করোনায় জার্মানিতে কুকুরের ব্যাপক চাহিদা | বিশ্ব | DW | 26.01.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

করোনায় জার্মানিতে কুকুরের ব্যাপক চাহিদা

কুকুরপ্রেমী জার্মানদের করোনায় পোষাপ্রাণীর চাহিদা আরো বেড়ে যাওয়ায় কুকুরের মূল্য এখন আকাশছোঁয়া৷ 

কুকুর-বিড়ালের চাহিদা মেটাতে প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্র এবং প্রজননকারীরা এখন হিমশিম খাচ্ছে৷ ব্যার্নাডেটে ডিয়ার্কস মায়ার যখন তার হোমপেজে ঘোষাণা দিলেন যে, ২০২১ সালের ১২ মার্চ কুকুরের বাচ্চা বিক্রি করা হবে, তখন এই কুকুর ব্যবসায়ী ভাবতেই পারেনি যে, তার জন্য কী অপেক্ষা করছে ৷ তিনি ভেবেছিলেন প্রতিবারের মতো ১০/১২ জন আগ্রহী হয়তো এবারও কুকুর কিনতে চাইবেন৷ ফল হলো ঠিক তার উল্টো, আশাতীত সাড়া পেলেন ৷  এমনকি যে কুকুর এখন জন্মায়নি সে কুকুরকেও আগ্রহীরা বুক করে রাখলেন৷ যদিও তার ফোন নাম্বার প্রকাশ করা হয়নি তাতেই এমন অবস্থা !  তিনি ডয়চে ভেলেকে টিলিফোনে জানান, কুকুর প্রজননকারীদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, তাদের কাছে পোষা প্রাণীর চাহিদা রয়েছে আরো অনেক বেশি৷

জার্মানরা এমনিতেই পোষাপ্রাণী ভালোবাসেন, বিশেষ করে কুকুর এবং বিড়াল৷ জার্মানির অ্যাসোসিয়েশন ফর ডগস-এর তথ্য অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোর তুলনায় ২০২০ সালে শতকরা ২০ ভাগ বেশি কুকুর কিনেছে জার্মানরা৷  

জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক কুকুর প্রতিযোগিতায় অসংখ্য পুরস্কার বিজয়ী ব্যার্নাডেটে ডিয়াক্স মায়ার বলেন, ‘‘কুকুরপ্রেমী অনেকেই অত্যন্ত বিনয়ের সাথে কুকুর কেনার জন্য আব্দার করে ইমেল করেছেন৷ কিন্তু তাদের দেওয়ার এত কুকুর আমার নেই!'' নিয়ম অনুযায়ী কুকুর প্রজননকারীদের প্রতি দুই বছরে দুটো কুকুর ছানা জন্ম দেওয়ানোর কথা থাকলেও তাদের অনেকেই সে নিয়ম মানে না৷ করোনা মহামারি এসব ব্যবসায়ীর জন্য সোনালী সময় ,তবে কিছু পশুর জন্য বেশ ক্ষতিকর বলে তিনি জানান৷

ইউলিয়া জারভাস, ১০ বছর যাবত বন শহরের পশু আশ্রয়কেন্দ্রের কর্মী৷ তার প্রিয় প্রাণীদের কাছ থেকে দূরে থাকতে না পেরে মিউনিখে ভেটেরনারি পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে আবার পশুদের কাছে ফিরে এসেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের আতঙ্ক, এক সময় করোনা ঢেউ থেমে যাবে আর মানুষের প্রাণী পোষার নতুন শখও হারিয়ে যাবে৷'' করোনাকালে পশুপ্রেমীদের প্রতি ইউলিয়ার পরামর্শ , ‘‘ভালোভাবে চিন্তা করে পোষাপ্রাণী ঘরে আনুন, করোনা শেষ হলে প্রাণীটিকে কিভাবে সামলাবেন কিংবা করোনায় সঙ্গ দেওয়া প্রাণীটিকে তখন যথেষ্ট সময় দিতে পারবেন কিনা ভেবে নিন৷''

জার্মানির প্রাণী সুরক্ষা সমিতির হেস্টার পমারেনিং বলেন, হোম অফিস করার সময় তিনমাসের জন্য কুকুর কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছেন অনেকে৷ কোনো কোনো পশু আশ্রয়কেন্দ্রে এক সপ্তাহান্তে ৫০০ আগ্রহীর কথাও তিনি উল্লেখ করেন৷ করোনা সংকটে শিশু কুকুর বিক্রির অবৈধ ব্যবসা আগের চেয়ে বেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন পমারেনিং৷  

ওষুধ ও অস্ত্র ব্যবসার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রাণী ব্যবসা এখন আয়ের তৃতীয় বৃহত্তম উত্স৷ জার্মানির অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে ৭৫টি পোষাপ্রাণী বিক্রির অবৈধ প্রতিষ্ঠান ধরা পড়েছে৷ সেগুলোতে আটশ'র বেশি কুকুর ছিল৷ পশু অধিকার কর্মী পমারিনিং বলেন, ইন্টারনেটে অবৈধ প্রাণী ব্যবসায়ীদের অর্ডার কার্ডে কেবল কুকুর এবং বিড়ালই নয়, সাপ, ক্যাঙ্গারু এবং হরিণের মতো প্রাণীও রয়েছে৷ তাই তার দাবি, করোনা সংকটের পরেও যেন ইন্টারনেটে পশু-পাখি বিক্রি বন্ধ রাখা হয় ৷

অলিভার পিপার/এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন