করোনায় ঢাকাই চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ আরো অনিশ্চিত | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 30.05.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

করোনায় ঢাকাই চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ আরো অনিশ্চিত

দুই মাস ধরে বন্ধ নাটক-সিনেমার শুটিং৷ সাধারণ ছুটি আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্তে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুটিং শুরুর চিন্তাভাবনা করা হলেও ভালো চলচ্চিত্র মুক্তি না পেলে এখনই খুলবে না সিনেমা হল৷

ফলে ঢাকাই চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে৷ কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশে টানা সাধারণ ছুটি চলছে৷ এই সময়ে সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ থাকায় শুটিং ও সিনেমা হল দুটোই বন্ধ হয়ে যায়৷ 

এ বছর সাধারণ ছুটির মধ্যে ঘরবন্দি অবস্থায় কেটেছে বাংলাদেশের বড় দুই উৎসব বাংলা নববর্ষ ও ঈদ৷ সাধারণত ঈদ ও নববর্ষের সময় বাংলাদেশে সিনেমা হলগুলোতে সবচেয়ে বেশি সিনেমা মুক্তি পায়৷  এবার তা হয়নি৷ এই সময়ে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা প্রায় ১৫টি চলচ্চিত্র আটকে গেছে৷ সেইসঙ্গে সিনেমা হল বন্ধ থাকায় এই খাতে ক্ষতির পরিমাণ ‘তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ কোটি টাকা’ বলে জানান বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু৷ 

ভিডিও দেখুন 43:11

বিনোদন মানে কি শুধুই হাস্যকৌতুক?

সাধারণ ছুটি আর না বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের পর নিজেদের ভবিষ্যৎ কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে টেলিফোনে ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেন তিনি৷

বলেন, ‘‘ছুটি আর না বাড়ানোয় ৩১ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব খুলে যাচ্ছে৷ তবে আমরা শুটিং শুরুর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি৷ জুনের ১ বা ২ তারিখে মিটিং করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো৷ শুটিং আর কতকাল বন্ধ রাখবো৷ শুটিং তো শুরু করতেই হবে৷

‘‘ভারতের মুম্বাইয়েও শুটিং শুরু হয়েছে৷ অক্ষয় কুমার মাস্ক পরে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শুটিং করছেন৷ আমরাও স্বাস্থ্যবিধির একটি গাইড লাইন অনুসরণ করে শুটিং শুরু করবো৷ আমাদের কাজ শুরু করতে হবে৷ কাজ এবং কারোনা দুটোকে একসঙ্গে বয়ে নিয়ে যেতে হবে৷’’

চলচ্চিত্রে অনেক শিল্পী-কলাকুশলী দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন৷ দুই মাসের বেশি সময় ধরে শুটিং বন্ধ থাকায় তাদের অনেকে বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন৷ লোকসানের মুখে ধুঁকতে থাকা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)-এর কর্মীদেরও দুই মাস ধরে বেতন বন্ধ ছিল৷  পরে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ‘অনুদান’ হিসেবে পাওয়া ৬ কোটি টাকা থেকে ২৬১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মার্চ ও এপ্রিল মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়৷

তবে দৈনিক মজুরির শিল্পী-কলাকুশলীরা এর আওতায় পড়েননি৷ কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বটে৷ তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য৷

প্রযোজক, পরিবেশক সমিতির পক্ষ থেকে ওইসব মানুষকে আর্থিক সহায়তা করা হচ্ছে বলে জানান খসরু৷

লকডাউনে সিনেমা হল মালিকরাও বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন৷ আয় না থাকায় আটকে গেছে কর্মচারীদের বেতন৷ হল মালিকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কী উদ্যোগ নেওয়া যায় সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান খসরু৷ 

অডিও শুনুন 02:28

‘শুটিং শুরুর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি’

এ বিষয়ে জানতে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হয়েছিল রাজধানীর মধুমিতা সিনেমা হলের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদের সঙ্গে৷

দুই মাসের বেশি সময় ধরে সিনেমা হল বন্ধ থাকার কারণে তারা অনেক সংকটে আছেন জানিয়ে ইফতেখার উদ্দিন বলেন, ‘‘এমনিতেই সিনেমা হলের ব্যবসা নেই৷ তিন মাস হতে চলেছে স্টাফদের বেতন দিতে পারছি না৷’’

ছুটি আর না বাড়লেও এখনই সংকটমুক্তি হচ্ছে না বলেও মনে করেন এই হল মালিক৷ বলেন, ‘‘ছুটি শেষ হলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম তো থেকেই যাবে৷ তাই ভালো ছবি মুক্তি না পেলে দর্শক হলে আসবে না৷ সবাই জনসমাগম ভয় পাচ্ছে৷ দর্শক না এলে কোনো মালিক হল খোলার সাহস পাবে না৷ তাই ভালো ছবি মুক্তি পেতে হবে৷ না হলে হলগুলো বন্ধই থাকবে৷ 

‘‘ঈদের আগে এক পক্ষ হল খুলতে চেয়েছিল৷ কিন্তু ঈদে তো কোনো ছবিই মুক্তি পায়নি৷ পুরান ছবি দিয়ে হল খুললে তো দর্শক আসতো না৷ তাই বেশিরভাগ মালিক হল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন৷ পরিস্থিতি ভালো হলে একবারে হল খোলা ভালো হবে৷’’

এদিকে ছুটি আর না বাড়ায় সরকার ও আন্তঃসংগঠনের বেশ কয়েকটি শর্ত মেনে আগামী সোমবার থেকে নির্মাতা-অভিনয়-শিল্পীদের টিভি নাটকের শুটিং শুরুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন