করোনার আতঙ্কের মাঝে ডেঙ্গুর হানা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 19.07.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

করোনার আতঙ্কের মাঝে ডেঙ্গুর হানা

চলতি মাসে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৯১০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন৷ এই সংখ্যা বছরের প্রথম ছয় মাসের প্রায় তিনগুণ৷ আগের ছয় মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৯২৷

বাংলাদেশের একটি হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড৷ ছবিটি গত বছরের৷

বাংলাদেশের একটি হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড৷ ছবিটি গত বছরের৷

শুধু তাই নয়, গত বছরের পুরো ১২ মাসের সঙ্গে এই বছরের জুলাই মাসের ১৮ দিন তুলনা করলে আক্রাস্ত প্রায় সমান৷ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ১২ মাসে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৩৯২ জন৷ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্বের অধ্যাপক কবিরুল বাশার তাই বর্তমান পরিস্থিতকে ভয়াবহ মনে করছেন৷ তিনি আশঙ্কা করেন, ‘‘ঈদে লোকজন যে দল বেঁধে বাড়ি যাচ্ছেন, তারা শহর থেকে গ্রামে ডেঙ্গু নিয়ে যাচ্ছেন৷ ডেঙ্গু এবার গ্রামেও ছড়িয়ে পড়বে৷’’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন৷ তাদের মধ্যে ঢাকায় ৭৪ জন এবং ঢাকার বাইরে একজন৷ দেশের হাসপাতালগুলোতে এখন মোট ৪০৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন৷ এর মধ্যে ঢাকায় ৩৯৮ জন৷ ঢাকার বাইরে পাঁচ জন৷  ঢাকার ৪১টি সরকারি ও  বেসরকারি হাসপাতালে এখন ডেঙ্গু রোগী  আছে৷

অডিও শুনুন 04:40

ঢাকার এমন কোনো এলাকা নেই যেটা ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে নেই: কবিরুল বাশার

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তালিকায় স্পষ্ট যে, এখন ঢাকার বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেই ডেঙ্গু রোগী বেশি৷ যেমন, সেন্ট্রাল হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ১১ জন, আদ দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আট জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে আট জন, সরকারি শিশু হাসপাতালে দুইজন৷ কোভিডের চাপের কারণে সাধারণ চিকিৎসা ব্যবস্থার অবনতির কারণে অনেক ডেঙ্গু রোগীই এখন বেসরকারি হাসপাতালে যাচ্ছেন৷

কবিরুল বাশার বলেন, ‘‘ঢাকার সব এলাকায়ই এখন এডিস মশার ঘনত্ব বেশি৷ জুন মাসে যে সার্ভে করি, তাতে দেখা যায়, গত বছরের চেয়ে এডিস মশার ঘনত্ব প্রায় ২০ গুণ বেশি৷ ঢাকার এমন কোনো এলাকা নেই যেটা ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে নেই৷’’

তিনি বলেন, এবার বুষ্টি হয়েছে অনেক, আদ্রতা বেশি, তাপমাত্রা বেশি- এইসব কারণে এবার এডিস মশার প্রজনন অনেক বেশি৷ তার মতে, ডেঙ্গুর প্রজনন ঠেকাতে সচেতনতা ও আগাম প্রস্তুতি কম ছিল৷

তার মতে, ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব যখন দেখা দেয় তার আগে কোরবানির ঈদ ছিল৷ ঈদে অনেক মানুষ গ্রামে যায়৷ এরপরই সারাদেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ে৷ এবারও সেই পরিস্থিতি হতে পারে৷ কারণ, ঢাকায় ডেঙ্গুর পরিস্থিতি খারাপ৷ অনেকেই বুঝতে পারছেন না যে তারা ডেঙ্গু আক্রান্ত৷ এখন তারা গ্রামে যাচ্ছেন৷ ফলে ডেঙ্গু গ্রামে ছড়িয়ে পড়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে৷

অডিও শুনুন 03:20

এবার হেমোরেজিক রক্তক্ষরণ হয়, যা আতঙ্কের: ডা. এ এস এম আলমগীর

তিনি দাবি করেন, সরকারি হিসেবে এ বছর ডেঙ্গুতে কেউ মারা না গেলেও আনঅফিসিয়ালি চার জন মারা গেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে৷ আইইডিসিআর তাদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে৷ তবে আইইডিসিআর জানায়, তারা দুইজনের মুত্যু ডেঙ্গুতে কিনা তা খতিয়ে দেখছেন৷

আইইডিসিআর-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম আলমগীর বলেন, ‘‘বাংলাদেশে এখন সারাবছরই মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন৷ কিন্তু আমরা দেখছি এবার হেমোরেজিক বেশি৷ রক্তক্ষরণ হয়, যা আতঙ্কের৷ আমরা পরীক্ষা করে দেখছি ডেঙ্গুর নতুন কোনো স্ট্রেন হয়েছে কিনা৷’’

তার মতে, করোনার কারণে এখন পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থা চাপের মুখে আছে সত্য, কিন্তু বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও চিকিৎসায় সব ধরনের সক্ষমতা আছে৷ জ্বর হলে এখন সবাই করোনা টেস্ট করান, ডেঙ্গু টেস্ট করান না৷ করোনা টেস্টের সাথে সাথে ডেঙ্গু টেস্টও করাতে হবে৷ জ্বর ডেঙ্গুর কারণেও হচ্ছে৷  আর চিকিৎসা দ্রুত শুরু করতে হবে৷ কারণ, চিকিৎসা দ্রুত শুরু করলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সহজ৷

তিনি বলেন, ‘‘এবার লকডাউনের কারণে মানুষ দীর্ঘ সময় বাড়িতে থাকছেন৷ এ কারণেই বাড়িতে পানি ও ময়লা জমতে দেয়া উচিত নয়৷ এটা অনেকে খেয়াল করছেন না৷ তাই বাড়িই এবার এডিস মশার বড় প্রজননক্ষেত্র৷ আর শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ এবার শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়