কক্সবাজারে খুন রোহিঙ্গা নেতা | বিশ্ব | DW | 30.09.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

কক্সবাজারে খুন রোহিঙ্গা নেতা

ক্যাম্পে ঢুকে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে খুন করল দুষ্কৃতীরা। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছিলেন তিনি।

বুধবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ কক্সবাজারের উখিয়ায় লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঢুকে পড়ে একদল দুষ্কৃতী। ক্যাম্পে ঢুকে তারা সোজা মুহিবুল্লাহর কাছে চলে যায়। সামনে থেকে তাকে গুলি করে হত্যা করে পালায় ওই দুর্বৃত্তরা। গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গা নেতাকে উদ্ধার করে কুতপালং এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। দুর্বৃত্তরা যখন ক্যাম্পে আসে, তখন ক্যাম্পের বাইরে আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়নের নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও দুষ্কৃতীদের ধরা যায়নি।

দীর্ঘদিন ধরেই রোহিঙ্গাদের নিয়ে আন্দোলন করছেন মুহিবুল্লাহ। কীভাবে তারা দেশে ফিরে যেতে পারেন, তা নিয়েও আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলোচনা করেছেন তিনি। আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে রোহিঙ্গা প্রতিনিধি হিসেবে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে দেখা করেছিলেন মুহিবুল্লাহ। আলোচনা করেছিলেন রোহিঙ্গাদের সমস্যা এবং তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে। এর আগে জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন।

মুহিবুল্লাহের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরে রোহিঙ্গা নেতাকে খুনের ষড়যন্ত্র চলছিল। একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাকে মারার চেষ্টা চালাচ্ছিল। তাকে খুনের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। ঘনিষ্ঠদের এ বিষয়ে জানিয়েছিলেন মুহিবুল্লাহ। ক্যাম্পের ভিতরেই একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয় বলে অভিযোগ ওই ব্যক্তিদের।

সংবাদমাধ্যমকে তারা জানিয়েছেন, বুধবার এশার নামাজের পর লম্বাশিয়ার শিবিরে এআরএসপিএইচের কার্যালয়ে বসে গল্প করছিলেন মুহিবুল্লাহ। সে সময়েই তার উপর হামলা চালায় আল-ইয়াকিন নামে রোহিঙ্গাদেরই একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। দুষ্কৃতীরা পাঁচটি গুলি চালায় মুহিবুল্লাহকে লক্ষ্য করে। তার বুকে তিনটি গুলি লাগে। এরপরই রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

৪৮ বছরের মুহিবুল্লাহকে স্থানীয় মানুষ মাস্টার মুহিবুল্লাহ বলে ডাকতেন। কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের বিশাল সমাবেশেরও আয়োজন করেছিলেন তিনি। কীভাবে দেশে ফেরা যায়, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব তিনি। তারই জেরে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি তার উপর ক্ষুব্ধ হয়েছিল বলে মুহিবুল্লাহর ঘনিষ্ঠদের অনুমান।

এসজি/জিএইচ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, প্রথম আলো)

সংশ্লিষ্ট বিষয়