কম বয়সেই অতিরিক্ত ওজন এড়াতে হবে | অন্বেষণ | DW | 12.09.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

কম বয়সেই অতিরিক্ত ওজন এড়াতে হবে

আজকের যুগে অতিরিক্ত ওজন এক বড় সমস্যা৷ ক্ষুধা ও পেট ভরার অনুভূতি অনেকেই ভুলতে চলেছে৷ ফলে মাত্রাজ্ঞান ও আত্মনিয়ন্ত্রণ বোধের অভাব দেখা যাচ্ছে৷ জার্মানিতে এক হাসপাতাল বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করছে৷

আজকের যুগে অতিরিক্ত ওজন এক বড় সমস্যা৷ ক্ষুধা ও পেট ভরার অনুভূতি অনেকেই ভুলতে চলেছে৷ ফলে মাত্রাজ্ঞান ও আত্মনিয়ন্ত্রণ বোধের অভাব দেখা যাচ্ছে৷ জার্মানিতে এক হাসপাতাল বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করছে৷

মাত্রাতিরিক্ত ওজনের সমস্যা আজ সমাজে বিশাল আকার নিয়েছে৷ জার্মানির প্রায় অর্ধেক মানুষের ওজন নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি৷ শিশু ও কিশোরদের এক পঞ্চমাংশ অত্যন্ত মোটা৷ ডাক্তার হিসেবে ড. ক্রিস্টিয়ান  ফালকেনব্যার্গ বলেন, ‘‘গত শতাব্দীর আশি ও নব্বইয়ের দশকের তুলনায় শিশু-কিশোরদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজনের প্রবণতা ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে মহামারি হিসেবে গণ্য করছে৷''

 আমরুম দ্বীপে একটি হাসপাতালে ডাক্তার ও থেরাপিস্টরাঅতিরিক্ত ওজনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালাচ্ছেন৷ সেখানে স্বাভাবিক ওজন ফিরে পেতে উপবাসের বদলে খাওয়াদাওয়া ও খেলাধুলা করতে হয়৷ যেমন ইয়ান হাতেনাতে এর ফল পেয়েছে৷ চার সপ্তাহ আগে তার উজন ছিল ৯০ কিলোগ্রামের বেশি৷ বন্ধুরা যখন অঙ্ক কষতে ব্যস্ত, তখন সে ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করতে শিখছে৷ সে বলে, ‘‘বাড়িতে বেশিরভাগ সময়ে পাস্তা খাওয়া হয়৷ স্প্যাগেটির নানা পদ৷ তার উপর আমি বরাবর বেশি খেয়েছি৷ ফলে অতি দ্রুত খুব মোটা হয়ে গিয়েছিলাম৷'' ১৭ বছরের এই কিশোর এখনো খেতে বড় ভালোবাসে৷ তবে চারবেলা খাবারের মাঝে ফাঁকে চটজলদি কিছু খাবার অভ্যাস সে নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে৷ তার মতে, ‘‘প্রথম তিন দিনে সব সময়ে শুধু খিদে পেতো৷ তারপর অভ্যাস হয়ে যায়৷ আমার পেট আবার ছোট হয়ে গেছে৷ এখন আর অত খাবার ঢোকে না৷''

নজরদারির মধ্যে খাবারের প্রশিক্ষণ চলছে৷ ছোট চামচ দিয়ে ছোট এক পাত্র স্যুপ খেতে হবে৷ ইয়ানকে শিখতে হবে, যে অবসাদের কারণে এবং মূল খাবারের সময়ের ফাঁকে কিছু খেলে চলবে না৷ প্রশিক্ষক স্ভেনইয়া বোন বলেন, ‘‘বাচ্চাদের এমন অভ্যাস করাতে চাই, যা তারা সত্যি প্রয়োগ করতে পারে৷ কী খাবে, তারা নিজেরাই যাতে তা স্থির করতে পারে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে শেখাতে চাই৷ বিষয়টি মনস্তাত্ত্বিক৷ তারা নিজেরাই বলবে, যথেষ্ট হয়েছে আর নয়৷ খিদে পাওয়া ও পেট ভরার অনুভূতি আবার জাগিয়ে তুলতে হবে৷''

ইয়ান এখন জানে, ঠিক কতটা খাবার তার জন্য যথেষ্ট৷ দুই বড় টুকরো মাংস, একমুঠো শাকসবজি বরাদ্দ রয়েছে৷ বাড়িতে ফিরেও সহজ এই হিসেব সে চালু করতে চায়, যাতে হারানো ওজন আবার ফিরে না আসে৷ ইয়ান এখন ব্যায়াম করছে৷ অথচ আগে সে অবসর সময়ে বন্ধুদের সঙ্গে কম্পিউটার গেমস খেলতেই বেশি ভালোবাসতো৷ সেটা যে ভালো নয়, সেই উপলব্ধিও হয়েছিল৷ তবে একা সেই অভ্যাস ত্যাগ করা তার জন্য কঠিন ছিল৷ ক্রীড়া শিক্ষক ইমো ক্রেমস বলেন, ‘‘আমার মনোভাব হলো, শিশুদের বলে দাও যে তারা কোনোকিছু করতে বাধ্য নয়৷ নিজেদের ইচ্ছামতো চলতে পারে৷ সেটা তাদের মনে ধরে৷ সেই বোঝাপড়া অনুযায়ী অগ্রসর হই৷ খুব মজা হয়, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান দেখা যায়৷'' ইয়ান দিনে তিনবার জিমে যায়৷ নতুন এই জীবনে খেলাধুলা অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে৷ সে বলে, ‘‘এখন আমার আরও খেলাধুলার প্রয়োজন৷ আগেও খেলাধুলা ভালো লাগতো বটে, কিন্তু আমি বড় কুঁড়ে ছিলাম৷ স্কুলে সারাদিনের পরিশ্রমের পর খেলাধুলাকে বোকামি মনে হতো৷''

আম্রুম দ্বীপে ইয়ান-এর শেষ দিন৷ সে জানে, বাড়ি ফিরলে হাজারটা প্রলোভন অপেক্ষা করে রয়েছে৷ কিন্তু পুরানো অভ্যাস ত্যাগ করতে এখন সে অনেক বেশি প্রস্তুত৷ সে বলে, ‘‘সপ্তাহে শুধু এক দিন কঠিন পরিশ্রম করতে হয় না৷ ক্লান্তির কারণে সপ্তাহে কয়েক দিন কিছুই করা হচ্ছে না, এমনটা হতেই পারে৷ তখন আবার তা নিয়ন্ত্রণ করতে  হয়৷'' নতুন জীবনের সূচনা৷ ৪ সপ্তাহে ইয়ান শুধু ১০ কিলো ওজন কমায়নি, আত্মমর্যাদার এক নতুন বোধ সে গড়ে তুলেছে৷ তার লক্ষ্য কী? ‘‘অবশ্যই ৭০ কিলোয় ফিরে যেতে চাই৷ তখন স্বাভাবিক ওজন হবে৷ তখন পেশি আরও শক্তিশালী করতে পারি৷ আদর্শ সৌন্দর্যের পথে এগোতে পারি৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন