করাচিতে বর্জ্য বেচাকেনা | অন্বেষণ | DW | 22.01.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

করাচিতে বর্জ্য বেচাকেনা

২০১৯ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী করাচি পৃথিবীর সবচেয়ে অবাসযোগ্য নগরীর একটি৷ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি এ অবস্থার অন্যতম কারণ৷ একটি স্টার্টআপ কোম্পানি শহর পরিষ্কারের দায়িত্ব নিয়েছে৷ তবে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে মাফিয়ারা৷

করাচি শহরের বাইরে জাম চক্র এলাকাটি বিখ্যাত বর্জ্যের জন্য৷ ৫শ হেক্টর জমিতে পাহাড় সমান উঁচু বর্জ্য পড়ে থাকে এখানে৷ এটি  এখানকার সবচেয়ে বড় বর্জ্যের ভাগাড়৷ ময়লা কুড়ানি আর বর্জ্য মাফিয়াদের আড্ডাখানা৷

এই অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্যের কেনাবেচা এখানকার পরিবেশ নষ্টের গোড়া৷ আর এটা একরকম স্বীকৃতই৷ বিষয়টি ভাবায় সবাইকেই৷ কিন্তু খুব বেশি মানুষ মাথা ঘামাবার সাহস করেন না৷

এ অবস্থায় তিন বছর আগে আহমাদ শাব্বার ‘গার্বেজ ক্যান' নামের একটি পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্টার্টআপ গড়ে তোলেন৷ কারণ পাকিস্তানিরা জনপ্রতি এক কেজিরও কম বর্জ্য তৈরি করলেও সরকার কেবল তার অর্ধেকটাই জোগাড় করতে পারে৷

গারবেজক্যানের প্রতিষ্ঠাতা আহমাদ শাব্বার বলেন, ‘‘সরকারের জন্য পুরোটা ব্যবস্থাপনা করা কঠিন৷ জনগণের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন৷ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমরা পৃথিবী থেকে ২০ বছর পিছিয়ে আছি৷ এটা মেনে নিয়ে সুশীল সমাজ আধুনিক সমাধান বের করার চেষ্টায় আছে৷''

করাচি প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তের হাজার টন কঠিন বর্জ্য তৈরি করে৷ বর্জ্য তৈরির এ হার প্রতিদিনই বাড়ছে৷ বর্জ্য তৈরির একটা বড় জায়গা হলো করাচি বিশ্ববিদ্যালয়৷

এখানে বিনা পয়সায় বর্জ্য সংগ্রহ করে গার্বেজক্যান৷ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কোনো পয়সা দিতে হয় না৷ এর বদলে কোম্পানি সেখানকার আবার ব্যবহার করা যায় এমন বর্জ্য বিক্রি করে অর্থ আয় করে৷ প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ কেজি পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য সংগ্রহ করে গার্বেজক্যান৷

ভিডিও দেখুন 04:39

বর্জ্য বিক্রি করে আয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এই উদ্যোগ খুব একটা লাভজনক না হলেও এটা ছাড়তে চায় না গার্বেজক্যান৷

‘‘এটা শুধু ময়লা আবর্জনার বিষয় না, জীবনমানেরও বিষয়৷ কিছুটা স্বার্থপরের মতোও শোনায়৷ কারণ আমি যদি করাচি বা পাকিস্তানে থাকতে চাই, আমি এই বর্জ্যের মাঝখানে থাকতে চাই না,'' বলেন শাব্বার৷

কোম্পানির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সব ব্যবহারযোগ্য বর্জ্যকে আলাদা করা হয়৷ সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় কাগজ ও প্লাস্টিক৷ সবচেয়ে বেশি দাম অ্যালুমিনিয়াম ক্যানের৷

সময়ভেদে প্লাস্টিকের দাম ভিন্ন হয়৷ গরমে দাম বেশি৷ কারণ তখন বেশি ব্যবহার হয়৷ তখন প্রতিকেজিতে প্রায় ৫০ টাকা পাওয়া যায়৷

এমন আধুনিক এই ধারণা থাকা সত্ত্বেও করাচিতে বর্জ্য কেনাবেচা একটি ঝামেলাপূর্ণ প্রক্রিয়া৷

শাব্বার বলেন, ‘‘অবশ্যই গারবেজ মাফিয়ারা এর সঙ্গে জড়িত৷ এরাই অবৈধভাবে এই ব্যবসা চালায়৷ আপনি যদি এর গোড়া খুঁজতে যান, দেখবেন এখানে আছে শিশুশ্রম, আছে শিশু যৌননিপীড়ন৷ মাদকাসক্তরা ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে মাদক কেনে৷''

মাফিয়াচক্রের বেশিরভাগ থাকেন করাচির উপকণ্ঠে শের শাহ কলোনিতে৷ এর পাশেই শত কোটি টাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিরাট কারবার৷

এবং দক্ষিণ এশিয়ার বাতিল পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার৷ অ্যালুমিনিয়ামের মতো দাম আছে এমন প্রতি কেজি বর্জ্য এখানে আসে৷

এরপর যথাযথ যন্ত্রপাতি ছাড়াই এগুলোকে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে৷ শুধু করাচিতেই নয়, পুরো পাকিস্তানেরই এমন দশা৷ শাব্বার মনে করেন, ১ কোটি ৪০ লাখ করাচিবাসী চাইলেই পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তুলতে পারেন৷সেজন্য চাই নতুন নতুন কোম্পানি ও নতুন আইডিয়াগুলোর সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব৷

রিজকি নুগ্রাহা/জেডএ

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন