কক্সবাজার পুলিশকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ | বিশ্ব | DW | 25.09.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

কক্সবাজার পুলিশকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ

মেজর (অব.) সিনহা হত্যার জেরে কক্সবাজার জেলা পুলিশের আরো এক হাজার ৩০৯ জন কর্মকর্তা ও সদস্যকে একযোগে বদলি করা হয়েছে৷ আগে এসপিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়৷

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি বলেছেন, ‘‘আমরা নতুন করে শুরু করতে চাই৷ ভালো কিছু করতে চাই৷’’

এবার যাদের বদলি করা হলো তাদের মধ্যে আছেন এসআই, এএসআই এবং কনেস্টবল৷ এ পর্যন্ত মোট এক হাজার ৩৪০ জনকে বদলি করা হয়েছে বলে ডিআইজি জানিয়েছেন৷ এর মধ্যে রয়েছেন কক্সবাজারে পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ শীর্ষ ৮ কর্মকর্তা, ৮ থানার ওসিসহ ৩৪ পরিদর্শক, ১৫৮ জন এসআই, ৯২ জন এএসআই, ১০৫৫ জন নায়েক ও কনস্টেবল৷ তাদের সবাইকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের বাইরে বদলি করা হয়েছে৷

টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাস ও এসআই লিয়াকত সিনহা হত্যায় গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে আছেন৷

গত ১৬ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এবিএম মাসুদ হোসেনকে রাজশাহীর পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়৷ বুধবার কক্সবাজারে নতুন এসপি হিসেবে যোগ দিয়েছেন মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান৷ ২১ সেপ্টেম্বর বদলি করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপারসহ ৭ শীর্ষ কর্মকর্তাকে৷ আর বৃহস্পতিবার রাতে ৮ থানার ওসিসহ ৩৪ পরিদর্শককে বদলি করা হয়৷ ওই সব পদে নতুন কর্মর্তাদের কেউ কেউ যোগ দিয়েছেন৷ অন্যরা দুই-একদিনের মধ্যেই যোগ দেবেন৷

অডিও শুনুন 01:52

যারা নতুন যোগ দিচ্ছেন তাদের পেশাদারিত্ব ও সততার ওপর জোর দিচ্ছি: চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘‘কক্সবাজার পুলিশকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে৷ আমরা চাই এখানকার পুলিশ যাতে সুন্দরভাবে কাজ করে৷ আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে৷ অপরাধ প্রমাণ হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হকে৷ আইনের বাইরে যারা যাবেন, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে৷’’

‘‘যারা নতুন যোগ দিচ্ছেন তাদের পেশাদারিত্ব ও সততার ওপর আমরা জোর দিচ্ছি৷ আগে অনেকেই এখানে ঘুরে ঘুরে থাকতেন৷ আমরা তার প্রমাণও পেয়েছি,’’ জানান ডিআইজি৷

জানা গেছে, মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে৷ জিজ্ঞাসাবাদ শেষ৷ আসামিদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ এই পর্যায়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশে শুদ্ধি অভিযান চালানো হচ্ছে৷ পুলিশ সদর দপ্তর চাইছে পুরনো পুলিশ সদস্যদের কোনো ছায়াও যেন কক্সবাজারে না থাকে৷ বিশেষ করে টেকনাফের অনেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ‘ক্রসফয়ার বাণিজ্য’,  ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ আছে৷ সেই সব অভিযোগেরও তদন্ত হচ্ছে৷

অডিও শুনুন 01:44

তদন্তকারীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন: মেজর (অব.) সিনহার বোন শারমীন শাহরিয়ার ফেরদৌস

মেজর (অব.) সিনহা হত্যার তদন্ত:
৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে মেজর (অব.) সিনহাকে হত্যা করা হয়৷ এই হত্যা মামলাটির তদন্ত করছে র‌্যাব৷ র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের প্রধান লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, ‘‘এই মামলায় এ পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৷ তাদের মধ্যে ১২ জন স্বীকারেক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে৷ এখনো তদন্তের কাজ চলছে৷ আমরা আশা করি, যথাসময়ে চার্জশিট দিতে পারবো৷ এই মামলায় সব আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷’’ অবশ্য এই মামলার প্রধান আসামিদের একজন ওসি প্রদীপ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি৷

এদিকে মেজর (অব.) সিনহার বোন শারমীন শাহরিয়ার ফেরদৌস বলেন, ‘‘তদন্তকারীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন৷ তবে তদন্তের এই পর্যায়ে আমাদের খুব সন্তুষ্ট বা অসন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই৷ আমরা তখনই সন্তুষ্ট হবো, যখন সিনহা হত্যার বিচার পাব৷’’ কক্সবাজারের তখনকার এসপি এবিএম মাসুদ হোসেনকে আসামি করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আমরা আদালতে আবেদন করেছিলাম৷ আদালত আবেদন নথিভূক্ত করে বলেছেন এটা তদন্ত কর্মকর্তার এখতিয়ার৷ তিনি চাইলে আসামি করতে পারেন৷ আমরা তো আর তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করতে পারি না৷ তিনি কী করেন দেখি৷ তারপর তো আমাদের উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ আছে৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন