কপ ২৬: ক্ষমা চাইলেন বাইডেন | বিশ্ব | DW | 02.11.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জলবায়ু সম্মেলন

কপ ২৬: ক্ষমা চাইলেন বাইডেন

জলবায়ু সম্মেলনে দ্রুত পদক্ষেপের আবেদন ম্যার্কেলের। ডনাল্ড ট্রাম্প প্যারিস চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য ক্ষমা চাইলেন বাইডেন।

জমে উঠেছে গ্লাসগোর জলবায়ু সম্মেলন কপ ২৬। প্রথম দিনের বক্তৃতায় পরিবেশ নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে কথা বলতে বলতেই ক্ষমা চাইলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ডনাল্ড ট্রাম্পের হঠকারি সিদ্ধান্তের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদ থেকে দুঃখপ্রকাশ করেছেন তিনি।

২০১৫ সালে প্যারিসে জলবায়ু সম্মেলন হয়। সেই সম্মেলনে বেশ কিছু বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হয় সম্মেলনে যোগ দেওয়া দেশগুলি। কার্বন ফুটপ্রিন্ট, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি একাধিক বিষয়ে সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে আচমকাই সেই চুক্তি থেকে অ্যামেরিকাকে সরিয়ে নেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। জানিয়ে দেন, প্যারিস চুক্তি মেনে শিল্পোন্নয়ন করা সম্ভব নয়। অ্যামেরিকা ওই চুক্তি মানতে বাধ্য নয়। সোমবার গ্লাসগোর সম্মেলনে বক্তৃতা করার সময় ওই প্রসঙ্গটি তোলেন বাইডেন। বলেন, ''আমার ক্ষমা চাওয়ার কারণ নেই। তবু আমি ক্ষমা চাইছি। কারণ, অ্যামেরিকার সাবেক প্রশাসন প্যারিস চুক্তি থেকে নিজেদের বিযুক্ত করেছিল। হঠকারী সিদ্ধান্ত।'' এখানেই থেমে যাননি বাইডেন। তার বক্তব্য, অ্যামেরিকা ওই চুক্তিতে কেবল ফিরে আসছে না, জলবায়ু সংক্রান্ত বিষয়ে নিজেদের দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। অ্যামেরিকা সকলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তৈরি। জলবায়ু সংক্রান্ত বিষয়ে সহমত হওয়া ছাড়া কারও হাতে আর কোনো বিকল্প নেই।

ম্যার্কেলের অবস্থান

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিদায়ী জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল। এদিনের বক্তৃতায় ম্যার্কেল বলেছেন, ''২০১৫ সালের প্যারিস সম্মেলনে আমরা একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, তার অধিকাংশই খাতায় কলমে থেকে গেছে। বাস্তবে ঘটেনি। এবার আমাদের পরিকল্পনা রূপায়ন করতে হবে।'' ম্যার্কেলের বক্তব্য, গোটা বিশ্ব এই সম্মেলনের দিকে তাকিয়ে আছে। ফলে এই সম্মেলনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। তার কথায়, ''সম্মেলনের গোড়ায় নিজেদের সমস্যাগুলি স্পষ্ট হয়েছে। সম্মেলনের শেষে কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার।''

নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য

জলবায়ুপরিবর্তনের আঁচ এসে পড়ছে ভারতেও। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত বন্যায় জর্জরিত। মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে ভয়াবহ অবস্থা হিমালয়ের। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশ নিয়ে সচেতনতার কথা বলছেন দেশের বিজ্ঞানী এবং পরিবেশবিদেরা। এদিনের বক্তৃতায় মোদী বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বিকল্প শক্তির উৎপাদনের বিষয়ে নিজেদের তৈরি করে ফেলবে ভারত। আর ২০৭০ সালের মধ্যে ভারত সম্পূর্ণ কার্বন নিঃসরণ মুক্ত দেশে পরিণত হবে। চীন আগেই জানিয়েছিল, ২০৬০ সালের মধ্যে তারা কার্বনমুক্ত দেশে পরিণত হবে। অ্যামেরিকার লক্ষ্য ২০৫০।

পরিবেশবিদদের অনেকেরই বক্তব্য, ২০৭০ সালের যে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছেন মোদী, তা বাস্তবসম্মত নয়। তার আগেই কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমানো দরকার। নইলে পরিবেশ রক্ষা পাবে না। তবে পরিবেশবিদদের আরেক অংশের বক্তব্য, উন্নত দেশগুলি যখন ২০৫০, ২০৬০ সালের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে, তখন ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের ২০৭০ সালের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ সাহসী পদক্ষেপ।

বস্তুত, গ্লাসগোর বৈঠকে একটি সিদ্ধান্ত কার্যত নেওয়া হয়ে গেছে। চলতি শতাব্দীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি কোনোভাবেই এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হতে দেওয়া যাবে না। আর তা করতে হলে ২০৩০ সালের মধ্যে গোটা বিশ্বে কার্বন ফুটপ্রিন্টের পরিমাণ ব্যাপক হারে কমাতে হবে। ২০৭০ সালের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এ কাজ করা সম্ভব নয় বলেই তারা মনে করেন।

ম্যার্কেল বলেছেন, কার্বন নিঃসরণের উপর দাম ধার্য করা হোক। প্রতি ইউনিট কার্বন নিঃসরণের জন্য প্রতিটি দেশকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। জার্মানির আশা, এর ফলে দেশগুলি কার্বন নিঃসরণের ক্ষেত্রে সচেতন হবে।

পরিবেশবিদদের বক্তব্য

অ্যামাজনের জনজাতি গোষ্ঠী থেকে গ্লাসগোর জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন সাই সুরুই। ২৪ বছরের সুরুই বলেছেন, ''নদী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাখি হারিয়ে যাচ্ছে। গাছে আর আগের মতো ফুল ফুটছে না। পৃথিবী নিজের অসুবিধার কথা জানান দিচ্ছে। আমাদের এবার সচেতন হতে হবে এবং ব্যবস্থা নিতেই হবে। নইলে পৃথিবীকে বাঁচানো সম্ভব নয়।''

পরিবেশ অ্যাকটিভিস্ট গ্রেটা থুনবার্গ বলেছেন, বিশ্বের নেতারা কোনো ড্রিলে আসেননি। পৃথিবীকে বাঁচাতে, পৃথিবীর সমস্ত মানুষের স্বার্থে তাদের সিদ্ধান্তে পৌঁছাতেই হবে।

তবে গ্লাসগো সম্মেলন আদৌ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিবেশনে যোগ দেননি চীনের রাষ্ট্রপ্রধান শি জিন পিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন।

এসজি/জিএইচ (রয়টার্স, এপি, এএফপি)

সংশ্লিষ্ট বিষয়