ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংঘাতের পথে ইউরোপ | বিশ্ব | DW | 18.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ইরান

ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংঘাতের পথে ইউরোপ

ইরানের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপ সামলাতে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলির সহায়তার উদ্যোগ নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷ অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জোট গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে৷

ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি বাতিল করার ফলে সে দেশের সঙ্গে ইউরোপের সংঘাতের আশঙ্কা বেড়ে চলেছে৷ অ্যামেরিকার নিষেধাজ্ঞার ভয়ে ইউরোপের অনেক কোম্পানি এখনই ইরান থেকে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলার তোড়জোড় করছে৷ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ অবশ্য বিষয়টি নিয়ে অ্যামেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের কোনো আশঙ্কা দেখছেন না৷ তাঁর মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপের কোম্পানিগুলিকে ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনলেও মার্কিন কোম্পানিগুলির বিরুদ্ধে ইউরোপের পালটা পদক্ষেপ নেবার কোনো অর্থ হয় না৷ উল্লেখ্য, বর্তমান অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের টোটাল কোম্পানি ইরানে এক গ্যাস প্রকল্প থেকে প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছে৷

বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন শীর্ষ সম্মেলনে ইরান চুক্তির প্রশ্নে জোরালো ঐক্য দেখা গেছে৷ এমনকি প্রয়োজনে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতের পথে যেতেও প্রস্তুত ইউরোপীয় নেতারা৷ ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার পালটা জবাব হিসেবে ইউরোপ বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ বিবেচনা করছে৷ যেমন ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা মানলে ইইউ-ভিত্তিক কোম্পানিগুলির উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে৷

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ ক্লোদ ইয়ুংকার জানিয়েছেন, শুক্রবারই ‘ব্লকিং স্ট্যাটিউট' নামের আইন চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে৷ উল্লেখ্য, এখনো পর্যন্ত এই আইন প্রয়োগ করা হয়নি৷ তাই এই পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে অনেক মহলে সংশয় রয়েছে৷ বিশেষ করে গোটা বিশ্বে বাণিজ্যিক ও আর্থিক ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের আলোকে ইউরোপের কোনো একক পদক্ষেপ ইউরোপীয় কোম্পানিগুলির জন্য কতটা সহায়ক হবে, তা স্পষ্ট নয়৷ ফলে তারা মার্কিন চাপের মুখে আন্তর্জাতিক স্তরে নানা বাধার মুখোমুখি হতে পারে৷

ইরান চুক্তি বাতিল করে একঘরে হয়ে পড়লেও মার্কিন প্রশাসন তেহরানের সরকার ও ‘স্থিতিশীলতা বিপন্ন করতে তাদের কার্যকলাপ'-এর বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী এক জোট গঠন করতে চায়৷ মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এই উদ্যোগের রূপরেখা তুলে ধরবেন৷ নতুন এই উদ্যোগের মূলমন্ত্র হলো, ইরানের সরকার শুধু আঞ্চলিক স্তরে নয়, গোটা বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে – এই বাস্তব সবার কাছে স্পষ্ট করে দেওয়া হবে৷ মার্কিন প্রশাসন ইরানের সরকারের বিরোধিতা করলেও সে দেশের জনগণের পাশে রয়েছে৷ ২০১৪ সালে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রায় ৭৫টি দেশের যে জোট সৃষ্টি করা হয়েছিল, সেই আদলে ইরানের বর্তমান সরকার-বিরোধী জোট সৃষ্টি করতে চায় ওয়াশিংটন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন