কঠিন সময়ে ত্যাগের ঈদ | বিষয় | DW | 01.08.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

কঠিন সময়ে ত্যাগের ঈদ

অর্থনীতি, প্রকৃতি আর স্বাস্থ্যগত সংকটের কঠিন এক সময়ে ঈদ উদযাপন করছেন বাংলাদেশের মানুষ৷ কোরবানির ত্যাগের শিক্ষা হোক এই পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুপ্রেরণা৷ 

করোনার কঠিন বাস্তবতায় রোযার ঈদপালন করেছেন বাংলাদেশের মানুষ৷ অর্থনৈতিক সংকটটা তখনও ততটা প্রকট হয়ে উঠেনি, যতটা হয়েছে এখন৷ শহর ছেড়ে কর্মহীন বহু মানুষ গ্রামে পাড়ি জমিয়েছেন৷ কিন্তু সেখানেও তারা ভালো নেই৷ মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে বন্যা৷

সবশেষ সরকারি হিসাবে দেশের প্রায় এক চতুর্থাংশ পানিতে তলিয়ে গেছে৷ ৪৭ লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন৷ মৃত্যু অর্ধশত পেরিয়েছে৷ এমন এক পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে মানুষ কোরবানির ঈদ পালন করছেন৷

আরবি ঈদুল আজহা শব্দের অর্থ কোরবানি বা ত্যাগের উৎসব৷ মুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, হযরত ইবরাহীম (আ.) সৃষ্টিকর্তার আদেশ পালনের উদ্দেশ্যে প্রাণপ্রিয় পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-কে তার সম্মতিতে কোরবানি করতে উদ্যত হন৷ কিন্তু আল্লাহ তার সংকল্পে সন্তুষ্ট হয়ে হযরত ইবরাহীম (আ.)-কে পুত্রের স্থলে একটি পশু কোরবানির আদেশ দেন৷ এরপর থেকে মুসলিমরা প্রতি বছর আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে প্রতিবছর পশু কোরবানি দিয়ে আসছেন৷

বাংলাদেশে কোরবানির ধর্মীয় মহিমার পাশাপাশি আছে অর্থনৈতিক গুরুত্বও৷ সরকারি হিসাবে এখন প্রতিবছর এক কোটির বেশি পশু কোরবানি হয়৷ কোরবানিকে কেন্দ্র করে সঞ্চালিত হয় গ্রামীণ অর্থনীতি৷ লেনদেন হয় কয়েক হাজার কোটি টাকা৷ আবার কোরবানির পশুর চামড়াকে কেন্দ্র করেই বাংলাদেশে ট্যানারি শিল্প বিকশিত হয়েছে৷ গড়ে উঠেছে চামড়াজাত পণ্য তৈরির কারখানা, যা কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা আয়েরও অন্যতম খাত৷

শঙ্কার বিষয় হলো, অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে এ বছর অনেকেই কোরবানি দিতে পারছেন না৷ আবার করোনা এবং বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ায় চামড়া শিল্প আগে থেকেই ধুঁকছে৷ ট্যানারিগুলোতেও তাই আগের মতো চামড়ার চাহিদা নেই৷ সব মিলিয়ে এই বছর কোরবানি যে অন্যবারের মতো অর্থনীতিকে চাঙা করবে না তা বলা বাহুল্য৷

তারপরও কোরবানিরত্যাগের শিক্ষা সংকটময় এই সময় পার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে৷ ইসলামের বিধান অনুযায়ী, কোরবানিকৃত পশুর তিন ভাগের একভাগই আত্মীয়-স্বজন আর দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে হয়৷ চামড়া থেকে বিক্রিত অর্থও শুধু গরিবরাই পাবে৷ ত্যাগের এই শিক্ষা এখন গুরুত্বপূর্ণ অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে৷ কাজ হারানো, দারিদ্র্যসীমার নীচে নেমে আসা মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার কর্তব্য হয়ে উঠেছে৷ উৎসবের মাঝে বন্যায় নিঃস্ব হওয়া মানুষগুলোকেও ভুলে গেলে চলবে না৷

কোরবানির ত্যাগের থেকে শিক্ষা নিক রাষ্ট্রও৷ সমাজে সুষম বণ্টন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সরকারেরও দায়িত্ব৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়