করোনার বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়ছে সরকার ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো | বিশ্ব | DW | 09.04.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

করোনার বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়ছে সরকার ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো

করোনা ঠেকাতে ফতোয়া জারি করে সরকারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো৷ দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতেও দেখা যাচ্ছে একই চিত্র৷ ফতোয়া জারি করে সরকারগুলোকে সহযোগিতা করছে ধর্মীয় সংস্থাগুলো৷

সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তটি নেয় সৌদি আরব, মক্কায় ওমরাহ বন্ধ করে দেয়ার মধ্য দিয়ে৷

সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তটি নেয় সৌদি আরব, মক্কায় ওমরাহ বন্ধ করে দেয়ার মধ্য দিয়ে৷

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় নানা দেশে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কিছু সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে৷ সামাজিক মেলামেশার ক্ষেত্রে আরোপ করা হয়েছে বিধিনিষেধ৷ অফিস, দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট, ক্লাব, শপিংমল থেকে শুরু করে বড় জমায়েত হয় এমন সব কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেয়া হয়েছে৷ সেই বিধিনিষেধের আওতায় পড়েছে ধর্মীয় জমায়েতও৷ ইউরোপ-অ্যামেরিকায় তো বটেই আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলোও বাদ পড়ছে না৷

পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে শুরু করে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলো নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে৷ কোথাও কোথাও সরকার নয়, বরং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোএসব বিধিনিষেধের দায়িত্ব নিয়েছে৷

আফগানিস্তান

নামাজের জন্য মসজিদে না যেতে ফতোয়া জারি করেছেন আফগানিস্তানের ধর্মীয় নেতারা, এমনটি জানিয়েছে দেশটির অন্যতম টিভি চ্যানেল টোলো নিউজ৷ দেশটির উলামা হাই কমিশন এই ফতোয়া জারি করেছে৷ কমিশন এর কারণ হিসেবে বলেছে, আফগানিস্তান নতুন করোনা ভাইরাসটি থেকে পুরোপুরি মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জমায়েত বন্ধ থাকবে৷ 

এর আগে দেশটির হজ ও ধর্ম মন্ত্রণালয় মসজিদে জুম্মা ও অন্য নামাজের জামাতে লোকজনের জমায়েত নিষিদ্ধ করে৷ মন্ত্রণালয় ও কমিশনের সদস্যরা সবাইকে ঘরে নামাজ পড়ার আহ্বান জানান৷ ধর্মীয় নেতারা বলেন, কোরআন ও হাদিসের আলোকে স্বাস্থ্যগত দিক চিন্তা করে এ সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে৷

এমনকি ফতোয়ায় ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে মৃতের সৎকারেও কম মানুষের উপস্থিতিতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে৷

ইন্দোনেশিয়া

সবচেয়ে বড় মুসলিম অধ্যুষিত দেশ ইন্দোনেশিয়া৷ সেখানে সরকার সরাসরি কোন নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি৷ কিন্তু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে সেই কাজটি করছে৷ দেশটির সবচেয়ে বড় ইসলামি সংগঠন নাহদলাতুল উলামা কোভিড-১৯ এর বিস্তার ঠেকাতে ফতোয়া জারি করেছে৷ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিভি ওয়ানে সংস্থাটির র পরিচালক ড. সাইদ আকিল সিরোজ বলেছেন, ‘‘করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে আমরা সব মুসলিমের কাছে এ আহ্বান জানাই, আপনারা জুম্মা ও তারাবিহর নামাজ এবং ঈদ উল ফিতরের সব উদযাপন ঘরে বসে করুন৷''

কোভিড-১৯ থেকে রক্ষা পেতে নাহদলাতুল উলামার ফতোয়া কাউন্সিল কিছু ধর্মীয় নির্দেশনা প্রকাশ করেছে৷ সেসব রীতিমালা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ৷ সেখানে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতদের দাফন কেমন করে করা হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত বলা রয়েছে৷

কাউন্সিল বলছে, যারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাবেন, তারা শহীদের মর্যাদা পাবেন৷ সরকার বা কর্তৃপক্ষের এসব সামাজিক বিধিনিষেধ না মানা হারাম বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তারা৷

ভারত

মার্চে ভারতের একেকটি রাজ্য সরকার এক এক করে করোনা মোকাবেলায় সামাজিক জমায়েতের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করতে থাকে৷

দিল্লিতে বিধিনিসেধ আরোপের আগে নিজামুদ্দিন এলাকায় তাবলিগ-ই-জামাতের ধর্মীয় জমায়েত অনুষ্ঠিত হয়৷ সেখানে অংশ নেন প্রায় দুই হাজার তাবলিগ অনুসারী৷ এদের অনেকেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন এবং মারাও যান৷

দিল্লি সরকার ১৬ মার্চ প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে ৫০ জনের বেশি মানুষ জড়ো হবার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, যা পরবর্তীতে কমিয়ে পাঁচ জনে নামিয়ে আনা হয়৷ মোটামুটি সারা দেশেই একসঙ্গে পাঁচজনের বেশি জমায়েত হতে পারবেন না বলে নিয়ম করে দেয়া হয়েছে৷ আলাদা করে না হলেও এই বিধিনিষেধ ধর্মীয় জমায়েতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য৷ জনগণ এই বিধিনিষেধ মানছেন কি না তা দেখতে রাস্তায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী রয়েছে৷

এদিকে, সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে কারাগা উৎসব পালনের অনুমতি দেয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছে রাজ্য সরকার৷ মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পা অবশ্য মন্দিরে একবারে চার থেকে পাঁচজনের বেশি না ঢোকার নিয়ম করে দিয়েছেন৷ তবে সমালোচনা হল, মন্দিরে ঢোকার জন্য মানুষ হুমড়ি খেয়ে লাইনে দাঁড়াবে, সেটা ঠেকানো কতটা সম্ভব?

পাকিস্তান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মসজিদে জড়ো হবার সংখ্যা সীমিত করার কথা বলেছেন৷ দেশটির ইসলামিক আদর্শ কাউন্সিল সবাইকে বাসায় থাকার পরামর্শ দিয়েছে৷ ঘরেই নামাজ আদায়ের কথা বলেছে৷ কোন কোন প্রদেশ নিজ দায়িত্বে কড়াকড়ি আরোপ করেছে৷ যেমন, দক্ষিণাঞ্চলের সিন্ধ প্রদেশে গেল শুক্রবার জুম্মার নামাজে মানুষের আগমন ঠেকাতে দুপুর বারটা থেকে তিনটা পর্যন্ত পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করা হয়৷ এ সময় রাস্তায় যে কাউকে দেখলেই গ্রেপ্তার করা হয়৷ পাঞ্জাব প্রদেশে, যেখানে দেশটির ২২ কোটি জনগণের ৬০ ভাগের বাস, বড় শহরগুলোর মোড়ে মোড়ে চেকপয়েন্ট বসানো হয়েছে, যেন মানুষ জড়ো হতে না পারেন৷ তারপরও সেখানে মানুষ কথা শুনছেন না৷ অনেক ধর্মীয় নেতা এখনো লকডাউনের বিপক্ষে কথা বলে যাচ্ছেন৷ এসব খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি৷

এদিকে, পাঞ্জাবে মার্চে তাবলিগ জামাতের বিশাল এক সমাবেশ হয়৷ সেখানে এক লাখেরও বেশি মানুষ জড়ো হন৷ এদের অনেকেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে৷ এদের মধ্যে কমপক্ষে ২০ হাজার জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে৷ পাকিস্তানের তাবলিগের মুখপাত্র আবদুল ওয়াহিদ বার্তা সংস্থা ডিপিএকে জানিয়েছেন, এদের কমপক্ষে ৪০ হাজার জন সারা দেশের বিভিন্ন মসজিদে গিয়েছেন৷ সিন্ধ ও বালুচিস্তানের যেসব মসজিদে এখন এরা আছেন, সেগুলোকে কোয়ারেন্টিন সেন্টার হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিন্ধ প্রদেশের তথ্যমন্ত্রী মুর্তাজা ওয়াহাব৷

বাংলাদেশ

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের দ্রুত সংক্রমণ ছড়ানো রুখতে মুসল্লিদের ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার৷ সোমবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদেরও ঘরে উপাসনার নির্দেশ দেয়া হয়৷ ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে, এখন থেকে শুধু মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন আর খাদেমরা মসজিদে নামাজ আদায় করবেন৷ বাইরের মুসল্লিরা কেউ মসজিদে জামাতে অংশ নিতে পারবেন না৷

সংখ্যার হিসেবে বলা হয়েছে, জুম্মার নামাজে সর্বোচ্চ ১০ জন এবং দৈনিক পাঁচওয়াক্ত নামাজে সর্বোচ্চ পাঁচ জন উপস্থিত হতে পারবেন৷ কেউ এই নির্দেশ অমান্য করে মসজিদে নামাজ পড়লে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ব্যবস্থা নেবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়৷

এছাড়া অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদেরও উপাসনালয়ে সমবেত না হয়ে নিজ নিজ বাসায় উপাসনা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশন শবে বরাতের রাতে বাসায় বসে প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছে৷

মধ্যপ্রাচ্যে আরো আগে থেকে

ইরানে কোভিড-১৯ ভাইরাসটি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর সতর্ক হয়ে গেছে মধ্যপ্রাচ্য৷ তারা নানাভাবে বড় সমাবেশ বা জমায়েত বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে শুরু করে৷ এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তটি নেয় সৌদি আরব, মক্কায় ওমরাহ বন্ধ করে দেয়ার মধ্য দিয়ে৷ একে একে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোও উদ্যোগ নিতে শুরু করে৷ 

কুয়েতে আযানের মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন এনে ঘরে বসে নামাজ আদায়ের কথা বলা হয়৷ এমন বিরল ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ঐতিহাসিক উদাহরণকে অনুসরণ করা হয়েছে বলে বলা হয়৷

ইরাকের গ্র্যান্ড আয়াতোল্লাহ আলি আল-সিস্তানি এ বিষয়ে বলেন, ‘পেশাদার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা' ধর্মীয় দায়িত্ব৷ তুরস্কের ধর্ম বিভাগের প্রেসিডেন্ট আলি এরবাস মহামারী থেকে বাঁচতে মহানবীর শিক্ষাকে অনুসরণ করার কথা বলেন৷

মিশর রমজান মাসে যে কোন ধর্মীয় সমাবেশ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে৷ এমনকি ইফতার পার্টি বা জমায়েত করা যাবে না বলে জানিয়েছে তাদের ধর্ম মন্ত্রণালয়৷ 

জেডএ/কেএম (এপি, ডিপিএ, টোলো নিউজ, টিভি ওয়ান, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

বিজ্ঞাপন