করোনাকালেই পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন কেন? | বিশ্ব | DW | 10.01.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

করোনাকালেই পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন কেন?

গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ৭৯ হাজার মানুষ। করোনাকালেই পাঁচ রাজ্যে ভোট হচ্ছে।

করোনাকালের ভোট। মাস্কহীন ভোটদাতাদের মাস্ক দিচ্ছেন পুলিশ কর্মী।

করোনাকালের ভোট। মাস্কহীন ভোটদাতাদের মাস্ক দিচ্ছেন পুলিশ কর্মী।

গত বছর মে মাসের পর থেকে ভারতে কখনো এত মানুষ একদিনে করোনায় আক্রান্ত হননি। গত ২৪ ঘন্টায় ভারতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৭৯ হাজার। তার মধ্যে মহারাষ্ট্রে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪ হাজার মানুষ, দিল্লিতে ২২ হাজার। উত্তরপ্রদেশ, যেখানে বিধানসভা নির্বাচন শুরু হচ্ছে ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে, সেখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত হাজার ৬৯৫ জন।

পাঁচ রাজ্যে নির্বাচনের দিন ঘোষণা

করোনাকালেই উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, গোয়া ও মণিপুরে নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশে ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে সাত পর্বে নির্বাচন হবে। মণিপুরে হবে দুই পর্বে। বাকি তিনটি রাজ্যে ১৪ ফেব্রুয়ারি এক পর্বেই নির্বাচন হবে।

কমিশন জানিয়েছে, ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত জনসভা, পথসভা, বাইক মিছিল, পদযাত্রা, রোড শো সব বন্ধ থাকবে। এই সময় কেবল ডিজিটালি প্রচার করা যাবে। ১৫ জানুয়ারির পর অবস্থা দেখে কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাত্র পাঁচজন প্রচার করতে পারবেন। প্রার্থীরা অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন, আবার শারীরীকভাবে গিয়েও দিতে পারবেন।

করোনায় আক্রান্ত এবং যাদের বয়স ৮০ বছরের বেশি, তারা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। প্রতিটি বুথে স্যানিটাইজার ও মাস্ক থাকবে।

পশ্চিমবঙ্গে পুরভোট

পশ্চিমবঙ্গেও চারটি পুরসভায় পুরভোট হবে আগামী ২২ জানুয়ারি। পশ্চিমবঙ্গেও করোনা হুহু করে বাড়ছে। কলকাতা পুলিশেরই ৪৫০ জন কর্মী করোনায় আক্রান্ত। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে দুইশর বেশি চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। রাজ্যে প্রতিদিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

ভোট করা নিয়ে

প্রবীণ সাংবাদিক ও লোকমত পত্রিকার রাজনৈতিক সম্পাদক শরদ গুপ্তা ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ''বিধানসভা ভোট অন্তত ১৫ দিন পিছিয়ে দেয়া উচিত ছিল। বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, অদূর ভবিষ্যতে পরিস্থিতি ঠিক হবে। সেই সময়টুকুর জন্য অপেক্ষা করা যেত।''

শরদের মতে, ''প্রচার যদি ডিজিটালি হয়, তাতে বিজেপি সুবিধা পাবে। কারণ, তাদের কাছে প্রযুক্তি ও পরিকাঠামো আছে। কিন্তু রাজ্য দলগুলি, ছোট দলগুলির কাছে তা নেই। ফলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে না।'' শরদ মনে করছেন, ''সবচেয়ে বড় কথা, মানুষের শরীর আগে, সুস্থতা আগে। তারপর অন্য সবকিছু আসতে পারে।''

পশ্চিমবঙ্গের পুরসভা নির্বাচন নিয়েও চিন্তিত প্রবীণ সাংবাদিক শুভাশিস মৈত্র। ডয়েচে ভেলেকে তিনি বলেছেন, ''এমনিতেই এই নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের পরে হচ্ছে। আরো কিছুদিন পরে হলে খুব একটা অসুবিধা ছিল না। ''

শুভাশিস জানিয়েছেন, ''অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, তিনি চান নির্বাচন পিছিয়ে যাক। তিনি কেন এই কথা বললেন তাও বোধগম্য হলো না। কারণ, তারপরেও তো নির্বাচন ঠিক সময়েই হচ্ছে।''

কেন্দ্রীয় সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ১৫ জানুয়ারির পর থেকে করোনা কমতে থাকবে। নির্বাচন যখন শুরু হবে, তখন তা অনেকটা কমে যেতে পারে।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের অনুরোধ

এলাহাবাদ হাইকোর্ট উত্তরপ্রদেশে নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার অনুরোধ করেছিল। নির্বাচন কমিশন ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচারপতির আবেদন ছিল, ওমিক্রন ছড়াচ্ছে, এই পরিস্থিতিতে ভোট এক থেকে দুই মাস পিছিয়ে দেয়া হোক। বিচারপতি শেখর কুমার যাদব বলেছিলেন, 'জান হ্যায় তো জাহান হ্যায়', মানে জীবন থাকলে তবেই পৃথিবী থাকবে।

দিল্লির অবস্থা

দিল্লিতে হাসপাতালগুলিতে এক হাজার ৮০০ কোরোনা রোগী ভর্তি আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগীর সংখ্যা ১২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। যত করোনা পরীক্ষা হচ্ছে, তার মধ্যে প্রায় ২৪ শতাংশের রিপোর্ট পজিটিভ।

বুস্টার ডোজ শুরু

ভারতে চিকিৎসক, স্বস্থ্যকর্মী, পুরসভা, পুলিশ ও বয়স্কদের বুস্টার ডোজ শুরু হলো।  যারা যে টিকা নিয়েছেন, সেটারই তৃতীয় ডোজ নিতে হবে। দ্বিতীয় টিকা নেয়ার নয় মাস পরে বুস্টার ডোজ পাওয়া যাবে। তবে যাদের বয়স ৬০ বছরের কম, কিন্তু অন্য গুরুতর অসুখ আছে, তারাও বুস্টার ডোজ পাবেন।

জিএইচ/এসজি (পিটিআই, এএনআই)