহামারি৷ তাই বিএনপির মাঠের রাজনীতি বন্ধ আছে৷ আর নেতা-কর্মীরা এই ঈদে যার যার অবস্থানে  থেকে সামাজিক দূরত্ব মেনে সাধারণ মানুষকে সহায়তা করছেন৷’’

অডিও শুনুন 02:16

‘বিএনপির মাঠের রাজনীতি বন্ধ আছে’

আন্দোলন সংগ্রামের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘এটা আগেও এই সরকার করতে দেয়নি আর করোনায় তো পরিস্থিতি আরো খারাপ৷ এখন গণতন্ত্র নেই, কথা বলার স্বাধীনতা নেই৷ সেটা থাকলে এই করোনা মোকাবেলায় আমরা সবাই মিলে অংশ নিতে পারতাম৷’’

তিনি আরো জানান, সংসদে তারা করোনার মধ্যেও সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরার চেষ্টা করছেন৷ কিন্তু এমপিদের প্রতি দুই দিন পর পর করোনা টেস্ট করা হয়৷ যারা নেগেটিভ হন কেবল তারাই অধিবেশনে যেতে পারেন৷

রাজনীতির বিশ্লেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক ড. শান্তনূ মজুমদার বলেন, ‘‘করোনার বাইরেও রজনীতিতে এক ধরনের অদ্ভুত পরিবর্তন আসছে৷ রাজনীতি যেন না-ই হয়ে যাচ্ছে৷ বিএনপি করোনার আগেও সংগঠিত ছিলনা৷ আর এখন তো নয়ই৷ তাদের নেতৃত্বের সংকট , ইস্যু এগুলো এখনও স্পষ্ট নয়৷ কিন্তু আমি বলবো, সরকারি দল আওয়ামী লীগ থেকে রাজনীতি হাওয়া হয়ে গেছে, যা বিস্ময়কর৷ এই করোনায় রাজনীতিবিদদের অংশগ্রহণ নেই, যেন সব কিছুতে ‘আমলায়ন' হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত৷ আর যাদের ইতিহাস জনসম্পৃক্ত নয়, তারা সংকটে টিকে থাকতে পারে না৷ করোনায় সেটা স্পষ্ট হয়েছে৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়