করোনাকালে প্রথম এইচএসসি দিচ্ছে ১৪ লাখ পরীক্ষার্থী | বিশ্ব | DW | 02.12.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

করোনাকালে প্রথম এইচএসসি দিচ্ছে ১৪ লাখ পরীক্ষার্থী

মহামারির কারণে গতবছর পরীক্ষা না হওয়ায় এ বছর নির্ধারিত সময়ের আট মাস পর প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থী মাস্ক পরে উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা দিচ্ছে৷

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বৃহস্পতিবার বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে৷ মহামারির কারণে এবারের পরীক্ষার্থীদের সশরীরে ক্লাস করার সুযোগ কমই হয়েছে৷ এবার নতুন পরিস্থিতিতে নতুন নিয়মে পরীক্ষা হচ্ছে৷   

এবার শিক্ষার্থীদের আগের মতো ১২টি বিষয়ের পরীক্ষা দিতে হবে না৷ সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে গ্রুপভিত্তিক তিনটি নৈর্বচনিক বিষয়ে ছয়টি পত্রের পরীক্ষা হবে এবং সময়কাল তিন ঘণ্টার বদলে দেড় ঘণ্টা৷ বাংলা, ইংরেজির মতো আবশ্যিক বিষয়গুলোতে পরীক্ষা না নিয়ে আগের পাবলিক পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে৷

পরীক্ষাকেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ি

 শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র দেখিয়ে তাপমাত্রা মাপার পরীক্ষা পেরিয়ে সবাইকে কেন্দ্রে ঢুকতে হয়েছে৷ হাত জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা ছাড়াও আইসোলেশন রুমও রাখা হয়েছে পরীক্ষাকেন্দ্রে৷

পরীক্ষা কেন্দ্রে অভিভাবকদের বাড়তি চাপ নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা রয়েছে৷ পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থী ও কেন্দ্রের কর্মী ছাড়া অন্য কাউকে ২০০ গজের ভেতরে প্রবেশ করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ৷

এবার  ৯ হাজার ১৮৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে এবং পরীক্ষা হচ্ছে মোট ২ হাজার ৬২১টি কেন্দ্রে৷

নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ১১ লাখ ৩৮ হাজার ১৭ জন৷ ১ লাখ ১৩ হাজার ১৪৪ জন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম এবং ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০৩ জন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিএম ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় বসছে৷

নয়টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ড থেকে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ জন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে, ৬ লাখ ৫৬ হাজার ১৩২ জন মানবিক বিভাগ থেকে এবং ২ লাখ ২৭ হাজার ৫৫ জন বাণিজ্য বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিচ্ছে৷

২০২০ সালের তুলনায় এ বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৩৩ হাজার ৯০১ জন বা ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ৷

এ বছর দেশের বাইরে ৮টি কেন্দ্রে (জেদ্দা, রিয়াদ, ত্রিপলী, দোহা, আবুধাবী, দুবাই, বাহরাইন ও ওমানের সাহাম) ৪০৬ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা দেবে৷

বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীদের ১৫ মিনিটে ২৫টির এমসিকিউ প্রশ্নের মধ্যে ১২টির উত্তর দিতে হবে৷ আর সোয়া ১ ঘণ্টায় তত্ত্বীয় পরীক্ষায় আটটি প্রশ্নের মধ্যে দুটির উত্তর দিতে হবে৷

মানবিক ও ব্যবসায় শাখার পরীক্ষার্থীদের ১৫ মিনিটে ৩০টি এমসিকিউ প্রশ্নের মধ্যে ১৫টির উত্তর দিতে হবে৷ তত্ত্বীয় পরীক্ষায় ১১টি প্রশ্নের মধ্যে ৩টির উত্তর দিতে হবে সোয়া ১ ঘণ্টার মধ্যে৷

যেসবনিয়মমানাজরুরি

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে হওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কিছু নির্দেশনা দিয়েছে, যেগুলো মানতে হবে৷

পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে আসন গ্রহণ করতে হবে৷

 ‘অনিবার্য কারণে' কোনো পরীক্ষার্থীকে এর পরেও হলে প্রবেশ করতে দিলে তাদের নাম, রোল নম্বর, প্রবেশের সময়, বিলম্ব হওয়ার কারণ একটি রেজিস্ট্রারে উল্লেখ করে ওই দিনই শিক্ষা বোর্ডে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে৷

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী শ্ৰুতি লেখক সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে৷ এ ধরনের পরীক্ষার্থী এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ১০ মিনিট সময় পাবে৷

প্রতিবন্ধী (অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম, সেরিব্রাল পালসি) পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবে৷ শিক্ষক/অভিভাবক/সাহায্যকারীর বিশেষ সহায়তায় তাদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকবে৷

কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না৷ শুধু কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছবি তোলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধাহীন একটি সাধারণ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন৷

 ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র গ্রহণ ও পরিবহন কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা, শিক্ষক, কর্মচারীরা কোনো ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না ও প্রশ্নপত্র বহনের কাজে কালো কাচযুক্ত মাইক্রোবাস বা এ ধরণের কোন যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না৷

প্রত্যেক কেন্দ্রের জন্য একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিতে হবে৷ ট্রেজারি থেকে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রশ্নপত্র গ্রহণ করে পুলিশ পাহারায় কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে৷ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ছাড়া প্রশ্ন বের করা যাবে না বা বহন করা যাবে না৷

 ট্রেজারি থেকে নির্দিষ্ট তারিখের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সকল সেট কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে৷

ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নির্ধারিত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে; প্রশ্নের সেট কোড পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিটি আগে জানানো হবে৷ সে অনুযায়ী নির্ধারিত সেট কোডে পরীক্ষা নিতে হবে৷

কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতি ও স্বাক্ষরে বিধি অনুযায়ী প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলতে হবে৷

অনিবার্য কারণে কোনো পরীক্ষা দেরিতে শুরু করতে হলে যত মিনিট পরে পরীক্ষা শুরু হবে পরীক্ষার্থীদের সে সময় থেকে যথারীতি প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত নির্ধারিত সময় দিতে হবে৷

শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরীক্ষা সংশ্লিষ্টদের করোনাভাইরাস স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে৷

একজনের বেশি অভিভাবক পরীক্ষার্থীর সঙ্গে কেন্দ্রে আসতে পারবে না৷ পরীক্ষার্থী উত্তরপত্রের ওএমআর ফরমে তার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবে, কোন অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না৷

পরীক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রেশন ও প্রবেশপত্রে উল্লেখিত বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছাড়া ভিন্ন বিষয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না৷

পরীক্ষায় সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ছাড়া প্রোগ্রামিং ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না৷

সৃজনশীল বা রচনামূলক (তত্ত্বীয়) ও বহুনির্বাচনী পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর একই উপস্থিতিপত্র ব্যবহার করতে হবে৷

এনএস/এসিবি (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম) 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়