কওমি আলেমরা চান না ভাস্কর্য হোক, চাঙ্গা হচ্ছে হেফাজতের মামলা | বিশ্ব | DW | 05.12.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

কওমি আলেমরা চান না ভাস্কর্য হোক, চাঙ্গা হচ্ছে হেফাজতের মামলা

ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের একদল আলেম৷ শনিবার দেশের কওমি মাদ্রাসাপন্থি এই আলেমরা ঢাকায় বৈঠক শেষে এ বিবৃতি দেন৷ পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য ১১ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে৷

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

ভাস্কর্য ইস্যুতে দেশের চলমান অস্থিরতা ও সংকট নিরসনে শনিবার দেশের ৯০ জন আলেম ঢাকার যাত্রাবাড়ি মাদ্রাসায় করণীয় ঠিক করতে বৈঠকে বসেছিলেন৷ এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড- বেফাকের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল্লামা মাহমূদুল হাসান৷ সেখানে সর্বসম্মত ৫ দফা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে৷ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে প্রধান হল, মানবমূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মাণ ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ৷ তারা বলেন, এটা শরীয়া সম্মত নয়৷

এছাড়া ইসলামের নবীর বিরুদ্ধে অবমাননা, ব্যাঙ্গাত্মক ও বিষদগারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়৷ এখন পর্যন্ত ইসলামপন্থি নানা আন্দোলনে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে৷ আলেমগণ ওয়াজ মাহফিলে লাউড স্পিকার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেন৷ এছাড়া আলেমদের বিরুদ্ধে বিনা কারণে বিষোদগার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়৷

সরকারকেই ভাঙতে হবে!

বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এই বৈঠকে দেশের শীর্ষ ১০০ জন আলেমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল৷ ৯০ জন উপস্থিত ছিলেন৷ চলমান অস্থিরতা ও সংকট নিরসনে এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল৷''

অডিও শুনুন 04:56

আমরা মূর্তি (ভাস্কর্য) ভাঙব না: জাকারিয়া

ভাস্কর্য ইস্যুতে হেফাজতের নতুন কোন কর্মসূচি আছে কি-না বা সরকার তাদের কথা না শুনলে হেফাজত কী করবে? জানতে চাইলে মাওলানা ফয়েজী বলেন, ‘‘শীর্ষ নেতারা এগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন৷ তবে আমরা মূর্তি (ভাস্কর্য) ভাঙব না৷ সরকার নির্মাণ করলে সেটা সরকারকেই ভাঙতে হবে৷''

তবে ভাস্কর্য নিয়ে হেফাজতের এই অবস্থানের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে সরকারী দল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন৷ তারা হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ বিভিন্ন ধরনের দাবি করেছে৷ এই আন্দোলন ও পাল্টা আন্দোলনের মধ্যে কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে রাতের আঁধারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্যের কিছু অংশ ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা৷ শুক্রবার রাতের কোন এক সময় নির্মাণাধীন এ ভাস্কর্যের মুখ ও হাতের অংশে ভাঙচুর করা হয়৷ 

এক সপ্তাহেই সমাধান?

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শনিবার এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘‘বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী দেখভাল করছেন৷''

একই দিন জামালপুরে এক অনুষ্ঠানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বলেছেন, ‘‘এক সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টির সুরাহা হয়ে যাবে৷''

তবে বিষয়টি সাধারণভাবে না দেখতে বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘এরা নারী শিক্ষার বিরোধী৷ এদের চরিত্র সবাই জানে৷ এদের কোনভাবে ছাড় দেওয়া ঠিক হবে না৷ প্রশাসনের উচিৎ সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা৷ ভাস্কর্য ইতিহাসের অংশ৷ এরা ইতিহাস মুছে ফেলতে চায়৷ এরা পারলে মুক্তিযুদ্ধকেও মুছে ফেলতে চায়৷''

অডিও শুনুন 03:30

এদের ছাড় দেওয়া ঠিক হবে না: আরেফিন

অন্যদিকে শক্তি ব্যবহার নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘আমি ভাস্কর্যের পক্ষে৷ তবে সরকারি শক্তি ব্যবহার করে তাদের দমন করার চেয়ে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হলেই ভালো৷ আসলে সবকিছুর জন্য গণতন্ত্র দরকার৷ আমাদের এখানে তো গণতন্ত্র নেই৷ ফলে এসব কথা বলে লাভ কি? কে শুনবে আমাদের কথা?''

সচল হচ্ছে ২০১৩ সালের মামলা

এদিকে হেফাজতের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানেই যাচ্ছে সরকার৷ নতুন করে সচল হচ্ছে হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে করা ১২টি মামলা৷ দীর্ঘ সাত বছর ঐ মামলাগুলো ঘুমিয়ে ছিল৷ হেফাজতের বর্তমান আমীর জুনায়েদ বাবুনগরীসহ অনেক হেফাজত নেতা এই মামলার আসামী৷ ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালায় হেফাজত৷ তারা দোকানপাটে আগুন লাগিয়ে দেয়, ভাঙচুর করে সরকারি বেসরকারি গণপরিবহন, বহু মানুষকে নির্মমভাবে পেটায়৷ হেফাজতের তাণ্ডবে ১৪ জন মারা যায়৷ নারকীয় এই তাণ্ডবের পর হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে এক ডজন মামলা হয়৷ এর মধ্যে পুলিশের করা ৫ মামলা ছাড়াও আক্রান্ত এবং ক্ষতিগ্রস্থরা করেন বাকী ৭ মামলা৷ সরকারকে উৎখাতের হুমকি দেওয়ায় বাবুনগরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলাও হয়৷ ওই মামলায় তিনি গ্রেফতারও হন৷ কিন্তু আল্লামা শফীসহ হেফাজতের সঙ্গে সরকারের সুসম্পর্ক হওয়ার পর মামলাগুলো ঘুমিয়ে পড়ে৷

হেফাজতের মামলা সচল করার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার ওয়ালিদ হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মামলা কখনও ঘুমিয়ে পড়ে না৷ কোন মামলার তদন্ত করতে বেশি সময় লাগে, কোন মামলা তদন্ত দ্রুত শেষ হয়ে যায়৷ মামলা সবসময় চলমান৷ অনেক সময় আসামী গ্রেফতার বা সবকিছু গুছিয়ে চার্জশিট দিতে একটু বিলম্ব হয়৷ বিদ্যমান মামলাগুলোও তদন্ত চলছে৷ সময় হলেই চার্জশিট দেওয়া হবে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন