ওয়াশিংটন ‘পিঠে ছুরি মারায়′ ফ্রান্সে ক্ষোভ | বিষয় | DW | 17.09.2021

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

ওয়াশিংটন ‘পিঠে ছুরি মারায়' ফ্রান্সে ক্ষোভ

চীনের আগ্রাসী মনোভাবের মুখে অস্ট্রেলিয়াকে নিউক্লিয়ার সাবমেরিন সরবরাহ করতে ফ্রান্স এগিয়ে এলেও শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও লন্ডন সেই বরাত পেয়েছে৷ ফলে ফ্রান্স তথা ইউরোপীয় ইউনিয়নে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে৷

আন্তর্জাতিক স্তরে মনোমালিন্য কীভাবে কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে৷ গোটা সমস্যার মূলে রয়েছে একটি পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন৷ চীনের বেড়ে চলা আগ্রাসী মনোভাবের মুখে আত্মরক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়াকে এমন রক্ষাকবচ বিক্রি করার কথা ছিল ফ্রান্সের৷ ২০১৬ সালেই এই মর্মে বোঝাপড়া হয়েছিল৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন ‘ছলে-বলে-কৌশলে' সেই সুযোগ ছিনিয়ে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে সেই সাবমেরিন বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠছে৷ বুধবার এই তিন দেশ মিলে নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগীতার অঙ্গীকার করেছে৷

এই আঁতাতের ফলে আলোচনায়অগ্রগতি সত্ত্বেও চার কোটি ডলার মূল্যের নিউক্লিয়ার সাবমেরিনের বরাত ফ্রান্সের হাতছাড়া হয়ে গেল৷ বলা বাহুল্য, ফ্রান্স তথা গোটা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ওয়াশিংটনের এমন আচরণে বিরক্তি ও ক্ষোভ অনুভব করছে৷ ফ্রান্স এমন সিদ্ধান্তকে পিঠে ছুরি মারার সঙ্গে তুলনা করেছে৷ ইইউ এ ক্ষেত্রেও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে শলা-পরামর্শের উদ্যোগের অভাব বোধ করছে৷ বাইডেনও প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ‘অ্যামেরিকা ফার্স্ট' নীতি আঁকড়ে ধরে রয়েছেন বলে অনেকে অভিযোগ করছে৷

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার পরেও অ্যালান্টিকের দুই প্রান্তের মধ্যে ক্ষতবিক্ষত সম্পর্ক কিছুতেই পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারছে না৷ ইউরোপীয় সহযোগীদের সঙ্গে শলা-পরামর্শ ছাড়াই বাইডেন প্রশাসন যেভাবে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে ইউরোপের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করেছিল, বার্লিন, ব্রাসেলস বা প্যারিসে সেটা ভালো চোখে দেখা হয়নি৷

এবার সাবমেরিন সরবরাহের বরাত ‘ছিনিয়ে' নিয়ে ওয়াশিংটন আবার বিরক্তি সৃষ্টি করলো৷ উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারই ইইউ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্র জোরদার করার নতুন কৌশল ঘোষণা করেছে৷

পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন ফ্রান্সকে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অ্যামেরিকার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে বর্ণনা করেছেন৷ ওয়াশিংটনে  অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর ব্লিংকেন বলেন, অ্যামেরিকা ফ্রান্সকে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও ইউরোপের সঙ্গে সহযোগিতার যাবতীয় সুযোগ কাজে লাগাতে চায়৷ সে ক্ষেত্রে ফ্রান্সের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ৷ সাবমেরিন বিক্রির বিষয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন৷ তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফ্রান্সের এক কর্মকর্তার অভিযোগ, সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টের ভিত্তিতে সে দেশ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে জানতে পেরেছিল৷

অস্ট্রেলিয়াকে আদৌ পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন সরবরাহের সিদ্ধান্তের জের ধরে চীনও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে৷ সে দেশের অভিযোগ, অ্যামেরিকা, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়া আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার মারাত্মক ক্ষতি করছে৷ হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জেন সাকি বলেন, মার্কিন প্রশাসন মোটেই চীনের সঙ্গে সংঘাত চায় না৷ এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা রক্ষাই ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য৷ অ্যামেরিকা থেকে সাবমেরিন প্রযুক্তি গ্রহণের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি অস্ট্রেলিয়ার ছিল বলেও সাকি মনে করিয়ে দেন৷

এসবি/এসিবি (রয়টার্স, এপি)

সংশ্লিষ্ট বিষয়