ওয়েব সিরিজ নিয়ে এত বিতর্ক কেন? | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 27.06.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ওয়েব সিরিজ নিয়ে এত বিতর্ক কেন?

কেউ বলছেন, ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে অশ্লীলতাকে উস্কে দেওয়া হচ্ছে? কেউ বলছেন, নির্মাতাকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে? এই বিতর্কে দেশের শিল্পী ও নির্মাতারা ভাগ হয়ে গেছেন৷

বাংলাদেশে আলোচিত ওয়েব সিরিজ ‘আগস্ট ১৪’ -এর নির্মাতা শিহাব শাহীন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘২১৭ মিনিটের সিরিজটাতে শুধুমাত্র একটি চরিত্রের (পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ে) কিছু ডায়লগ ব্যবহার করা হয়েছে যেটা নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করছেন৷ অথচ যে শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো আগেও বহু সিরিয়ালে ব্যবহৃত হয়েছে৷ এগুলো নতুন কোন শব্দ না৷’’ তাহলে কেন বিতর্ক হচ্ছে? জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আমিও বুঝতে পারছি না৷ দেশের বাইরের ওয়েব সিরিজ নিয়ে তো এতদিন কথা হয়নি? এখন যখন দেশে এগুলো নির্মাণ শুরু হয়েছে, তখনই কেউ কেউ এর সমালোচনা করছেন৷ কেউ অশ্লীল বলছেন? আসলে অশ্লীলতার সংজ্ঞা কী?’’

তবে ওয়েব সিরিজ নিয়ে বিতর্ক যে সহসাই শেষ হচ্ছে না সেটা মোটামুটি পরিস্কার৷ গত বৃহস্পতিবার তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবিকে শোকজ করা হয়েছে৷ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের প্ল্যাটফর্ম ও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এই ওয়েব সিরিজ আপলোড করা হয়েছে৷ আগামী সাত দিনের মধ্যে তাদের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে৷

অডিও শুনুন 04:01

‘সমাজ সংস্কৃতির সঙ্গে কতটা মানানসই সেটা দেখতে হবে’

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘‘আপনার প্ল্যাটফর্ম এবং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সম্প্রতি ওয়েব সিরিজের নামে সেন্সরবিহীন নগ্ন, অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ দৃশ্য, কাহিনী ও সংলাপ সংবলিত ভিডিও কন্টেন্ট ওয়েবে আপলোড করে প্রচার করা হয়েছে, বিষয়টি সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে৷ দেশের গণমাধ্যম অত্যন্ত নেতিবাচকভাবে এটা প্রচার করেছে এবং সমাজে এর ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে৷ এ ধরনের ভিডিও কন্টেন্ট আপনার প্ল্যাটফর্ম এবং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ওয়েবে আপলোড এবং প্রচার করার জন্য আপনার প্রতিষ্ঠানের কোনো রেজিস্ট্রেশন বা লাইসেন্স আছে কি-না? থাকলে তা কি, তা সরকারের জানা প্রয়োজন৷’’

মোবাইল অপারেটর রবির হেড অব করপোরেট ও রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা এখনও তথ্য মন্ত্রণালয়ের কোন চিঠি পাইনি৷ তবে মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা বিষয়টা জানতে পেরেছি৷ আসলে দেখেন, আমরা তাদের ইন্টারনেট সাপোর্ট দিয়েছি৷ এখানে যে কনটেন্ট তৈরি হয়েছে সেটা আমরা দেখি না৷ আর আমরা তো সেন্সরবোর্ড না, যে তাদের এগুলো সেন্সর করে আপলোড করবো৷ এখন শালীনতা-অশ্লীলতা এগুলো তো একেক জনের কাছে একেক রকম৷ কারো কাছে যেটা শালীন, অনেকের কাছেই সেটা অশ্লীল৷ এখন যে কনটেন্টগুলো নিয়ে কথা হচ্ছে সেগুলোর দায় যে মিডিয়া হাউজ তৈরি করেছে তাদের৷ এখন সরকার যদি আমাদের বলে সেন্সর না হওয়া পর্যন্ত এগুলো আপলোড করা যাবে না, আমরা করব না৷’’

তবে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘বিদ্যমান আইন অনুযায়ি অপারেটরদেরও দায় রয়েছে৷ আমাদের সমাজ-সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর এমন কিছু তারা আপলোড করতে পারেন না৷ আমাদের টেলিভিশনগুলোতে যে বিদেশি সিরিয়াল চালানো হয়, এতদিন এগুলো কেউ দেখত না৷ আমি মন্ত্রী হওয়ার পর একটা কমিটি করেছি, কোন টিভি চ্যানেল যদি বিদেশি কোন সিরিয়াল চালাতে চায় তাহলে ওই কমিটির কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে৷ একইভাবে ওয়েব সিরিজের ধারণাটা নতুন৷ এখানে কোন ধরনের সেন্সর ছাড়াই আপলোড করা হচ্ছে৷ সেটা আমাদের সমাজ সংস্কৃতির সঙ্গে কতটা মানানসই সেটা দেখতে হবে৷ এই কারণেই আমরা দু’টি মোবাইল অপারেটরকে শোকজ করেছি, তারা জবাব দিক৷ এরপর আমরা নতুনভাবে চিন্তাভাবনা করব৷’’

বিশ্বের নানা দেশের মতো বাংলাদেশেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ওয়েব সিরিজ৷ এতদিন বিদেশি সিরিজ দেখানো হলেও সম্প্রতি দেশেই কিছু ওয়েব সিরিজ তৈরি হয়েছে৷ ‘বিঞ্জ’ প্লাটফর্মে প্রকাশিত ওয়েব সিরিজ ‘বুমেরাং', ‘আগস্ট ১৪' ও ‘সদরঘাটের টাইগার' সামনে আসার পর অনেকেই শালীনতা-অশ্লীলতার প্রশ্ন তুলছেন৷ সম্প্রতি এসব ওয়েব সিরিজের কনটেন্ট নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে শিল্পী ও নির্মাতারাও দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন৷ একপক্ষ ওয়েব সিরিজের পক্ষে বিবৃতি দেন৷ অন্যপক্ষ বলছে, এটা আমাদের সংস্কৃতির বিরুদ্ধ৷

গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে পরিচালক মালেক আফসারী, অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস, অভিনেতা আহসানুল হক মিনু, গাজী রাকায়েতসহ ৯১ জন নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী বলছেন, তারা ওয়েব কনটেন্টের পক্ষে, কিন্তু অশ্লীলতার বিপক্ষে৷ এর আগে গত ১৯ জুন ওয়েব সিরিজের পক্ষে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে বিবৃতি দেন মোরশেদুল ইসলাম, অমিতাভ রেজা চৌধুরী, অনিমেষ আইচসহ তরুণ প্রজন্মের ১১৭ জন নির্মাতা৷ সৈয়দ হাসান ইমাম, মামুনুর রশীদ, আফজাল হোসেন, আলী যাকের, আসাদুজ্জামান নূর, মাসুম রেজাসহ ৮০ ব্যক্তিত্ব ওয়েব প্লাটফর্মে ‘কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট' পরিবেশনের অভিযোগ করে বিবৃতিও দিয়েছেন৷

অডিও শুনুন 03:42

‘কেন এত বিতর্ক হচ্ছে আমি বুঝতে পারছি না’

নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এটা নিয়ে কেন এত বিতর্ক হচ্ছে আমি বুঝতে পারছি না৷ কী নির্মাণ করবেন সেটা নির্মাতার স্বাধীনতা৷ আমার ভালো না লাগলে আমি বলতে পারি, ভালো হয়নি৷ কিন্তু এটা নিয়ে শিল্পী-নির্মাতাদের আওয়ামী লীগ-বিএনপির মতো দুই ভাগ হয়ে যাওয়াকে আমি কোনোভাবে সমর্থন করি না৷ আমরাতো অনেকদিন ধরেই সেন্সরের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি৷ আপনিতো বিধিনিষেধ দিয়ে এই ধরনের কাজকে আটকাতে পারেন না৷ কারো কাজ যদি ভালো না হয়, তাহলে দর্শকরা সেটা দেখবে না৷''

তবে অমিতাভ রেজা চৌধুরীর মতো এভাবে বিষয়টি দেখতে রাজি নন অভিনেতা গাজী রাকায়েত৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের দারুণ একটা সংস্কৃতি আছে৷ এটাকে আমরা ধ্বংস হতে দিতে পারি না৷ ওয়েব সিরিজে এখন বাইরের জগতে অনেক কিছুই হচ্ছে৷ সেটা যদি আপনার ঘরের মধ্যে চলে আসে তাহলে তো বিপদ৷ তাই আমি মনে করি, আমাদের এমন কিছু নির্মাণ করা ঠিক হবে না, যেটা আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না৷ এখন অনেক নির্মাণে প্রয়োজন না হলেও বেডরুমের একটা দৃশ্য ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে৷ আসলে বেডরুমে স্বামী-স্ত্রী কী করছেন? ওই দৃশ্য হয়তো সেখানে প্রয়োজনই নেই৷ এমনভাবে অনেক কাজ হচ্ছে, যা নিয়ে আমার মনে হয় চিন্তা করার সময় এসেছে৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন