করোনায় অসহায় শিল্পীরা | বিশ্ব | DW | 16.09.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

করোনায় অসহায় শিল্পীরা

করোনাকালে শিল্পী ও কলা কুশলীদের অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ব্যাপকভাবে৷ করোনা কেড়েছে কারো কারো প্রাণ৷কাজ হারিয়ে আর্থিক কষ্টে আছেন অনেকেই৷ কিন্তু তাদের সহযোগিতার তেমন কোনো উদ্যোগ নেই৷

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সহায়তার বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন৷ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা পাঠালে তবেই সহায়তা দেয়া হবে৷ তথ্য মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে তালিকা তৈরির কাজেই ব্যস্ত এখনো৷

গত মে মাসে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পাঁচ হাজার শিল্পী ও সংস্কৃতিসেবীকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেয়৷ এজন্য জেলা পর্যায়ে শিল্পকলা একাডেমির মাধ্যমে তালিকা তৈরির কথা জানানো হয়৷ কিন্তু সেই তালিকা এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানা গেছে৷

নব গঠিত কন্ঠশিল্পী পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক শিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে খুব অসুবিধায় আছেন এমন ১৫০ জনের মতো শিল্পী ও কলাকুশলীকে পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে৷ তবে তা অপ্রতুল৷ এর বাইরে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার কোনো খবর আমার জানা নেই৷’’

অডিও শুনুন 03:55

১৫০ জনের মতো শিল্পী ও কলাকুশলীকে পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে: কুমার বিশ্বজিৎ

এদিকে তথ্য মন্ত্রণালয় চলচ্চিত্র শিল্পীদের একই সময়ে তিন কোটি টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেয়৷ কিন্তু সেই সহায়তা এখনো কোনো চলচ্চিত্র শিল্পী পাননি৷ তথ্য মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখনো তালিকাই চূড়ান্ত করার কাজই শেষ হয়নি৷ শিল্পীরা একবার তালিকা পাঠানোর পর তাতে ‘অসঙ্গতি’ থাকায় আবার নতুন করে তালিকা নেয়া হয়৷ সেই তালিকা এখনো যাচাইবাছাই করা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে৷ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (চলচ্চিত্র) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা তালিকা চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাবো৷ সেখান থেকেই সহায়তা দেয়া হবে৷’’ কতজনকে কী পরিমাণ সহায়তা দেয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘যারা সহায়তার যোগ্য হবেন তাদের বিকাশের মাধ্যমে এই টাকা পাঠানো হবে৷ এজন্য তাদের ন্যাশনাল আইডি কার্ড এবং বিকাশ নাম্বার নেয়া হয়েছে৷’’

এই করোনায় অভিনয় শিল্পী সংঘ তাদের সদস্যদের ২০ লাখ টাকা ও খাদ্য সহায়তা দিয়েছে৷ যারা কাজ বা চাকরি হারিয়েছেন তাদের তিন মাস আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে৷ এর বাইরে চিকিৎসা সহায়তা দেয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে৷ তবে সেই সহায়তাও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল৷

অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি আহসান হাবিব নাসিম হতাশা নিয়ে বলেন, ‘‘আমরা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার পর ৩৫০ জন শিল্পীর তালিকা পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু তাদের কেউ এখনো সহায়তা পাননি৷’’

অডিও শুনুন 03:40

৩৫০ জন শিল্পীর তালিকা পাঠিয়েছিলাম কিন্তু কেউ এখনো সহায়তা পাননি: আহসান হাবিব নাসিম

কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, ‘‘আমাদের জন্য সরকারের আর্থিক প্রণোদনায় ঋণ নেয়ার সুযোগ আছে৷ কিন্তু সেটা শিল্পীদের কাজে আসছে না৷ এটা ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের কাজে আসছে৷ শিল্পীরা তো আর ব্যবসা করেন না৷ তারা ব্যাংকের ওইসব নিয়ম-নীতি বোঝেন না৷ আর প্রণোদনার টাকা তো ফেরত দিতে হবে৷ শিল্পীদের অনেকেই চরম আর্থিক কষ্টে আছেন৷ তারা ঋণ নিয়ে আবার ফেরত দেবেন কিভাবে?’’

সম্প্রতি কন্ঠশিল্পীদের একটি সংগঠন হয়েছে৷ আগে কোনো সংগঠন ছিল না বলে সাংগঠনিকভাবে করোনাকালে কিছু করা হয়নি৷ তবে যারা করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাহায্য করার চেষ্টা হয়েছে বলে জানান  খ্যাতিমান এই কন্ঠশিল্পী৷ কুমার বিশ্বজিৎ মনে করেন, ‘‘আমাদের যদি প্রাপ্য রয়্যালিটি দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে আমাদের সহায়তার দরকার নেই৷ আমরা নিজেরাই নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারবো৷’’

এই করোনায় বেশ কয়েকজন অভিনেতা, প্রযোজক, সংগীত শিল্পী মারা গেছেন৷ বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে আক্রান্তের সংখ্যা শতাধিক হবে৷ মারা গেছেন অভিনেতা সাদেক বাচ্চু, কে এস ফিরোজ, স্বপন সিদ্দিকী,  সুরকার আলউদ্দিন আলী,  টিভি ব্যক্তিত্ব বরকত উল্লাহ, চলচ্চিত্র পরিচালক আফতাব খান টুলু, চলচ্চিত্র প্রযোজক মোজাম্মেল হক সরকার, এনটিভির অনুষ্ঠান প্রধান মোস্তফা কামাল সৈয়দ৷

কুমার বিশ্বজিৎ জানান, ‘‘সবচেয়ে কষ্টে আছেন মিউজিশিয়ানরা৷ তাদের দেখার কেউ নেই৷’’ বিভিন্ন শিল্পের সঙ্গে জাড়িত কলা কুশলীরাও এই করোনায় অনেকটা পথে বসে গেছেন বলে জানান আহসান হাবিব নাসিম৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন