করাচিতে বেড়ে গেছে অনাকাঙ্খিতভাবে জন্ম নেয়া শিশু হত্যা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 18.01.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

করাচিতে বেড়ে গেছে অনাকাঙ্খিতভাবে জন্ম নেয়া শিশু হত্যা

পাকিস্তানের বন্দর নগরী করাচি৷ সেখানে বেড়ে যাচ্ছে অনাকাঙ্খিতভাবে জন্ম নেয়া শিশুর মৃত্যু৷ সপ্তাহের কোন না কোন দিন সেখানকার কোন আবর্জনা ফেলার জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু৷

default

অনাকাঙ্খিতভাবে জন্ম নেয়া শিশু হত্যা বেড়ে গেছে করাচিতে

ইদি ফাউন্ডেশন৷ পাকিস্তান ভিত্তিক একটি শিশু ও মানবাধিকার সংগঠন৷ এক কথায় সমাজ সেবা যাদের কাজ৷ তাদেরই একজন স্বেচ্ছাসেবক মোহাম্মদ সেলিম৷ এই তো সেদিনও তিনি একটি নর্দমায় পেলেন দুই দুটি শিশুর লাশ৷ এক বা দুই দিন বয়স৷ তাদেরকে করবস্থ করা হয়েছে একটি নামহীন কবরে৷

Lächelnde Babys auf neuen Ultraschall-Geräten?

পৃথিবীর আলো দেখার আগেই বহু প্রাণ হত্যা করা হচ্ছে

প্রায় নিত্য এই ঘটনা৷ বিবাহ বহির্ভূত সন্তান জন্ম দেয়া সেখানকার মানুষের ধর্ম বহির্ভূত৷ পাকিস্তানের অধিকাংশ মানুষ মুসলিম৷ ইসলামিক আইন অনুসারে বিবাহ বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক এবং সন্তান জন্মদান – দুটোই শাস্তিযোগ্য৷ আর এ কারণেই গোপনে সন্তান জন্ম দেবার পর তাকে হত্যা করা হয়, ফেলে দেয়া হয় নর্দমায়৷ আর ইদি ফাউন্ডেশনের কর্মীরা তা খুঁজে আনেন, নিয়ম অনুসারে কবরস্থ করেন৷

গত বছর এ ধরণের ১ হাজার ২১০টি শিশুর লাশ খুঁজে পেয়েছে এই সংগঠনের কর্মীরা৷ যাদের অধিকাংশই মেয়ে শিশু৷ এর আগের দুই বছরে যথাক্রমে এই সংখ্যা ছিল ৯৯৯ এবং ৮৯০৷ ইদি ফাউন্ডেশন করাচির ম্যানেজার আনোয়ার কাজমির দিলেন এই তথ্য৷ জানালেন, পৈশাচিক কায়দায় এদের অনেককে হত্যা করা হয়েছে৷ কাউকে পাথর দিয়ে আঘাত করে, কাউকে বা পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, এমন শিশুর লাশও খুঁজে পেয়েছে তারা৷

‘হত্যা করো না, আমাদের এখানে দিয়ে দাও' – এমন স্লোগান সম্বলিত একটি সাইনবোর্ড লাগানো আছে ইদি ফাউন্ডেশন এর কার্যালয়ের সামনে৷ এর ফলে অনেকেই তাদের সদ্যোজাত অনাকাঙ্খিত সন্তানকে রেখে যাচ্ছে সেখানে৷ ‘‘যারা এখানে ঐ শিশুদের রেখে যাচ্ছে, তাদের মধ্যে মানবিকতা আছে,'' বললেন ঐ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল সাত্তার ইদি৷ তিনি জানালেন, ‘‘আমরা যাদের এখানে খুঁজে পাই তাদের অধিকাংশের বয়স এক সপ্তাহের কম৷''

পাকিস্তানের পুলিশ অনাকাঙ্খিত জন্ম নেয়া শিশু মৃত্যুর বিষয়ে কোন মামলা গ্রহণ করে না৷ এমনকি কোন সাধারণ ডায়েরিভুক্তও করা হয় না সেগুলো৷

প্রতিবেদন: সাগর সরওয়ার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন