কঠোর শরিয়া আইন চালু হলো ব্রুনাইতে | বিশ্ব | DW | 03.04.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্রুনাই

কঠোর শরিয়া আইন চালু হলো ব্রুনাইতে

ব্রুনাইয়ের শরিয়া আইনে সমকামিতার শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড চালু করা হলো বুধবার থেকে৷ আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র আপত্তি এবং জাতিসংঘ একে ‘নিষ্ঠুর ও অমানবিক' বললেও দেশটির সুলতান তাঁর অবস্থানে অনড়৷

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সুলতানি শাসনতন্ত্রের দেশ ব্রুনাইয়ের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি সেখানকার সুলতান হাসানাল বোলকিয়াহর আমলে এই আইনের কঠোর প্রয়োগ চালু হলো৷ পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম দেশ, যেটি সৌদি আরব ও ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মতো জাতীয় পর্যায়ে শরিয়া পেনাল কোড পুরোপুরিভাবে প্রয়োগ করা শুরু করেছে৷

সুলতানের ভাষণ

শবে মেরাজ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে ব্রুনাইয়ের সুলতান এই পেনাল কোডের কথা উল্লেখ করেননি৷ তবে ইসলামের কঠোর শিক্ষার কথা বলেছেন৷ ‘‘আমি চাই এদেশে ইসলামের শিক্ষা আরো শক্তিশালী হোক,'' রাজধানী বন্দর সেরি বেগাওয়ানে দেয়া এক বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন তিনি৷ ‘‘আমি জোর দিয়ে বলতে চাই যে ব্রুনাই দেশটি সবসময় আল্লাহর ইবাদতে নিজেদের উৎসর্গ করেছে,'' যোগ করেন সুলতান৷

প্রায় পাঁচ দশক ধরে ক্ষমতার শিখরে থাকা সুলতান আরো বলেন যে তাঁর দেশ একটি ‘ন্যায্য ও সুখী' দেশ৷

শাস্তির বিধান

এর আগে, ২০১৪ সালে ব্রুনাইতে শরিয়া পেনাল কোড চালু করেন সুলতান বোলকিয়াহ৷ তবে তা সীমাবদ্ধ ছিল জরিমানা কিংবা জেলের বিধান প্রয়োগের মাধ্যমে৷ ব্যভিচার বা শুক্রবারের জুম্মার নামাজে অংশ না নেয়ার জন্য জরিমানা ও জেলের বিধান চালু করা হয়৷

এ বিষয়ে ডয়চে ভেলেকে অস্ট্রেলিয়ার মানবাধিকার সংগঠন ‘দ্য ব্রুনাই প্রজেক্ট'-এর কর্মী ম্যাথু উল্ফে বলেন, ‘‘ব্রুনাইতে সমকামের শাস্তি ব্রিটিশ ঔপনেশিবেশিক আমল থেকে৷ সেখানে সমকামের শাস্তি ১০ বছরের জেল৷ তবে আমার জানা মতে, এই আইন কখনো প্রয়োগ করা হয়নি৷''

ভিডিও দেখুন 02:36

ইন্দোনেশিয়ার বান্দা আচেতে প্রেমের শাস্তি বেত্রাঘাত!

কিন্তু এখন শরিয়া পেনাল কোডের সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো ব্যভিচারী, সমকামী ও ধর্ষকদের বেত্রাঘাত ও পাথর ছুড়ে হত্যা, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনার কারণে প্রয়োগ করতে এতদিন দেরি করেছে ব্রুনাই সরকার৷

তেলসমৃদ্ধ ব্রুনাইতে ৪ লাখ ৩০ হাজার মানুষের বাস৷ এদের দুই-তৃতীয়াংশ মুসলিম জনগোষ্ঠী৷ নতুন পেনাল কোডে এমন আইনও আছে, যা মুসলিম ও মুসলিম নন, সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য৷

আতঙ্কে ব্রুনাইয়ের এলজিবিটিরা

বার্তা সংস্থা এএফপি'কে দেয়া সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩৩ বছর বয়সি ব্রুনাইয়ের এক বাসিন্দা বলেন, নতুন আইনগুলো ‘অন্যায্য, নিষ্ঠুর ও অগ্রহণযোগ্য'৷ ‘‘এই আইন আমার সুখ ও স্বাধীনতা কেড়ে নিল এবং আমাকে হতাশায় ডুবিয়ে দিল,'' এএফপি'কে বলেন তিনি৷

গত বছর ব্রুনাই থেকে ক্যানাডায় পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন জুলহেলমি বিন মোহামাদ৷ তিনি একজন ট্রান্সজেন্ডার নারী৷ এএফপি'কে তিনি বলেন যে, দেশটির এলজিবিটি সম্প্রদায় এমনিতেই গোপন জীবনযাপন করেন৷ তার ওপর এই আইনে তাঁরা এখন খুবই ভীত৷ ‘‘কেউ কেউ খুবই আতঙ্কিত এবং তাঁরা বিপরীতকামী নন, এমনটি প্রকাশ হবার আগেই দেশ থেকে পালিয়ে যেতে চান,'' বলেন ১৯ বছর বয়সি এই নারী৷

আন্তর্জাতিক মহলের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক মহল এই শাস্তির বিধান নিয়ে তীব্র শঙ্কা জানিয়েছে৷ জাতিসংঘ একে ‘নিষ্ঠুর ও অমানবিক' বলেছে৷ মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া ডিরেক্টর ফিল রবার্টসন বলেছেন, ‘‘এই শাস্তির বিধান ‘বর্বর ও প্রাচীন', এবং এটি এমন কিছু কাজের জন্য, যা অপরাধ নয়৷''

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে নতুন অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি সাজায় ‘নির্যাতনের মাত্রা, নিষ্ঠুরতা ও অমানবিকতা' নিয়ে তীব্র শঙ্কা প্রকাশ করেছে৷

এছাড়া বিখ্যাত অভিনেতা জর্জ ক্লুনি ও পপস্টার এলটন জনের মতো তারকারাও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে এর বিরুদ্ধে সবাইকে দাঁড়াবার আহ্বান জানিয়েছেন৷

মানবাধিকার কর্মী উল্ফে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমার মনে হয় না, ব্রুনাইয়ের জনগণ এই আইন চালুর ব্যাপারে কোনো চাপ দিয়েছে, এবং সরকারও এ ব্যাপারে জনগণের সঙ্গে আলোচনা করেনি৷ অবশ্যই সেখানে অনেক মানুষ এই আইন ও তার প্রয়োগ নিয়ে উৎকন্ঠায় আছেন৷ তাই কেন এই আইনের ব্যাপারে সরকার আগ্রহী হয়ে উঠল তা পরিষ্কার নয়৷''

জেডএ/জেডএইচ (এপি, এএফপি, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন