করোনার দুনিয়ায় টাইগার কিং মাতামাতি | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 02.04.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্র

করোনার দুনিয়ায় টাইগার কিং মাতামাতি

সাত পর্বের ডকুসিরিজ ‘টাইগার কিং: হত্যা, বিশৃঙ্খলা ও পাগলামি’ নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় ২০ মার্চ৷ বিগ ক্যাট সংগ্রাহক ও প্রদর্শক দুই মার্কিনির দ্বন্দ্ব এর মূল কাহিনি৷

এদের একজন জোসেফ ম্যালডোনাডো-প্যাসেজ, যিনি জো এক্সোটিক নামে বেশি পরিচিত৷ যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহামার ‘গ্রেটার ওয়েনউড এক্সোটিক অ্য়ানিমেল পার্ক'-এর মালিক তিনি৷ 

অন্যজন ক্যারল ব্যাসকিন৷  তিনি ফ্লরিডায় ‘বিগ ক্যাট রেসকিউ’ নামে একটি অভয়ারণ্য পরিচালনা করেন৷  কয়েক বছর ধরে তিনি জো এক্সোটিকের চিড়িয়াখানায় প্রাণিদের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের অভিযোগ আনছেন৷  প্রাণি সংরক্ষণকারীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ঐ চিড়িয়াখানা বন্ধেরও চেষ্টা করছেন৷

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জো এক্সোটিক একসময় উলটো ব্য়াসকিনের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ আনা শুরু করেন৷  যেমন ব্য়াসকিনের প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের পর্যাপ্ত বেতন না দেয়া, প্রাণিদের রাখার খাঁচা যথেষ্ট বড় না হওয়া, একই সময়ে অনেক দর্শনার্থীকে অভয়ারণ্যে ঢুকতে দেয়া ইত্যাদি৷

এছাড়া ব্য়াসকিনের বিরুদ্ধে তাঁর সাবেক স্বামীকে সিংহের খাবারে পরিণত করার অভিযোগও আনেন জো এক্সোটিক৷  ব্যাসকিনের সাবেক স্বামী ১৯৯৭ সাল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন৷

এমনকি ব্য়াসকিনকে হত্য়ার জন্য জো এক্সোটিক একজনকে নিয়োগ করেছিলেন বলে গত বছর এপ্রিলে আদালতে একটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়৷  সে কারণে এখন ২২ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন তিনি৷  গত জানুয়ারি মাসে এই শাস্তির মেয়াদ ঘোষণা করা হয়৷ 

তবে জো এক্সোটিকের অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে পরিচালিত মামলায় মিথ্যা সাক্ষ্য ব্যবহার করা হয়েছে৷  এছাড়া তিনি সমকামী হওয়ায় তাঁর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর৷  তাই তিনি ১৭ মার্চ স্বরাষ্ট্র বিভাগ, একজন বিচারক ও অন্যদের বিরুদ্ধে ৯৪ মিলিয়ন ডলারের একটি ক্ষতিপূরণ মামলা করেছেন৷

এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তিনি ক্ষমা চাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন৷ বিশেষ করে নেটফ্লিক্সে ‘টাইগার কিং' মুক্তি পাওয়ার পর জো এক্সোটিকের প্রতি দর্শকদের সমর্থন এতটা বেড়েছে যে, এখন অনেক সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী তাঁর মুক্তি চাইছেন৷

জো এক্সোটিক আর ব্যাসকিনের দ্বন্দ্ব ছাড়াও বিগ ক্যাট নিয়ে কাজ করা কয়েকজন পাগলাটে চরিত্রের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন টাইগার কিং দর্শকরা৷  যেমন সাবেক কোকেন সম্রাট জেফ লো৷ মেয়েদের আকৃষ্ট করতে তিনি বিভিন্ন পার্টিতে বাচ্চা বাঘ নিয়ে উপস্থিত হন৷ 

আরও আছে রোডসাইড চিড়িয়াখানা ‘ওয়াইল্ড লাইফ ইন নিড' এর মালিক টিম স্টার্ক এবং হলিউড মুভির জন্য প্রাণিদের প্রশিক্ষণ দেয়া কেভিন অ্যান্টেল, যিনি ডক অ্যান্টেল নামে বেশি পরিচিত৷

টাইগার কিং সিরিজে যুক্তরাষ্ট্রের ‘রোডসাইড চিড়িয়াখানা’র বিস্তারিত উঠে এসেছে৷  মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারীদের রাস্তার পাশে অবস্থিত গ্যাস স্টেশনসহ অন্যান্য বিষয়ের প্রতি আকৃষ্ট করতে এমন কয়েক হাজার অননুমোদিত চিড়িয়াখানা গড়ে উঠেছে৷  সেখানে প্রাণিরা কেমন থাকে, তাদের কেমন খাবার দেয়া হয়, এসব বিষয় উঠে এসেছে৷

করোনার এই সময়ে বেশিরভাগ মানুষ বাসায় থাকায় অনলাইনে অনেকটা সময় কাটাচ্ছেন৷ ফলে হত্যা রহস্য, বাঘ, বিগ ক্যাট, পার্টি, প্রাণি সংরক্ষণ, প্রশিক্ষণ- এমন নানান গল্পে ভরপুর সিরিজে ডুবে যাচ্ছেন তারা৷

জেডএইচ/কেএম

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়