করোনার খরচ তুলতে ধনীদের ওপর কর | বিষয় | DW | 11.12.2020

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

করোনা সংকট

করোনার খরচ তুলতে ধনীদের ওপর কর

মহামারি মোকাবিলা করতে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, সে খরচ তুলতে কোটিপতিদের ওপর এককালীন কর আরোপের পরিকল্পনা করছে আর্জেন্টিনা সরকার৷ ধনীরা এতে আপত্তি জানালেও অনেকেই বলছেন এভাবেই বৈষম্য দূর করা সম্ভব৷

করোনার কারণে লকডাউন ও অর্থনৈতিক সংকট চলছে প্রায় এক বছর ধরে৷ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আর্জেন্টিনার সরকারও হিমশিম খাচ্ছে পরিস্থিতি সামলাতে৷ এমন পরিস্থিতিতে দেশটির পার্লামেন্টের দুই কক্ষই ধনীদের ওপর এককালীন কর আরোপের পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছে৷

এই পরিকল্পনা অনুযায়ী যেসব নাগরিকের ব্যক্তিগত সম্পদের আর্থিক মূল্য অন্তত বিশ কোটি পেসো (বাংলাদেশি মুদ্রাতেও প্রায় ২০ কোটি টাকা) এমন ১১ হাজার ৮৬৫ জন আর্জেন্টাইনকে চিহ্নিত করা হয়েছে৷

আপোর্তে সলিদারিও ই এক্সত্রাওর্দিনারিও বা অসাধারণ সংহতি সহায়তা নামের একটি তহবিল গড়ে তোলা হয়েছে৷ আর্জেন্টিনার মধ্যে ২০ কোটি থেকে ২৯ কোটি পেসোর সম্পদ থাকলে এর শতকরা দুই ভাগ, ৩০ কোটির ওপরে সম্পদের জন্য সম্পদের তিন দশমিক পাঁচ ভাগ অর্থ এই তহবিলে দিয়ে দিতে হবে৷ অন্যদিকে বিদেশে সম্পদ থাকলে সেটির তিন থেকে পাঁচ দশমিক দুই পাঁচ শতাংশ অর্থ জমা দিতে হবে৷

করোনার ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং দরিদ্রআর্জেন্টাইনদের অবস্থা আরো করুণ হয়েছে৷ তাদেরসহায়তার জন্যই গড়ে তোলা হচ্ছে এই তহবিল৷

সিনেটের বাজেট কমিটির প্রেসিডেন্ট কার্লোস কাসেরিও বলেন, "জনসংখ্যার কেবল শুন্য দশমিক শুন্য দুই শতাংশ মানুষ এই অবদান রাখবে৷ কেউ বিভ্রান্ত হবেন না, আমরা ধনীদের বিরুদ্ধে কোনো আলাদা ব্যবস্থা নিচ্ছি না৷” সরকার করোনার মধ্যে ধনী ও গরীবের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যেই এই তহবিল গঠন করছে বলেও জানান তিনি৷

তবে স্বভাবতই এর তীব্র বিরোধিতাও রয়েছে৷ বিরোধী দল র‍্যাডিকেল সিভিক ইউনিয়ন- ইউসিআরের সিনেটর এক টুইটে বলেছেন, "আমরা এমনিতেই রেকর্ড পরিমাণ কর নেয়া একটি দেশে বাস করি৷ তারপরও আমাদের রেকর্ড পরিমাণ দারিদ্র্য৷ নতুন কর আরোপ না করে কিভাবে ব্যবস্থাপনা ভালো করা যায়, সেটা শিখতে পারি না আমরা?”

একই ধরনের মন্তব্য দেশটির অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ সেসার লিটভিনেরও৷ এক ইমেইলে তিনি বলেন, ‘‘করোনা মোকাবিলায় আমাদের আরো অনেক টাকা দরকার সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই৷ কিন্তু আমার ধারণা ধনীদের ওপর এই কর আরোপের মাধ্যমে যা হবে বলে আশা করা হচ্ছে, বাস্তবে হবে তার উলটো৷''

জার্মানিতে সর্বোচ্চ আয়কর ৪৫ শতাংশ, সে তুলনায় আর্জেন্টিনায় সর্বোচ্চ আয়কর ৩৫ শতাংশ৷ কিন্তু আয়কর ছাড়াও দেশটিতে জাতীয়, প্রাদেশিক ও পৌর পর্যায়ে আরো নানা ধরনের কর দিতে হয় নাগরিকদের৷

লিটভিন মনে করেন বিশাল করের বোঝা টানতে টানতে দেশটির জনগণ এখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন৷

ইনেস আইসেলে/এডিকে

সংশ্লিষ্ট বিষয়