কক্সবাজারের বেলাভূমিতে ঢেউ ভাঙার খেলা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 18.06.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

কক্সবাজারের বেলাভূমিতে ঢেউ ভাঙার খেলা

১৯৯৫ সালে জাফরের বয়স ছিল মাত্র আট বছর৷ সে বয়সেই কক্সবাজার সমুদ্রতটে ঘুরে বেড়াত সে৷ একদিন হঠাৎই তার চোখে পড়লো সমুদ্রের ঢেউয়ের উপর দাঁড়িয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এক বিদেশি৷ বিস্মিত জাফর সেই বিদেশির কাছ থেকে কিনে নিলেন একটি বোর্ড৷

default

জাফর তখনো জানতেন না, এটিকে বলে সার্ফিং৷ সোজা বাংলায়, ‘একটি সরু ফলকের উপর দাঁড়িয়ে তরঙ্গবাহিত হতে হতে ভারসাম্য রাখার খেলা'৷ এই খেলা বাংলাদেশে প্রায় অজ্ঞাতই ছিল৷ এবং এখনও বস্তুত নেই৷ তবে উন্নত বিশ্বের সমুদ্র সৈকতে ঢেউয়ের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর এই খেলা বেশ জনপ্রিয়৷ তাই জাফর চায় সার্ফিংকে বাংলাদেশেও জনপ্রিয় করতে৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি বিদেশে দেখেছি, সার্ফিং এর চর্চা একজন শুরু করে৷ তারপর তা ছড়িয়ে যায় হাজার হাজার মানুষের মধ্যে৷ এভাবে, আমি আমার দেশেও এভাবে শুরু করতে যাচ্ছি৷''

বিদেশে জাফর

ইতিমধ্যে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে সার্ফিং করতে কয়েকটি দেশ ঘুরেও এসেছেন জাফর আলম৷ গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপে সার্ফিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তিনি৷

Surfen in Bangladesch Flash-Galerie

কক্সবাজারে বিদেশী সার্ফার

১৩০ দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে তাঁর অবস্থান ছিল ষষ্ঠ৷ ভাবা যায়, কোন ভালো প্রশিক্ষণ ছাড়াই এমন অর্জন! কেউ কেউ বলতে পারেন, জাফর তো ইন্দোনেশিয়ায় স্বল্পমেয়াদে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন৷ কিন্তু সেটা কি এমন অর্জনের জন্য যথেষ্ট?

সার্ফিং এর জন্য উপযুক্ত কক্সবাজার

জাফরের মতে, বাংলাদেশের সমুদ্রসৈকত মানে কক্সবাজার নাকি নবীন বা নারী সার্ফারদের জন্য খুবই উপযোগী৷ আর তাই তাঁর চর্চাটা ভালোই হয় সেখানে৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত হচ্ছে বালি সমুদ্র সৈকত৷ এটি নতুন এবং মেয়েদের জন্য খুবই উপযোগী সার্ফিং এর জায়গা৷ এই সৈকতে ঢেউয়ের সঙ্গে মিস টাইমিং হলেও আঘাত পাবার ভয় নেই৷''

বাংলাদেশ সার্ফিং ক্লাব

অন্যদেরকে এই খেলায় উৎসাহিত করতে, জাফর কক্সবাজারে প্রতিষ্ঠা করেছেন বাংলাদেশ সার্ফিং ক্লাব৷ নিজস্ব উদ্যোগে তৈরি এই ক্লাবে তিনি শিশু-কিশোরদের সার্ফিং শেখান৷

Surfen in Bangladesch Flash-Galerie

ঢেউ ভাঙছেন জাফর

আর এই শেখানো একেবারে বিনা খরচায়৷ তিনি বলেন, ‘‘এখন আমার ক্লাবের সত্তর জন সদস্য রয়েছে৷ এর মধ্যে মেয়ে আছে ৩৫ জন৷''

৩৫ জন মেয়ে সার্ফার!

মনে খানিকটা খটকা লাগলো৷ ৩৫ জন মেয়ে সার্ফার! সত্যিই কি বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামোতে সেটা সম্ভব৷ উত্তরটা দিলেন জাফর নিজেই, ‘‘এখন যেহেতু বাংলাদেশের মানুষ সার্ফিং চেনে না৷ পরিবারগুলো সার্ফিং এর গুরুত্ব বোঝে না৷ একারণে তারা মেয়েদেরকে সার্ফিং করতে বাধা দেয়৷''

তবে জাফরের আশা এই অবস্থা থাকবে না৷ একদিন বাংলাদেশের মেয়েরাও সার্ফিংয়ে এগিয়ে যাবে বহুদূর৷

Surfen in Bangladesch Flash-Galerie

সার্ফিং ক্লাবের এক সদস্য

চাই অর্থ সহায়তা

জাফর চান, বাংলাদেশে আরো অনেক সার্ফার তৈরি করতে৷ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে আন্তর্জাতিক সার্ফিং জোন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে৷ আর সেটা সম্ভব হলে, এই খেলা দিয়েই অনেক বিদেশী পর্যটককে কক্সবাজারে আনা যাবে৷ সম্ভব দেশের পর্যটন খাতে গতি আনা৷ কিন্তু সমস্যা একটাই৷ সার্ফিংকে ছড়িয়ে দিতে জাফরের প্রয়োজন আর্থিক সহায়তা৷ তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের মধ্যে কেউ আমাদের সহায়তা করে না৷ অথচ আমাদের সাহায্য দরকার৷ বিশেষ করে সরকারের কাছ থেকে আমাদের সাহায্য প্রয়োজন৷''

হতাশ নন জাফর

অর্থ সহায়তা না থাকলেও হতাশ নন জাফর৷ বর্তমানে বিদেশী একটি সংস্থার কাছ থেকে সার্ফিং বাবদ মাসে ৩০ মার্কিন ডলার পান তিনি৷ এছাড়া কাজ করছেন, সার্ফিং লাইফ গার্ড হিসেবে৷ সমুদ্র থেকে উদ্ধারও করেছেন সত্তর জনের মতো মানুষকে৷ তবে এসবের চেয়ে এখন শুধু সার্ফিংয়েই বেশি মনোযোগ দিতে চান তিনি৷ চান, বাংলাদেশে সার্ফিং এর প্রচার বাড়ুক৷ বাড়ুক মানুষের আগ্রহ৷

প্রতিবেদন: আরাফাতুল ইসলাম

সম্পাদনা: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন