করোনার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন জঙ্গিরা! | বিশ্ব | DW | 03.04.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

করোনা ভাইরাস

করোনার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন জঙ্গিরা!

সবার মতো জঙ্গিরাও করোনা সংক্রমনের ভয়ে আছেন৷ তারপরও কোথাও কোথাও তারা যেমন হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন, কোথাও কোথাও আবার জনগণের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেছেন৷ খবর এপির৷

বার্তা সংস্থাটি বলছে, এই গোষ্ঠীগুলো উদ্বেগ জানিয়ে নানা বার্তা প্রকাশ করেছে৷ সেখানে বলা হচ্ছে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ অমুসলিমদের জন্য সাজা৷ তারা ইসলাম অনুসারীদের অনুতপ্ত হবার এবং নিজেদের যত্ন নেবার পরামর্শ দিয়েছে৷

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে আল-কায়েদা বলেছে, অমুসলিমরা তাদের এই কোয়ারেন্টিনের সময়টাতে ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারে৷ ইসলামিক স্টেট অবশ্য কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছে৷ অনুসারীদের কোনো অনুকম্পা না দেখিয়ে আক্রমণ চালিয়ে যাবার আহ্বান জানিয়েছে তারা৷ 

এদিকে, মঙ্গলবার ব্রাসেলসভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ বলেছে, এই সংকটের মুহূর্তে মহামারী বৈশ্বিক সহাবস্থানকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে, যে বৈশ্বিক সহাবস্থান উগ্রপন্থিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একমাত্র চাবিকাঠি৷

‘‘একরকম নিশ্চিত করেই বলা যায়, কোভিড-১৯ দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থা ও আইএসআইএসের বিরুদ্ধে সহযোগিতার জায়গাগুলোকে দুর্বল করে দেবে৷ এতে এই জঙ্গিরা তাদের অভূতপূর্ব হামলার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবে,'' মতামত জানায় সংস্থাটি৷

তবে জঙ্গিদের কোন হামলাগুলোকে করোনা ভাইরাসের ওপর চাপিয়ে দেয়া যায়, তা নিশ্চিত করে বলা না গেলেও আফ্রিকার দেশ শাদের মিলিটারির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় হামলাটি হয়েছে মার্চের শেষ দিকে৷ নাইজেরিয়া ও নাইজার সীমান্তের কাছে এ হামলায় ৯২ জন সেনাসদস্য মারা যান৷ শাদের মিলিটারিরা আফ্রিকান জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশেষ ভুমিকা রাখছে৷

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিশরের অন্তত দু'জন সেনা কর্মকর্তা এপিকে জানিয়েছেন, মার্চে দেশটির সিনাই উপত্যকার উত্তরাংশে আইএস হামলার সংখ্যা বেড়েছে৷ নিরাপত্তা বাহিনী আরো অন্তত তিনটি হামলা ঠেকিয়েছে৷

ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে অবশ্য সিরিয়া ও ইরাকে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি৷ তবে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট ইরাকে তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে এবং আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী সেনাসদস্যদের সরিয়ে নেয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে৷

কেনিয়ায় ব্রিটিশ আর্মির জঙ্গিবাদবিরোধী মিশন থেকে সেনাসদস্যরা পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে ফেরত আসছেন৷ তবে ফ্রান্স দেশের বাইরে তাদের সবচেয়ে বড় মিশনটি থেকে সেনাসংখ্যা কমাচ্ছে না বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়৷ পশ্চিম আফ্রিকায় সাহারা মরুভূমির দক্ষিণাংশের সাহেল অঞ্চলে তাদের ৫১০০ সেনা মোতায়েন আছে৷ 

আফ্রিকান সেনাবাহিনীগুলোও তাদের কার্যক্রম সীমিত করে আনছে৷ আইএসপন্থি বোকো হারামের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী তাদের বড় জমায়েত ও প্রশিক্ষণসহ বেশিরভাগ কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে৷

নাইজেরিয়ান সেনাবাহিনীর একটি ফাঁস হওয়া চিঠিতে দেখা গেছে, করোনার বিস্তার হলে তাদের গাড়িগুলো গণকবর দেয়া বা অসুস্থদের হাসপাতালে নেয়ার কাজে ব্যবহার করা হবে৷ নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন যে, পশ্চিম আফ্রিকায় নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি কম সুরক্ষিত কারাগারগুলোকেও হামলার জন্য লক্ষ্য বানানো হতে পারে৷ জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো সরকারকে বেকায়দায় ফেলে নিজেদের দিকে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করতে পারে৷

এ বিষয়ে নিরাপত্তা গবেষক লায়েথ আলখৌরি এপিকে বলেন, এমনকি কোনো কোনো গোষ্ঠী ‘ভাইরাসের হাত থেকে কেবল ধর্ম মানুষকে বাঁচাতে পারে' এমন তত্ত্ব দিয়ে সব বৈজ্ঞানিক সমাধান এড়িয়ে চলার কথা বলে বরং মহামারী ছড়াতে ভুমিকা রাখতে পারে৷

তবে ভিন্নভাবেও চিন্তা করছেন অনেকে৷ সোমালিয়ায় আল কায়েদা সমর্থিত আল-শাবাব গোষ্ঠীর নেতারা মার্চে পাঁচদিনব্যাপী সভা করেন৷ তারা করোনা ভাইরাস সংকটকে ‘জরুরি সমস্যা' বলে চিহ্নিত করেন বলে এপিকে জানিয়েছে গোষ্ঠীটির এক মুখপাত্র৷ তিনি বলেন, সংকটের এই মুহূর্তে জাতিসংঘের স্বাস্থ্যকর্মীদের তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কাজ করতে দেয়া হবে কিনা এ বিষয়ে অচিরেই সিদ্ধান্ত নেবেন তারা৷

আফগানিস্তানে তালেবান আরো একধাপ এগিয়ে কাজ করছে৷ তারা তাদের যোদ্ধারা মাস্ক ও সাবান বিলি করছেন এমন ভিডিও প্রকাশ করছে৷ অসুস্থদের সহযোগিতায় বা এই রোগের বিস্তার ঠেকাতে যে কোনো সহযোগী সংস্থার কার্যক্রমের নিরাপত্তায় বিঘ্ন না ঘটানোর নিশ্চয়তাও দিয়েছে তারা৷ তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহেদ এপিকে বলেন, ‘‘আল্লাহ না করুন, যদি আমাদের নিয়ন্ত্রিত কোনো এলাকায় প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, তাহলে সে জায়গায় যুদ্ধ বন্ধ করা হতে পারে৷''

জেডএ/এসিবি (এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন