করোনার ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ডেঙ্গুর প্রভাবে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি | বিশ্ব | DW | 27.06.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

করোনার ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ডেঙ্গুর প্রভাবে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

হঠাৎ করেই করোনার ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ডেঙ্গুর প্রভাব বেড়েছে৷ বিশেষজ্ঞরা চিকিৎসকরা বলছেন, কেউ করোনার পর ডেঙ্গু বা ডেঙ্গুর পর করোনার আক্রান্ত হলে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে৷ সামনে ঈদ, ফলে এখনই সতর্ক না হলে বড় ধরনের বিপর্যয় হতে পারে৷

BdTD Bangladesch Denguefieber

ফাইল ফটো

কেউ কেউ বলছেন, এটা করোনার চতুর্থ ঢেউ, আবার কেউ বলছে এটা পঞ্চম ঢেউ৷ এটা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে৷ গত রোববার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬৮০ জন, মৃত্যু দুই জনের৷ আগের দিনও একজনের মৃত্যু হয়েছে৷ একই দিন দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩২ জন৷ এর মধ্যে ২৯ জনই ঢাকার৷ চলতি বছরের এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রন্ত হয়েছেন ৯৫২ জন৷ এর মধ্যে একজন মারা গেছেন৷ ডেঙ্গুর মৌসুম সবে শুরু হয়েছে৷

শ্যমলীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার ডয়চে ভেলেকে বলেন, "এক সপ্তাহ আগেও কোন রোগী ছিল না৷ অনেকদিন পরপর দু'একজন আসত৷ আর এখন ১০-১২ জন আছে৷ যারা আছে তারা টিকা নেওয়ায় তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থা বেশ ভালো৷ তবে করোনার পর যদি কারো ডেঙ্গু হয় সেটা ভয়ঙ্করভাবে মৃত্যুঝুঁকি তৈরি করে৷ গত বছর এমন বেশ কয়েকজন রোগী পাওয়া গেলেও এখনও এই হাসপাতালে এমন কোন রোগী আসেনি৷”

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সরকার রাজধানীর পুরাতন পাঁচটি সরকারি হাসপাতাল প্রস্তুত করেছে৷ আর করোনা রোগীদের জন্য ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, "শনাক্তের হার ৫ শতাংশের ওপরে গেলেই বিপজ্জনক পর্যায়ে চলে যায়৷ আর এখন নমুনা পরীক্ষা অনুযায়ী শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ৷ ফলে অবশ্যই এটা পঞ্চম ঢেউ৷ যদি কেউ কেউ এটাকে চতুর্থ ঢেউ বলছেন৷ সেটা যাই হোক, সামনে ঈদ এখনই সতর্ক না হলে বড় ধরনের বিপর্যয় হতে পারে৷ টিকার প্রভাব মূলত তিন মাস থাকে৷ ফলে যে কেউ আক্রান্ত হতে পারেন৷” 

‘করোনার পর যদি কারো ডেঙ্গু হয় সেটা ভয়ঙ্করভাবে মৃত্যুঝুঁকি তৈরি করে’

সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের ১২ জন বিচারক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন৷ সোমবার আপিল বিভাগে বিচারকাজ পরিচালনার সময় প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এ তথ্য জানিয়েছেন৷ প্রধান বিচারপতি বলেন, ১২ জন বিচারক করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় কোর্ট পরিচালনা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে৷ দ্বৈত বেঞ্চের একজন করোনায় আক্রান্ত হলে ওই বেঞ্চের বিচার কাজ বন্ধ থাকে৷ এক্ষেতে তিনি আইনজীবীদের সহযোগিতার আহ্বান জানান৷

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর ডয়চে ভেলেকে বলেন, "করোনা, ডেঙ্গু ও মৌসুমি সর্দি-জ্বর এই তিনের সংমিশ্রণে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে৷ কেউ যদি কোন একটা রোগে আক্রান্ত হন তাহলে অন্যগুলোর পরীক্ষা করাও জরুরি৷ যদি একেকটা রোগের ধরণ আরেকরকম৷ করোনার কারণে আক্রান্ত হয় ফুসফুস৷ আর ডেঙ্গু আক্রান্ত করে রক্ত৷ ফলে আমাদের স্বাস্থ্য বিধি মানতে হবে৷ আর ডেঙ্গু মোকাবিলার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযান চালাতে হবে৷ এডিস মশার উৎসস্থল ধ্বংস করতে হবে৷

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, "করোনার উর্ধ্বগতির মধ্যেই আমরা পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করলাম৷ সেখানে কতজন মাস্ক পরে গিয়েছিল সেটা আমরা টিভিতে দেখেছি৷ সিলেটে ত্রাণের জন্য বহু মানুষ একত্রিত হচ্ছে, সেখানে তো আর স্বাস্থ্যবিধি মানার সুযোগ নেই৷ আবার সামনে ঈদ বহু মানুষ শহর থেকে গ্রামে যাবেন৷ ফলে ঝুঁকি বাড়ছেই৷ এর সঙ্গে ডেঙ্গু যোগ হওয়ায় সামনের সময়ে কঠিন পরিস্থিতি হতে পারে৷ ফলে সরকারকে সচেতন হতে হবে, আমাদেরও সচেতন হবে৷”

করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের দাপট কমলে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হাজারের নিচে নেমে আসে৷ ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে একপর্যায়ে ২৬ মার্চ তা ১০০ এর নিচে নেমে এসেছিল৷ গত ৫ মে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা নেমেছিল চার জনে৷ শনাক্তের হার ১ শতাংশের নিচে ছিল বেশ কিছু দিন৷ তবে গত ২২ মে'র পর থেকে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা আবারও বাড়ছে৷ ১১ সপ্তাহ পর দৈনিক শনাক্ত কোভিড রোগীর সংখ্যা গত ১২ জুন আবার ১০০ ছাড়িয়ে যায়৷ ১৪ দিনের মাথায় রোববার তা দেড় হাজারের ঘরও ছাড়িয়ে গেছে৷

‘করোনা, ডেঙ্গু ও মৌসুমি সর্দি-জ্বর এই তিনের সংমিশ্রণে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে’

বাংলাদেশে টিকায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন

দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গণটিকা কার্যক্রম শুরু হয় ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে৷ প্রথমে ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রার কথা জানালেও পরে তা কমিয়ে ৭০ শতাংশ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা৷ গত ২৬ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচির ১৬ মাসে প্রথম ডোজ গ্রহীতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৯ লাখ ৯৫ হাজার ৮০৯ জন৷ যা জনসংখ্যার ৭৬ দশমিক ২৮ শতাংশ৷ আর দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ১১ কোটি ৯১ লাখ ৯৯ হাজার ২৪৫ জন৷ যা মোট জনসংখ্যার ৭০ দশমিক ৪৯ শতাংশ৷ সেই হিসাবে দেখা যায়, লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও প্রায় ১ কোটি বেশি মানুষকে প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হয়েছে৷ ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে দ্বিতীয় ডোজেও৷

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘রিপোর্ট অন বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০২০'-এর হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯১ লাখ৷ সুতরাং মোট জনসংখ্যার দেশের ৭০ শতাংশ জনসংখ্যাকে টিকার আওতায় আনতে হবে৷ সেই হিসাবে ১১ কোটি ৮৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা প্রাপ্তির কথা থাকলেও প্রায় এক কোটি ছয় লাখ ২৫ হাজার ৮০৯ জন বেশি মানুষ এসেছে প্রথম ডোজের আওতায়৷ আর লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে আট লাখ ২৯ হাজার ২৪৫ জন অতিরিক্ত মানুষকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে৷ আর বুস্টার ডোজ নিয়েছেন দুই কোটি ৮৭ লাখ ৮২ হাজার ৯০৪ জন৷

টিকা দেওয়া হবে পাঁচ-১২ বছর বয়সিদেরও

জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে পাঁচ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের ফাইজারের টিকা দেওয়া হবে৷ এজন্য সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে৷ সোমবার দুপুরে রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান৷ তিনি বলেন, "যাদের জন্ম নিবন্ধন নেই, তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে করে নেওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি৷” করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে আরও ৪০ লাখ ফাইজারের টিকা অনুদান দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশকে ফাইজারের টিকার আরও চার মিলিয়ন (৪০ লাখ) রেডি টু ইউজ ডোজ অনুদান দিতে পেরে যুক্তরাষ্ট্র গর্বিত৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়